Hasnat Abdul Hye apologizes for "Girl in front of the TV camera" story.

Hasnat Abdul Hye apologizes for “Girl in front of the TV camera” story.

The Writer in Front of Shahbag
By Faruk Wasif. Translated by Tibra Ali for AlalODulal.org.

Hasnat Abdul Hye has proved that deep down he too is a lecherous and misogynist writer Rosu Khan. Through the murder of Rabbi bhai’s teenager son Towki we witnessed the brutal suppression of the innocence of our time. Hasnat Abdul Hye’s short story is then the rape of the innocence of the Shahbag movement. The assassin’s knife and the writer’s pen are united against revolutionary innocence. Instead of bringing back ambrosia from the depths he drew disgusting poison. He then proceeded to smear it onto himself, and the rest of us.

Where did he get the story? From Amar Desh-Noya Digonto-Basher Kella. He has merely published under his own name a story about Shahbag that he has pilfered from them. Shahbag has transformed many people. By helping them overcome their timidity, weaknesses and alienation, many found there a human-pilgrimage. We saw there the eruption of the repressed revolt and emotions of our collective unconsciousness. But Shahbag was also responsible for another kind of change. The repressed evils of many a complex schemers also exposed themselves against Shahbag. Opposite the human-pilgrimage they found the demon’s lair. This act of self-expression by Hasnat Abdul Hye is not that of art but of evil.  He has added bureaucratic hubris, warped taste and dishonest intentions to his already deep-seated hatred of the needy, the Leftwing and women. I used to think he was a middle-of-the-road kind of guy, but I never suspected him of being so hateful of Shahbag. This wrong is something he committed intentionally, he is guilty of intent.

Members of the civil society like him and members of the uncivil political society, will they ever understand why a dramatist like Shanto dies after chanting slogans continuously? Why someone like Lucky Akhtar falls ill with jaundice after dedicating her life to Shahbag! Why the Rumi Squad put themselves through agony in order to salvage the ideal? They will never know how many lost their lives, lost their jobs, lost their relationships, put their lives at risk or got locked up. And how many have been victims of misapprehension. More powerful than Shahbag’s politics was its humanity. Nothing of these human stories appealed to you. What appealed to you was a political betrayal.

How will they know the life struggles of the boys and girls who come from the smaller cities. The ones who do not become hired thugs, or don’t want any hand-outs, and in whose hearts and heads bubble a new vision of time, it is they who are the foot-soldiers of history. They fuel the engines of history by burning their own lives. I have seen them in Shahbag. None of this was spotted through eyes glazed over with the cataract of lies!

It is always the youths from the common lower middle-classes who risk themselves by being in the forefront of every revolution. Those girls and young women of Shahbag, not only did they stand up like any other human being, they had become leaders. In a patriarchal society for a woman to emerge as a ‘leader’ outside her husband or her father’s identity is a task more difficult than climbing the Everest. Hasnat Abdul Hye, you ought to take lessons from these women.

Hefazat has demanded for the punishment of these boys and girls. All you’ve managed is to write a Hefazat story. You have given a fictionalized account of demands number 4 and 5 of Hefazat’s thirteen point demand. It says: “To stop the encroachment of all foreign cultural practices like licentiousness, adultery, fornication, open and free mixing of the sexes, lighting of candles etc. in the name of personal freedom and freedom of expression.” Your view on women is the same as Hefazat’s women’s policy. What you see in women are merely your own wretchedness and poverty. In the Autumn of your life this is your self-mockery.

By publishing this short story Prothom Alo has committed an ignoble act. I strongly express my disapproval at this.


হাসনাত আব্দুল হাই প্রমাণ করলেন, মনের গভীরে তিনিও এক ভোগী ও নারীবিদ্বেষী সাহিত্যিক রসু খাঁ।

রাব্বী ভাইয়ের কিশোরপুত্র ত্বকীর হত্যার মধ্যে আমাদের সময়ের ইনোসেন্সের নৃশংস দলন প্রত্যক্ষ করেছিলাম। হাসনাত আব্দুল হাইয়ের গল্পে ঘটলো শাহবাগ আন্দোলনের ইনোসেন্সের বলাতকার। ঘাতকের হননশক্তি আর লেখকের কল্পনাশক্তি সংগ্রামী ইনোসেন্সের বিরুদ্ধে একজোট। পাতাল খনন করে অমৃত ফেলে তিনি তুললেন জঘন্য গরল। তারপর নিজে মাখলেন, মাখালেন আমাদের সবাইকেও।

