সহি রামপাল নামা – পার্ট ২ | সালফার কথন, আমাদের কার্বন গিল্ট এবং জলীয় দূষণের অভিযোগ বিশ্লেষণ

সহি রামপাল নামা – পার্ট ২ | সালফার কথন, আমাদের কার্বন গিল্ট এবং  জলীয় দূষণের অভিযোগ বিশ্লেষণ

সালফার কথন

সালফার ডাই অক্সায়িড এবং  নাইট্রোজেন ডাই অক্সাইড   কয়লা প্লান্ট এর সব চেয়ে ভয়ঙ্কর দুইটা একটা দূষণ| এদের মধ্যে সব চেয়ে ভয়ঙ্কর হলো সালফার  | কারণ, এর পরিমান টাও বেশি | এবং সালফার এর পরিমান এবং নিয়ন্ত্রণ কয়লা ভিত্তিক থার্মাল প্লান্ট এর অত্যনত গুরুত্বপূর্ণ ডিজাইন এবং অপেরাসনাল কন্সিডারেশান| কয়লার মধ্যে যে সালফার টা থাকে, তা অক্সিজেন এর সাথে বিক্রিয়া করে সালফার ডাই অক্সাইড প্রস্তুত করে যা বায়ু মন্ডলে ছড়িয়ে মানুষ এবং অন্যান্য প্রাণীর ফুসফুসে ঢুকে রক্তে ছড়িয়ে পরে| সালফার ডাই  অক্সাইড এর আর একটা ভয়ঙ্কর প্রভাব হলো সালফার বায়ু মন্ডলে মিশে এসিড বৃষ্টিপাত ঘটাতে পারে, যার ফলে একটা এলাকার গাছ পালা এবং পরিবেশ এর ভয়ঙ্কর ক্ষতি সাধন হতে পারে|

প্রধান অভিযোগ টা  কি ?

সালফার ডাই অক্সায়িড (SO2) ও  নাইট্রোজেন ডাই অক্সাইড (NO2) এর গ্যাস EIA রিপোর্ট মতে প্রতিদিন ১৪২ টন সালফার দেয় অক্সাইড ও ৮৫ টন নাইট্রজেন ডাই অক্সাইড নির্গত  হয়ে বছরে ৫২ হাজার টন সালফার দেয় অক্সাইড ও ৩২ হাজার টন নাইট্রজেন ডাই অক্সাইড নির্গত হবে | এই বিষয়ে প্রধান অভিযোগ টা এসেছে যার মতে, পরিবেশ আইন ১৯৯৭ অনুযায়ী পরিবেশ গত স্পর্শ কাতর এলাকায় সালফার এর ঘনত্ব হওয়ার কথা প্রতি বর্গমিটারে মাক্সিমাম  ৩০ মাইক্রোগ্রাম| কিন্তু এই রিপোর্ট এ সুন্দরবন এলাকাকে আবাসিক এবং গ্রামীন এলাকা দেখিয়ে ৫৩.৪ মাইক্রোগ্রাম পর্যন্ত ঘনত্ব কে জাস্টিফাই করা হইছে| ফলে পরিবেশ গত স্পর্শ কাতর এলাকার মানদন্ডের বদলে আবাসিক এবং গ্রাম এলাকার মানদন্ড বেচে নেয়ার মাধ্যমে একটা জালিয়াতি করা হইছে |

সরকার পক্ষের কাউন্টার বক্তব্য

উত্তর: কোনো পরিবেশ দূষণ হবেনা  |

আবাসিক এলাকার দূরত্বের ব্যপারে যে প্রশ্ন তোলা হয়েছে সে ব্যাপারে  EIA থেকে নিচের ছবি টা দিয়ে বলা  হয়েছে কোনো ক্ষতি হবে না কারণ কল গ্যাসের নির্গমন হার পরিবেশ অধিদপ্তর ও বিশ্ব ব্যাঙ্কের নির্ধারিত মানদণ্ডের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ হবে ।

pic 1

এই বক্তব্যে বলা হয়েছে, প্রস্তাবিত বিদ্যুৎ কেন্দ্র হতে সালফার ডাই অক্সাইড ও নাইট্রাস অক্সাইডের নির্গমন হার হবে যথাক্রমে- ৮১৯ g/s এবং ৭৫০ মাইক্রোগ্রাম/Nm³। যেখানে বিশ্বব্যাঙ্কের মানদন্ড অনুযায়ী ১৫৯৭g/s এবং ৭৫০ মাইক্রোগ্রাম/Nm³ পর্যন্ত নিরাপদ। বিদ্যুতকেন্দ্র পরিবেষ্টনকারী পরিবেশের বায়ুর ওপর এই গ্যাসের প্রভাব হবে নগণ্য। তাছাড়া আরো বলা হয়েছে, এছাড়া বছরের সাত মাস সময় বাতাসের প্রবাহ থাকে উত্তরমুখী, যেখানে সুন্দরবন এই বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে দক্ষিণ দিকে অবস্থিত। তাই সুন্দরবনে বায়ু দূষণের সম্ভাবনাও খুবই কম।

আসল কাহিনী কি ?

আসল কাহিনী টা অনেক জটিল  | এইখানে অনেক গুলো বোঝার বিষয় আছে | আসল বিষয় টা হইলো, একটা কয়লা ভিত্তিক পাওয়ার প্লান্ট এর কারণে  পরিবেশ এর উপর যে  ডাইরেক্ট প্রভাব পরে তার মধ্যে সব চেয়ে ক্ষতিকর জিনিস হইলো সালফার | এই সালফার মানুষ এবং গাছ সকলের জন্যে ক্ষতি করে | এই সালফার থেকেই এসিড বৃষ্টি সৃষ্টি হয় | তাই, এই সালফারকে নিয়ন্ত্রণ করার মামলা টা পাওয়ার প্লান্ট এর মেজর একটা ডিজাইন কন্সিডারেশান এবং এই সালফার এর উপর পাওয়ার প্লান্ট এর কাচা মাল হতে শুরু করে, ডিজাইন, ইনভেস্টমেন্ট, কস্ট বেনেফিট সহ আরো অনেক বিষয় নির্ভর করে |

ফলে সালফার এর আলোচনা টা অনেক ডিটেলস এ করতে হবে |

EIAতে যত ধরনের অনৈতিক কাজ করা হইছে, তার মধ্যে সব চেয়ে অনৈতিক কাজ টা করা হইছে সালফার এর মাত্রা   লুকানোর বিষয়টা নিয়ে | সুন্দরবন পর্যন্ত বায়ুতে ৩০ মায়ক্রগাম সালফার কন্টেন্ট পারমিটেড থাকার মূল যুক্তিটা  দূরত্ব কেন্দ্রিক | এই আর্গুমেন্ট এ বলা হচ্ছে, মাত্র ১৪ কিমি দুরে হবার কারণে, বাতাসে সালফার এর যে ঘনত্ব থাকবে তা  সুন্দরবন এর জন্যে ক্ষতিকর হবে |

এই আর্গুমেন্ট এর মূল প্রতিপাদ্য হইলো, আরো দুরে হইলে এই নির্গমন  হয়ত সুন্দরবন এর ক্ষতি করত না | এই যুক্তিটা মিসগাইডেড | এই পরিবেশ গত সেনসিটিভ এলাকায় ৩০ মাইক্রোগ্রাম পর্যন্ত সালফার পারমিটেড থাকার আইন টা আসছে ১৯৯৭ সালের বাংলাদেশ পরিবেশ আইন হইতে | বাস্তবতা হইলো, ১৯৯৭  সালে পরিবেশ নিয়ে রিয়ালিজেশান  আর ২০১৪ সহলের পরিবেশ সচেতনতা ও বাস্তবতা আয়ুব খান আমল এর শেখ হাসিনার আমলের মত আলাদা  জিনিস |

এই একক টার বেশ কিছু সমস্যা আছে বলে এই একক টা এখন আর ব্যবহার করা হয় না | এখন এই সালফার এর পরিমান টা ১ ঘন্টা বা ২৪ ঘন্টায় এভারেজ করা হয় |এইটা হইলো যুক্তি ১, আর দুই নাম্বার যুক্তি হইলো দশ কিলো মিটার দূরত্বের এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স একটা পাওয়ার প্লান্ট সে রামপাল এ হোক আর তেতুলিয়া হোক, তার মূল ইসু না ইসু হইলো এই পাওয়ার প্লান্ট আসলে কি পারিমান সালফার বা নাইট্রযেন ছড়াচ্ছে ?

এখন এই প্লান্ট কে যদি সুন্দরবন থেকে আরো ২৫ কিমি দুরে নিয়ে যাওয়া হয় তাহলে কি এই প্লান্ট এর এই বছরে ৫২ হাজার টন সালফার দেয় অক্সাইড ও ৩২ হাজার টন নাইট্রজেন ডাই অক্সাইড হালাল হয়ে যাবে ? সুন্দরবন না হয় ২৫ কিমি দুরে গেল, কিন্তু এই ২৫ কিমি এর মধ্যে যে মানুষ, যে পরিবেশ, যে পশু পক্ষী আছে তাদের কি হবে ?

ফলে আমরা ৩০ মাইক্রোগ্রাম হালাল, এই ডিবেট এ ঢুকবোনা | আমরা দেখব,রামপাল প্লান্ট থেকে আসলে কি পরিমান সালফার এবং নাইট্রযেন নির্গত হচ্ছে এবং তার ওয়ার্ল্ড স্ট্যান্ডার্ড কি ?

এবং এই আলোচনাতে আমরা দেখতে পাব, সালফার এর মাত্রা লুকানো নিয়ে একটা ভয়ঙ্কর অসততা করা হইছে এবং সুন্দরবন সহ পুরো এলাকার পরিবেশ কে একটা ভয়ঙ্কর দুর্যোগ এর মধ্যে ফেলে দেয়া হইছে বর্তমান ডিজাইনে | এই জন্যে আমরা একটু EIAরিপোর্ট টা খুলে দেখি | নিচের টেবিল টা EIAরিপোর্ট এর ২৭৩ পৃষ্ঠার স্ক্রিন শট |

pic 2

এইখানে দেখা যাচ্ছে, রিপোর্ট এর চতুর্থ  কলামে  বলা হইছে প্রতিটা ইউনিট থেকে ৮১৯ গ্রাম সালফার নির্গত হবে প্রতি সেকেন্ড এ | তার মানে দুইটা ইউনিট থেকে প্রতি সেকেন্ড এ, ১৬৩৪ গ্রাম সালফার নির্গত হবে| পঞ্চম  কলামে বলা  হয়েছে, এই ব্যাপারে বাংলাদেশের কোন মান নেই তাই EIAতে এয়ার   কোয়ালিটি ইন্ডেক্স কে রেফারেন্স হিসেবে  নিয়েছে তারা ষষ্ট  কলামে বলা দেয়া হয়েছে বিশ্বব্যান্ক এর মাপ কাঠি, যেই মাপ কাঠিতে  আবার চলে গেছে .২  টন পার মেগাওয়াট হিসেবে এবং সপ্তম কলামে বলা হইছে জিডি .৬% এর বেশি সালফার ব্যাবহার করা হয় তো ফ্লু গ্যাস ডিসাল্ফারায়জেশান ব্যবহার করা হবে অন্যথায় ২৭৫ মিটার লম্বা একটা স্ট্যাক(চিমনি সদৃশ জিনিস) ব্যবহার করে সালফার বায়ুমন্ডলে ছড়িয়ে দেয়া হবে |

মূল আর্গুমেন্ট টা হলো, বাংলাদেশের যেহেতু কোনো মানদন্ড নাই তাই শুধু মাত্র এয়ার কোয়ালিটি মাপলে চলবে এবং ওয়ার্ল্ড ব্যাঙ্ককে যেহেতু আমরা সবাই বস মানছি, তাই  ওয়ার্ড ব্যান্ক এর মানদন্ড অনুসারে যদি সালফার এবং নাইট্রযেন নির্গমন কম থাকে তো সব ঠিক আছে এবং এই টেবিল মতে এবং আঞ্জুমান ইসলাম সহ সরকার পক্ষের মতে ওয়ার্ল্ড ব্যান্ক এর মানদন্ডের থেকে রামপাল এর মানদন্ড ভালো, তাই আমাদের কোনো সমস্যা নাই- এই প্লান্ট ভালো | আমরা সবাই এখন খুশি মনে বাড়ি যাইতে পারবো  | তাইলে আমরা একটু দেখি, ওয়ার্ল্ড ব্যাঙ্ক এর যে রেফারেন্স টা দেয়া হয়েছে, সেইটা কি বলে ?