গল্পটা তিনি কোথায় পেলেন? পেলেন আমার দেশ-নয়া দিগন্ত-বাঁশের কেল্লার কাছ থেকে। শাহবাগ আন্দোলন নিয়ে তাদের গল্পই তিনি চুরি করে নিজের নামে ছেপেছেন। শাহবাগ অনেককে বদলে দিয়েছিল। নিজের ভীরুতা, দূর্বলতা, বিচ্ছিন্নতা ঘুচিয়ে অনেকে সেখানে পেয়েছিল মানবতীর্থ। আমাদের সামষ্ঠিক অচতনের অবদমিত প্রতিবাদ আর আবেগ সেখানে ফেটে পড়েছিল। শাহবাগ আরেক ধরনের বদলও ঘটিয়ে তুলছিল। অনেক জটিল ঘুঘুর অবদমিত এভিলও শাহবাগের বিপরীতে আত্মপ্রকাশ করেছিল। মানবতীর্থের বিপরীতে তারা চিনেছিলেন দানবকুণ্ড। হাসনাত আব্দুল হাইয়ের এই আত্মপ্রকাশ এভিলের, শিল্পীর নয়। মনের গভীরের বামবিদ্বেষ, গরিববিদ্বেষ, নারীবিদ্বেষের সঙ্গে মিশিয়েছেন আমলাসুলভ অহংকার, বিকারগ্রস্থ রুচি আর অসত অভিপ্রায়। তাঁকে মধ্যপন্থি জানতাম, কিন্তু শাহবাগের প্রতি এতটা প্রতিহিংসাপ্রবণ ভাবতে পারিনি। নিয়ত করেই এই অন্যায় তিনি করেছেন, তিনি নিয়তের দোষী।

এনাদের মতো সুশীল আর রাজনীতির দু:শীলরা কী বুঝবেন কোনোদিন, কেন একজন নাট্যকর্মী শান্ত স্লোগান দিতে দিতে প্রাণ হারায়? কেন লাকী আক্তার শাহবাগে প্রাণপাত করতে করতে জণ্ডিস ধরিয়ে ফেলে! কেন রুমীরা নিজেকে কষ্ট দিয়ে আদর্শ বাঁচায়? জানবে না কতজনের জীবন যায়, কতজনের চাকরি যায়, কতজনের সম্পর্ক যায়, কতজন জান হাতে নেয়, কতজন বন্দি হয়। কতজন ভুল বোঝার শিকার হয়। রাজনৈতিকতার চাইতেও শাহবাগের বড় শক্তি ছিল এর মানবিকতা। এইসব মানবিক গল্পের কিছুই আপনাকে স্পর্শ করলো না। আপনার মনে ধরলো একটা রাজনৈতিক প্রচারণা।

উনারা কী বুঝবেন মফস্বল থেকে আসা ছেলেমেয়েদের জীবন-সংগ্রাম। যারা মাস্তান হয় না, যারা কৃপা চায় না, যাদের হৃদয়ে ও মস্তিষ্কে নতুন সময় টগবগ করে, তারাই তো ইতিহাসের পদাতিক। জীবন পুড়িয়ে এরা ইতিহাসের ইঞ্জিনে জ্বালানি যোগায়। শাহবাগে আমি তাদের দেখেছি। মিথ্যার ছানি-পরা চোখে সেসবের কিছুই ধরা পড়লো না!

সাধারণ নিম্নমধ্যবিত্ত তরুণ-তরুণীরাই সকল সংগ্রামের সামনের সারিতে দাঁড়িয়ে সকলের স্বার্থে ঝুঁকি নেয়। শাহবাগে সেইসব নারীরা, সেইসব তরুণীরা কেবল মানুষের মতো দাঁড়ায়নি, তারা হয়ে উঠেছিল নেতা। পুরুষতান্ত্রিক সমাজে স্বামী বা পিতার পরিচয়ের বাইরে নিজ যোগ্যতায় নারীর ‘নেতা’ হয়ে ওঠা এভারেস্টে ওঠার চাইতেও কঠিন। হাসনাত আব্দুল হাই, আপনার দীক্ষা নেওয়া প্রয়োজন এদের কাছে।

এইসব ছেলেমেয়েদের শাস্তি দিতে হেফাজতে ইসলাম দাবি তুলেছে। আপনি একটা হেফাজতি গল্পই লিখতে পেরেছেন। হেফাজতে ইসলামের তের দফার ৪ ও ৫ নং দফার কাহিনীরূপ দিয়েছেন। সেখানে বলা আছে, ‘‘ব্যক্তি ও বাকস্বাধীনতার নামে সব বেহায়াপনা, অনাচার, ব্যভিচার, প্রকাশ্যে নারী-পুরুষের অবাধ বিচরণ, মোমবাতি প্রজ্বলনসহ সব বিজাতীয় সংস্কৃতির অনুপ্রবেশ বন্ধ করা।’ হেফাজতের নারী নীতি আপনার নারীদর্শন। নারীর মধ্যে আপনি দেখেছেন আপনার যাবতীয় হীনতা আর দীনতা। জীবনসায়াহ্নে এটাই আপনার আত্মপরিহাস।

এই গল্প প্রকাশ করে প্রথম আলো হীন কাজ করেছে। আমি এর নিন্দা জানাই।