এই খানে হচ্ছে ওয়ার্ল্ড ব্যান্ক এর মানদন্ডের যে রেফারেন্স টা দেয়া হইছে তার লিংক http://www.his.com/~mesas/OccupHealth.htm , accessed on 22 Sept. 2011 লিংক এর চেহারাটাই সন্দেহ জনক| ডোমেইন হইলো  www.his.com   যেন ওয়ার্ল্ড ব্যাঙ্ক এর ট্যাকা নাই যে তাদের স্ট্যান্ডার্ড রেফারেন্স গুলো, তারা তাদের নিজস্ব ওয়েব সাইটে রাখতে পারেনা | এই লিংক এর ভেতরে গিয়ে আমরা কি দেখি ?

pic 3

দেখা যাচ্ছে, ,EIAতে রেফার করা ওয়ার্ল্ড ব্যাঙ্ক এর মানদন্ড তা একচুয়ালি ১৯৮৮ সালের একটা ড্রাফট !!! এমনকি ১৯৮৮ সালের ফাইনাল রেফারেন্স ও না ?? আজকে , ৩৫  বছর পেরিয়ে গেছে কেও এইটারে যেন ফাইনাল করে নাই  এবং আজকের ২০১৩ সালে এসে আমরা সুন্দরবন এর পাশে একটা পাওয়ার প্লান্ট বানাতে গিয়ে ওয়ার্ল্ড ব্যান্ক এর ১৯৮৮  সালের একটা ড্রাফট কে মানদন্ড হিসেবে বেচে নিচ্ছি? এখন সেই ১৯৮৮  সাল এর ড্রাফট বাঙালি রে খাওয়ানো  হইতাছে কারেন্ট স্ট্যান্ডার্ড বলে|

তো আমরা একটু দেখি ওয়ার্ল্ড ব্যান্ক এই ৩৫  বছর ঘুমায় ছিল নাকি এই ড্রাফট টা ফাইনাল করছে ? খুজলে দেখা যায়, এই ড্রাফট টা ফাইনাল করা হইছে এবং এই বিষয়ে আপডেটেড রেফারেন্স পাওয়া যাচ্ছে | http://www.ifc.org/wps/wcm/connect/dfb6a60048855a21852cd76a6515bb18/FINAL_Thermal%2BPower.pdf?MOD=AJPERES&id=1323162579734

সেই খানে কি বলতাছে ?

pic 4

এইখানে তো দেখা যাচ্ছে ৫০০ মেগাওয়াট এর উপরে বিদ্যুতকেন্দ্রের জন্যে ওয়ার্ল্ড ব্যাঙ্ক এর বর্তমান স্ট্যান্ডার্ড সালফার এর জন্যে ২০০    থেকে ৮৫০|  EIA টে রেফার করা স্ট্যান্ডার্ড থেকে অনেক কম |

এখন আমরা আর একটা কাজ করি| ওয়ার্ড ব্যাঙ্ক কে আমাদের গুরু না মানি  |

কারণ ওয়ার্ল্ড ব্যাঙ্ক একটা লোন প্রদান করি সংস্থা | তারা এনভায়রনমেন্টাল স্ট্যান্ডার্ড সেট করে না | তারা অনেক ক্ষেত্রে লোন দেয়ার ক্ষেত্রে মিনিমাম কি নীতি মানতে হবে এই জন্যে কিছু গাইড লাইন দেয় | ওদের ওই গাইড লাইন গুলো অপেক্ষা বিশ্বের বিভিন্য দেশ যেমন ইউরোপ এবং আমেরিকা যাদের  এনভায়রনমেন্টাল স্ট্যান্ডার্ড নিয়ে খুবই সবেদনশীল তাদের স্ট্যান্ডার্ড এর সাথে রামপাল এর তুলনা করি | নিচের লিংক টাতে আপনি এই ধরনের একটি তুলনা পাবেন |

http://www.urbanemissions.info/images/UEI/publications/Coal%20Kills%20-%20Power%20Plants%20in%20India%20-%20Emissions%20&%20Health%20Impacts.pdf

pic 5

এই চার্ট অনুসারে আমি সবাইরে এক করে একটা চার্ট বানাইছি সেইটাটে  উপরে সব গুলো ডাটা কম্পাইল করা হইছে বোঝার সুবিধার জন্যে |

আইটেম ইন্ডিয়া বাংলাদেশ ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন ইউএসএ চীন বিশ্ব ব্যান্ক এর ১৯৯৭ সালের ভুয়া ড্রাফট বিশ্ব ব্যাঙ্ক এর ২০০৮ সালের মান রামপাল
SO2 সালফার ডাই  অক্সাইড কোনো মান নাই কোনো মান নাই ** ৪০০ μg/m3 ৬৪০ μg/m3 ১০০ μg/m3 ২০০০ μg/m3 ২০০ থেকে ৮৫০ μg/m3 ১২৫৩ μg/m3 *
NO2 নাইট্রযেন ডাই অক্সাইড কোনো মান নাই কোনো মান নাই ** ৫০০ μg/m3 ৪৫০ μg/m3 ১০০ μg/m3 750 μg/m3 750 μg/m3

* রামপাল এর সালফার এর ডাটাটা EIA  রিপোর্ট এ , মাইক্রোগ্রাম পার নেচারাল কিউবিক মিটার(μg/m3) এককে দেয়া হয় নাই|  EIAঅনুসারে রামপালের নির্গমন হবে ৮১৯ গ্রাম/সেকেন্ড | কিন্তু নাইট্রযেন এর ডাটা দেয়া হয়েছে মাইক্রোগ্রাম পার নেচারাল কিউবিক মিটার এ এবং তার সাথে গ্রাম পার সেকেন্ড টাও দেয়া হয়েছে | সেই হিসেবে সালফার এমিশন টা আমি নাইট্রেট এমিসেন এর হিসেবে ঐকিক নিয়ম করে বের করছি | ৪৯০  g/s, এই হিসাব অনুসারে পার কিউবিক মিটারে ৭৫০ মাইক্রো গ্রাম নাইট্রেট নির্গত হবে |তাইলে , সালফার ডাই অক্সা ইড যদি নির্গত হয় ৮১৯ গ্রাম  প্রতি সেকেন্ড এ তো তার প্রতি কিউবিক মিটার এ কন্সেন্ত্রেশান হবে ১২৫৩  μg/m3 একটা প্লান্ট এর জন্যে |

** তাই বিভিন্ন দুরত্বে এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স কে হিসেবে করা হইছে যা কোনো স্ট্যান্ডার্ড হইতে পারেনা

শুধুই মাত্র বিশ্ব ব্যান্ক এর ১৯৮৭ সালের ড্রাফট যা একটি ভুয়া স্ট্যান্ডার্ড তাকেই কোয়ালিফাই করে রামপাল এর বর্তমান ডিজাইন |  এমনকি বিশ্বব্যান্ক এর বর্তমান স্ট্যান্ডার্ড টাকেও  কোয়ালিফাই করে করে না |

১২৫৩  মাইক্রোগ্রাম প্রতি কিউবিক মিটারে যে নির্গমন তা পৃথিবীর কোনো দেশের স্ট্যান্ডার্ড মেন্টেন করেনা এবং এইটা যদি হয় তো রামপাল অবশ্যই এসিড বৃষ্টির  সম্ভাবনা সৃষ্টি করবে এবং সুন্দরবন লং টার্মে গিয়ে ধ্বংশ হবে | যেই খানে চীন এর স্ট্যান্ডার্ড এখন ১০০ , আমেরিকার স্ট্যান্ডার্ড ৪০০ সেই খানে রামপাল এর জন্যে করা হবে ১২৫৩ মাইক্রোগ্রাম | এই খানেই আমার মতে, রামপাল নিয়ে সব চেয়ে বড় ভন্ডামি টা করা  হইছে | কারণ, সালফার এমিশন টাই পরিবেশ এর উপর সব চেয়ে ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে|

একই ভাবে আমরা দেখব, নাইট্রোজেন  ডাই অক্সাইড এর ক্ষেত্রেও একই ভাবে প্রতারনার আশ্রয় নেয়া হয়েছে |

রামপাল এর এমিশন হবে ৭৫০, ১৯৮৮ সালের রেফারেন্স এ ওয়ার্ল্ড ব্যাঙ্ক স্ট্যান্ডার্ড দেখানো হয়েছে ৭৫০, কিন্তু ওয়ার্ল্ড ব্যাঙ্ক এর প্রকৃত স্ট্যান্ডার্ড তার থেকে অনেক কম এবং বিশ্বের স্ট্যান্ডার্ড কথাও ৫০০ এর উপরে না|

উপরের চার্ট টাতে খুব খেয়াল করে দেখার একটা বিষয় হইলো, আপনে দেখবেন  বাংলাদেশের  মত ভারতের সালফার এবং নাইট্রোজেন এমিসানের কোনো স্ট্যান্ডার্ড নাই|

ভারতেও এয়ার কোয়ালিটি স্ট্যান্ডার্ড আছে কিন্তু কয়লা ভিত্তিক প্লান্ট এর জন্যে এয়ার কোয়ালিটি স্ট্যান্ডার্ড কে ওরা বেঞ্চ মার্ক হিসেবে ধরেনা | বরং ধরে নেই ভারতের ইমিশন এর কোনো স্ট্যান্ডার্ড নাই | কারণ, এই ভারতে কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুত কেন্দ্র গুলো বেশির ভাগ প্রাইভেটাইজড এবং এই সব প্রাইভেট কোম্পানি গুলি ভারত সরকার কে, কোনো ধরনের স্ট্যান্ডার্ড সৃষ্টি করে দেয় নাই, তাদের প্রভাব খাটিয়ে| ভারত নিজেই একটা এনভায়রনমেন্ট এর ব্যাপারে অত্যন্ত দুর্বল মানের দেশ| এই ব্যপারে ভারতের গ্রীনপিস সহ অন্যান্য পরিবেশ অর্গেনাইজেসন অনেক যুদ্ধ করতাছে| গ্রিন পিস এর একটা লিংক দেখুন http://www.urbanemissions.info/images/UEI/publications/Coal%20Kills%20-%20Power%20Plants%20in%20India%20-%20Emissions%20&%20Health%20Impacts.pdf

মোদ্দা কথা হচ্ছে, ভারতের খুব নিম্ন মান এর পরিবেশ স্ট্যান্ডার্ড অনুসারে রামপাল এ যে প্লান্ট টা করা হচ্ছে, তা যদি আরো ২০ কিমি দুরে সরিয়ে নেয়া  হয়, তাহলেও রামপাল থেকে যে দূষণ হবে তা পরিবেশ কে ক্ষতি করবে, জনবসতির উপর খারাপ প্রভাব ফেলবে তার পরেও সুন্দরবন এর উপর প্রভাব পরবে | ফলে বিষয় টা দূরত্বের না বিষয় টা টেকনিকাল |

বিষয় টা এমন একটা টেকনোলজির যেই  টেকনোলজি ব্যবহার করলে, একটা কয়লা ভিত্তিক প্লান্ট খুবই কম সালফার এবং অন্যান্য দুষিত পদার্থ ইমিশন করে যাটে  পরিবেশ এর ক্ষতি হয়  না|

এই টেকনোলজি টা কি ?

এই টেকনোলজি টাকে বলা হয়ে, এফজিডি| FGD(Flue Gas Desulfuruijetion) | এইটা এক ধরনের স্ক্রাবিং তাই এইটাকে স্ক্রাবার ও বলা হয় | এই  FGD টেকনলজি বা স্ক্রাবার ব্যবহার করে, একটা কয়লা ভিত্তিক প্লান্ট এর ৯০% সালফার কে আটকে ফেলা যায় | ইদানিং রামপাল এর পক্ষের কিছু লোক জন এর আলোচনায় দেখি FGD এর কথা বলা হচ্ছে | এইটা একটা প্রতারণা কারণ,  FGD রামপালে ব্যবহার করা হয় নাই | বলা হইছে, .৬% সালফার সমৃদ্ধ কয়লা ব্যবহার করা হবে তাই  FGD লাগবেনা| এমনকি EIA রিপোর্ট এর রেকমেন্ডেশানে বলা হইছে, শুধু মাত্র .৬% সালফার এর উপরে কয়লা ব্যবহার হইলে, FGD ইনস্টল করা হবে এবং এই জন্যে রামপাল প্লান্ট ডিজাইনে FGD ইনস্টল করার জন্যে জায়গা রাখা হইছে | কিন্তু FGD ইনস্টল করার বাজেট রাখা হয় নাই |

কয়লা ভিত্তিক প্লান্ট এর যে সালফার এমিশন হয় তার ক্ষতিকর প্রভাব নিয়ে ১৫০ বছর ধরে আন্দোলন হচ্ছে | এর জন্যে সেই ১৯৩৫ সালে প্রথম ইংল্যান্ডে FGD বসানো হইছে | বর্তমানে ইউরোপ এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং চীনে   যে গ্যাস  এমিশন  স্ট্যান্ডার্ড করা হইছে সেইটা মেন্টেন করতে হলে অবশ্যই FGD বসাতে হবে|

এই খানেই আসে ইন্ডিয়ার এমিশন স্ট্যান্ডার্ড থাকা না থাকার পার্থক্য| ইন্ডিয়াতে সালফার এমিশন এর কোনো আইন নাই | এই জন্যে ইন্ডিয়া তে মাত্র একটা প্লান্ট আছে যেইটায় FGD আছে | সেইটাও করা হইছে, ভারতের সুপ্রিম কোর্ট এর রায় এর পর | ভারতের যে স্ট্যান্ডার্ড সেই মতে এখন রামপাল ডিজাইন করা হইছে | এবং বর্তমান রামপাল প্লান্ট এর ডিজাইন অনুসারে ২৭৫  মিটার লম্বা একটা স্ট্যাক (চিমনি সদৃশ) বানিয়ে বায়ুমন্ডল এর অনেক উপরে সালফার টা ছড়িয়ে দেয়া হবে, যাতে সালফার টা অনেক দুরে ছড়িয়ে পরে | এইটা ভারতের স্ট্যান্ডার্ড | কিন্তু দুনিয়া এই স্ট্যান্ডার্ড থেকে পার হয়ে গ্যেছে | বিশ্বের বিভিন্য দেশে এই ভাবনা ৫ কোটি বছর আগে বাতিল হয়ে গেছে |

কিন্তু ভারতে বাতিল হয় নাই |কেন বাতিল হয়  নাই ?

কারণ এইটা খুব এক্সপেন্সিভ টেকনোলজি | একটা এফ জিডি ইনস্টল করতে ৩০০ থেকে ৪০০ মিলিয়ন ডলার খরচ হয় এবং এইটা পরিচালনা করতে গিয়েও খরচ হয়|  আর দুই নাম্বার হইলো FGD এর জন্যে পার ইউনিট খরচ টা বাড়ে |  পার টন সালফার কে প্রসেস করতে বড় সাইজ এর FGD তে পার টন সালফার প্রসেস করতে মাক্সিমাম ৫০০ ডলার এর মত খরচ হয় | ফলে ৫৫০০০ টন সালফার প্রসেস করতে FGD এর বাত্সরিক খরচ হবে ম্যাক্সিমাম ২৫ মিলিয়ন ডলার | যেইটা আসলে অনেক বেশি না | কিন্তু কাপিটাল  ইনভেস্টমেন্ট টা ভালই |

এখন কথা হচ্ছে আপনি এই খরচ টা করবেন নাকি চিপ চিপ পরিবেশ দূষণ করবেন এই অপশন টা আপনার |

এই খরচের জন্যেই  এখনো ইন্ডিয়াতে FGD রাখা টা স্ট্যান্ডার্ড করা হয় নাই |

আজকে তাই যদি, ইন্ডিয়ার মত আর একটা লো টেক দেশ যেই দেশ তার জনবসতিকে সালফার দিয়া কন্টামিনেট করাকে স্ট্যান্ডার্ড মনে করে সেই দেশের টেকনিশিয়ান দিয়ে একটা বড় প্লান্ট বানাই, তো এরা আমাদের বোঝাবে যে, FGD কত ডিফিকাল্ট, কত দামী | কিন্তু আপনি যদি ইউরোপ থেকে টেকনোলজি আনেন, ওরা চিন্তাও করতে পারবেনা আপনে  FGD  বাদ দিয়া ২০১৩ সালে এসে এত বড় একটা পাওয়ার প্লান্ট করবেন |

এখন প্রশ্ন হইলো, আমরা কি  ইন্ডিয়ান স্ট্যান্ডার্ড মানব নাকি বাকি বিশ্বের স্ট্যান্ডার্ড মানবো | আর যদি খরচ এর কথা বলেন, তাইলে আপনাকে রিকারদোর্  মডেলে  দেখতে হবে, এই সেম পরিমান বিদ্যুত উত্পাদন করতে গেলে অল্টারনেটিভ কি টেকনোলজি আছে এবং তার খরচ কি হবে ? আমার ধারণা, তাতে দেখবেন এই এফজিডি সহ কয়লা ভিত্তিক প্লান্ট এর খরচ কম হবে |

কিন্তু এইটা সম্পূর্ণ অন্য আলোচনা| এইটা একটা গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা কিন্তু এই   লেখা টায় শুধু মাত্র এনভায়রনমেন্ট এর ইমপ্যাক্ট টার ভিত্তিতে সব আলোচনা করা হচ্ছে, কস্ট বেনেফিট এই আলোচনায় আসে নাই | তাই ওই দিকে আমরা এখন যাবনা |

এর পরেও একটা কথা থাকে | তা হইলো, FGD ইনস্টল না করেও কয়লা হতে সালফার এর ইমিশন কমানো যায়
এবং সেই ক্ষেত্রে, আপনাকে  সাববিটুমিনাস কয়লা ব্যবহার করতে হবে | এই কয়লার দাম অনেক বেশি |  মার্কিন এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন ওয়েবসাইট http://www.EIA.gov/todayinenergy/detail.cfm?id=4410

কিন্তু রামপাল কি ব্যবহার করা হবে ??

যদিও EIAএর বিভিন্য জায়গায় বলা হইছে হয় বিটুমিনাস নয় সাব বিটুমিনাস কয়লা ব্যবহার করা হবে কিন্তু এইটা ছলনা বলেই মনে হয় যখন প্লান্টটের বেসিক ডেসক্রিপশানে পরিষ্কার ভাবে বলা হইছে এইটা হবে বিটুমিনাস কয়লা ভিত্তিক প্লান্ট | পৃষ্ঠা ৯৫ |রামপাল হবে, সুপার  ক্রিটিকাল বিটুমিনাস পাল্ভেরাইজড কোল প্লান্ট |

pic 6

মোদ্দা কথা হইলো, কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুত কেন্দ্র রামপাল এ করা না করার প্রধান একটা কন্সিডারেশান হলো সালফার|

ফলে আপনি সুন্দরবন থেকে যত দুরেই যান আপনি যদি  বছরে ৫২০০০ টন সালফার পরিবেশে ছাড়েন তবে সেইটাই পরিবেশ কে ক্ষতি করবে, জন মানুষের উপর দুর্যোগ বয়ে আনবে | ফলে আমাদের কে প্রথম বিশ্বের স্ট্যান্ডার্ড ফলো করে, বিদ্যুত প্লান্ট বানাতে হবে ভারতের স্ট্যান্ডার্ড মেন্টেন করে নয়  | এবং ভারতের স্ট্যান্ডার্ড মেন্টেন করে সুন্দরবন থেকে ৫০ কিমি দুরের প্লান্ট ও সুন্দরবন কে ক্ষতি করবে | সেই ক্ষেত্রে  আপনাকে হয় সাব বিটুমিনাস কয়লা ব্যবহার করার জন্যে উপযোগী প্লান্ট বানাতে হবে অথবা আপনাকে স্ক্রাবার বসাতে হবে | দুক্ষ জনক ভাবে এর কোনটাই করা হয় নাই |

আমরা আমাদের আলোচনায় দেখব, যদি প্রপার প্রটেকশন নেয়া হয় তো সুন্দরবন থেকে নিরাপদ দুরত্বে  একটা কয়লা ভিত্তিক প্লান্ট করা যায় | কিন্তু সেই গুলো না করে, এই প্লান্ট টা করা সুন্দরবন কে সত্যিই বিপদগ্রস্ত করবে |

আমাদের কার্বন গিল্ট

কার্বন ডাই অক্সাইড এর এমিশন নিয়ে ক্যেচাল অভিযোগ কয়লা ভিত্তিক প্লান্ট এর  সব চেয়ে বড় দূষণ টা হয় কার্বন ডাই অক্সাইড নিয়ে CO 2 | রামপাল এর প্লান্ট এ বছরে ৭৯ লক্ষ টন কার্বন ডাই অক্সাইড উত্পন্য হবে যা পরিবেশ কে দূষণ করবে | যদিও জাতীয় কমিটির কোনো বুকলেটে এইটা দাবি করা হয় নাই এবং জেনে বুঝে কেও এই দাবি করছেনা কিন্তু বিভিন্য জনের সাহ্থে আলোচনায় আমার মনে হইছে একটা পারসেপশন আছে  এই ৭৯ লক্ষ টন কার্বন ডাই অক্সাইড যেইটা একটা ব্যাপক পরিমান এইটার ফলে এলাকার তাপমাত্র বাড়বে  এবং সুন্দরবন এর ডাইরেক্ট ক্ষতি হবে|

সরকার পক্ষের বক্তব্য বলা হয়েছে, এই দূষণ রোধে সুপার ক্রিটিকাল প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে | যা আবার কাউন্টার করা হয়েছে এই  বলে যে, সুপার ক্রিটিকাল প্রযুক্তিতে কার্বন দূষণের মাত্র মাত্র  ১০% কমবে কিন্তু আলটিমেটলি সুন্দরবন এর ক্ষতি  হবেই  এবং সুন্দরবন এর তাপ মাত্র বাড়বেই | জাতীয় কমিটির বই এ অভিযোগ টা ছিল, এই কার্বন সুন্দর বন এর উপর কি সম্ভাব্য প্রভাব পারবে তা  EIA তে  আসে নাই|

আসল কাহিনী

আসল কাহিনীটা বুঝতে হইলে আমাদের বুঝতে হবে, যে  কার্বন ডাই অক্সাইড ইটসেলফ কোনো এলাকার তাপ মাত্রা  বাড়ায়  না | কার্বন ডাই অক্সাইড এর ক্ষতিকর প্রভাব টা পুরো  বিশ্বের গ্রিন হাউস গ্যাস নির্গমনের সাথে জড়িত প্রশ্ন | এইটা লোকাল ইসু না | এইটার প্রভাব  গ্লোবালি হয় পুরো বায়ু মন্ডল এর উপর প্রভাবের কারণে | লোকাল এলাকাতে কয়লা ভিত্তিক  প্লান্ট হতে নির্গত কার্বন ডাই অক্সাইড এর ক্ষতির কোনো প্রশ্ন নেই | গাছ পালার উপর কার্বন ডাই অক্সাইড এর কোনো ক্ষতি কর প্রভাব নাই কারণ কার্বন ডাই অক্সাইড গাছ এর সালোক সংশ্লেষণ এর খাদ্য |

প্রশ্ন টা গ্রিন হাউস গ্যাস এর| কার্বন ডাই অক্সাইড একটা গ্রিন হাউস গ্যাস | এর বিশিষ্ট্য হলো এটা তাপ কে রেফ্লেক্ট করে  | এর ফলে সুর্যের যেই তাপ মাটি থেকে রিফ্লেক হয়ে বায়ু মন্ডলে যায় টা মহাবিশ্বে ফিরে যেতে পারেনা কার্বন ডাই অক্সাইড এবং অন্যান্য গ্রিন হাউস গ্যাস এর সাথে ধাক্কা খেয়ে মাটিতে ফিরে আসে ফলে পৃথিবীর তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায় গ্লোবাল ওয়ামিং হয় লোকাল ওয়ার্মিং না  | তবুও এই পৃথিবীর নাগরিক হিসেবে, অবশ্যই আমাদের সন্তানদের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে, কার্বন ইমিশন  কমাতে হবে|

কিন্তু প্লিজ এই চিন্তাটাকে একটা পারস্পেকটিভে আনা জরুরি |

আমরা এই প্রথম একটা বড় কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুত কেন্দ্র করছি | পুরো পৃথিবীতে যে কার্বন ডাই অক্সাইড নির্গত হয় তার মধ্যে  বাংলাদেশ বছরে ৪৬ লক্ষ টন কার্বন নির্গমন করে যা পৃথিবীর মাত্র .১৬% | 

(২০০৮ এর হিসেব)

http://en.wikipedia.org/wiki/List_of_countries_by_carbon_dioxide_emissions

এখন যদি এই প্লান্ট টা হয়  তো    বাড়বে আরো ৭.৯  লক্ষ  টন মানে বর্তমান নির্গমন  মানে বর্তমানের এর আরো ১৭% বাড়বে|আর একই সময় ভারত ভারত ১৭ কোটি টন কার্বন পরিবেশে ছাড়তে থাকবে |(পূর্বের লিংক ) তাই, আমাদের অনেক বেশি কার্বন গিল্ট ফিল করার আগে, একটু নিজেদের অবস্থানকে গ্লোবাল পারস্পেকটিভে যাচাই করা উচিত  |  এবং কার্বন ডাই অক্সাইড এর কারণে সুন্দরবন এর তাপমাত্রা বাড়বে এই ধরনের হাস্যকর পারসেপশান থেকে বেরিয়ে আশা উচিত|

এখানে আবার বলা উচিত, রামপাল এর সমালোচনার প্রাথমিক সোর্স যেমন জাতীয় কমিটি বা অন্যান্য আলোচনা থেকে এই ভুল ধারণা গুলো আসেনি| মূল কিছু আইডিয়াকে  ডাল পালা ছড়াতে ছড়াতে এই পর্যায়ে পৌছাইছে এবং কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুত কেন্দ্র সম্পর্কে জনমনে ভুল ধারণা ছড়াচ্ছে | আমি মনে করে এই ধরনের  ভুল পারসেপশন ছড়ানোর থেকে সকলের সতর্ক থাকা উচিত | কারণ, কয়লা ভিত্তিক কেন্দ্র সম্পর্কে মানুষের মনে এই ধরনের বেসিক  ভুল ধারণা আমাদের ফিউচার কে বিপর্যস্ত করবে |

কারণ, আমরা পরে যখন এনার্জি মিক্স নিয়ে ডিসকাস করবো তখন দেখব, আমাদের এনার্জি ফিউচার এর জন্যে কয়লা ইজ মাস্ট |

ক্রিটিকাল সুপার ক্রিটিকাল প্রযুক্তির ইস্যু

এইটাও আবার কার্বন এর সাথে জড়িত | ক্রিটিকাল সুপার ক্রিটিকাল প্রযুক্তির মূল ইস্যুএ হইলো কার্বন এর এমিশন কমানো | | কথা হইলো কার্বন এর ইমেশন কমাতে হবে | পুরান কথাই বলতে হয় যে আমরা বায়ুমন্ডলের এমন কিছু কার্বন ছরাচ্ছি না যে এই ক্রিটিকাল সুপার ক্রিটিকাল প্রযুক্তি নিয়ে আমাদের এত মাথা ব্যথা করতে হবে এই মুহুর্তে  | আমি মনে করি, একটা ১২০০ মেগা প্লান্ট এর ক্ষেত্রে এত বেশি কার্বন গিল্ট ফিল করার দরকার এখনো আসে নাই |

আরো একটা  ইম্পর্টান্ট পলিউটেন্ট হলো মার্কারী

অভিযোগে বলে হয়েছে | এই প্লান্ট থেকে বছরে ৪৪০ পাউনড মার্কারী বায়ু মন্ডলে ছাড়া হবে | এবং ২৫ একর এর আয়তন এর একটা পুকুরে যদি এক চামুচের ৭০ ভাগ এর এক ভাগ মার্কারী বা পারদ ছাড়া হয় তো সেই পুকুর এর মাছ খাবার অযোগ্য হয়ে পরে | ফলে, সারা বছর ধরে এই ৪৪০ পাউনড মার্কারী ছড়িয়ে দেয়ার যে পরিকল্পনা সেইটা সুন্দরবন এবং আসে পাশের পরিবেশ অবশ্যই ক্ষতি করবে |

EIAতে কি বলা আছে ?

কিছু বলা নাই

আসল ঘটনা কি ?

আসল ঘটনা হইলো, এইটা একটা ভয়ঙ্কর অভিযোগ |

এবং EIAতে দেখা যায় মার্কারী কে নিয়ন্ত্রণ করার জন্যে কোনো পরিকল্পনা নেয়া হয় নাই| এবং স্টেট অফ দা আর্ট এর গান গেয়ে, অত্যন্ত  মান্ধাত্তার  আমলের প্রযুক্তি ব্যবহার করে সুন্দরবন কে বিপর্যস্ত করার পরিকল্পনা করেছে সরকার তার ভারতীয় বন্ধুদের সাথে নিয়ে| কয়লা ভিত্তিক প্লান্ট এর মার্কারীকে কেপচার করার জন্যে ACI বা অ্যাডভান্সড কার্বন ইনজেকশন পদ্ধতি ব্যবহার করা হয় বিশ্বের বিভিন্য দেশে | এই গুলো এখন স্ট্যান্ডার্ড|  http://www.slideshare.net/EnvDefenseFund/mercury-alert-cleaning-up-coal-plants-for-healthier-lives?from=ss_embed

এই  ACI ইনস্টল করা টা খুব  এক্সপেন্সিভ না এবং বর্তমানে  মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিটা প্লান্ট এ এই ACI ইনস্টল করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে http://www.forbes.com/sites/kensilverstein/2013/03/20/coal-plants-belching-out-less-mercury/ The Government Accountability Office has determined that “activated carbon injections” have the potential to cut mercury emissions by 90 percent — at an average price of $3.6 million per plant.

কিন্তু রামপাল এ সেইটা ইনস্টল করা হচ্ছেনা  এবং ঘুরে ফিরে দেখা যাচ্ছে ইন্ডিয়ান প্রযুক্তি এবং ইন্ডিয়ান স্ট্যান্ডার্ড ব্যবহার করে অত্যন্ত দুর্বল পরিবেশ মান এর একটা পাওয়ার প্লান্ট করা হচ্ছে যার ফলে সুন্দরবন এর অবশ্যি ক্ষতি হবে |

====================== কয়লা ভিত্তিক প্লান্ট এর প্রধান পলিউটেন্ট এই গুলোই |

এর বাহিরে বিভিন্য ধরনের পদার্থ নির্গমন হয় যার সব গুলোর প্রটেকশন মেকানিজম আছে , আমি ওই গুলো নিয়ে আলোচনাএই খানে করলাম না, তার কারণ, ওই পার্টিকল গুলোর বাত্সরিক যে  নির্গমন হবে, তার ইমপ্যাক্ট অত বেশি নয় |

এবং রামপাল প্লান্ট এ ইলেক্ট্রো স্টাটিক পার্সিপেটর স্হাপন করা হচ্ছে, যার ফলে এই ভারী মেটেরিয়াল এবং সাসপেন্ডেড পার্টিকল গুলোর বড় অংশ কেই কেপচার করা হবে | এই খানে বলা ভালো রামপাল এর কিছু সমালচনায় বলা হয়েছে যে ইলেক্ট্রো স্টাটিক পার্সিপিটার হচ্ছেনা কারণ এইটা অনেক দামী |  কিইন্তু রামপাল এর EIAএর ৪০৫ নাম্বার পেজ এ দেখা যায়, ইলেক্ট্রো   স্টাটিক পার্সিপিটার এর জন্যে ২৫৩ কোটি টাকা বরাদ্দ আছে | তাই এই ধারণাটা ভুল বলে ধরে নেয়া যায় |

এই গেল বায়ুমন্ডলে নির্গত দূষণ গুলোর আলোচনা |

এখন আসি পানি নিয়ে যে আলোচনা তার উপর

পশুর নদী থেকে পানি প্রত্যাহার: অভিযোগ

ইআইএ রিপোর্ট অনুসারে কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ব্যাবহারের জন্য পশুর নদী থেকে প্রতি ঘন্টায় ৯১৫০ ঘনমিটার করে পানি প্রত্যাহার করা হবে। কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্রে শীতলিকরণ সহ বিভিন্ন কাজে ব্যাবহারের পর অবশিষ্ট পানি পরিশোধন করে ঘন্টায় ৫১৫০ ঘনমিটার হারে আবার নদীতে ফেরত দেয়া হবে। ফলে নদী থেকে প্রতি ঘন্টায় কার্যকর পানি প্রত্যাহারের পরিমাণ হবে ৪০০০ ঘনমিটার।

ইআইএ রিপোর্টে এভাবে পশুর নদী থেকে ঘন্টায় ৪০০০ মিটার পানি প্রত্যাহারের ফলে পানির লবণাক্ততা, নদীর পলি প্রবাহ, প্লাবন , জোয়ার ভাটা, মাছ সহ নদীর উদ্ভিদ ও প্রাণী জগৎ ইত্যাদির উপর কেমন প্রভাব পড়বে তার কোন বিশ্লেষণ করা হয়নি এই যুক্তিতে যে ৪০০০ ঘনমিটার পানি পশুর নদীর শুকনো মৌসুমের মোট পানি প্রবাহের ১ শতাংশেরও কম।

দুর্ভাবনার বিষয় হলো, প্রত্যাহার করা পানির পরিমাণ ১ শতাংশেরও কম দেখানো হয়েছে ২০০৫ সালের ডাটা ব্যবহার করে নতুন কোনো ডাটা করা হয়  নাই | যেইটা করা প্রয়োজনীয় ছিল কারণ এখন নদীর উজানে শিল্প, কৃষি, গৃহস্থালি সহ বিভিন্ন উন্নয়ণ কর্মকান্ড ও পরিবেশ বিপর্যয়ের কারণে নদী থেকে দিনে দিনে পানি প্রত্যাহারের পরিমাণ বাড়ছে|

সরকারী উত্তর

যেহেতু পানি প্রত্যাহার পশুর নদীর শুষ্ক মৌসুমের পানি প্রবাহের .০৪% সেই যুক্তি দিয়ে EIA তে  পানি প্রত্যাহার এর কারণে পশুর নদীতে কোনো ধরনের সমসস্যা হবেনা বলা দাবি করা হইছে | আসল কাহিনী কি অভিযোগ এর মূল মেজাজ টা অবশ্যই সত্য |

আজকে ২০১৩ সালে যদি পশুর নদীতে একটা প্লান্ট বসানো হয় তবে নদীর নাব্যতা নিয়া ২০০৫ সালের ডাটা কেন ব্যবহার করবো ? নতুন ডাটা করা উচিত | এবং এই পানি টেনে নিলে নদীর উদ্ভিদ ও প্রাণী  জগতের উপর কি প্রভাব পরবে তাও কোনো স্টাডি করা হয় নাই , কিছু উইশফুল স্টেটমেন্ট দেয়া হইছে | এই অভিযোগ টা সর্বৈব ভাবে সত্য |

তবুও আমরা আমাদের বোঝার স্বার্থে পশুর নদীর জল প্রত্যাহার সম্পর্কে কিছু আলোচনা করতে পারি |

কারণ এই বোঝা টার  সাথে শুধু পানি প্রবাহ নয়, নদীতে পলিউটেন্ট ডিসচার্জ নিয়ে এর ভুমিকা রয়েছে |

পশুর নদীর চরিত্র একটু বোঝা দরকার | পশুর নদী পদ্মা, মেঘনা যমুনা বা বাংলাদেশের অন্যান্য নদীর মত হিমালয় বা অন্য কোন পাহাড় বা বন্যায় জমে থাকা পানি থেকে উত্সরিত নদী না | এইটা সাগর এর একটা এক্সটেনশান যার সাথে উত্তর দিক থেকে নেমে আশা মিঠে পানির মিলন ঘটে | কিন্তু, গঙ্গা অববাহিকায় ভারতের ক্রমাগত পানি প্রত্যাহার এর কারণে বর্তমানে  পশুর নদীর প্রধান প্রবাহ লোনা পানির |

পশুর নদীতে দিনে দুই বার জোয়ার ভাটা হয় সাগরের সাথে সাথে |

এবং সাগরের পানি সুন্দর বন এর মানগ্রভ ফরেস্ট কে ধৌত করে পশুর  নদী দিয়ে প্রবাহিত হয়ে, নদীর কুলে এসে বাড়ি খায় জোয়ার এর সময় এবং ভাটার সময় সেই পানি আবার সাগর এর দিকে প্রবাহিত হয়| ফলে এই নদী  থেকে আপনি জোয়ার এর সময় যতই পানি নিবেন, জোয়ার ততই পানি সাগর থেকে টেনে আনবে | আর এমন কি ভাটার সময় যেই অঞ্চল পর্যন্ত ভাটা হবে, সেই অঞ্চল পর্যন্ত ভাটার পানি সব সময় চালু থাকবে |

জাস্ট কক্সবাজার এর কথা চিন্তা করেন| কক্সবাজার এর পাড় যেই  অংশ এমনকি যেই সময় ভাটা  থাকবে, সেই সময় যদি আপনি বিশাল বড় একটা পাম্প বসান তবুও আপনি পানি টেনে শেষ করতে পারবেন না কারণ  ভাটার পানি ঘুরে ফিরে ওই জায়গাকে ফিল আপ করবে | কক্সবাজার এর তুলনা টা দিলাম বোঝার জন্যে | পশুর নদী সাগর না, সাগরের এক্সটেনশান  এবং  একটা নদী পথে আসা  সুনির্দিষ্ট পরিমান পানিকেই এইটা পাড়  পর্যন্ত নিয়ে যায় | ফলে অনেক বেশি পানি টানলে অবশ্যই ভাটার সময় বা শুকনো মৌসুমে যখন পানি প্রবাহ কমে যায় তখন অবশ্যই পানির সংকট হতে পারে|

ফলে যদিও আমরা আন্তাজ করে নিতে পারি যে, দৈনিক দুই বার সাগরের পানি জোয়ার  বা ভাটার  কারণে যে কোন সময়ে গ্রীষ্ম কালের .০৪ % পানি টেনে নিলেও    পশুর নদীর নদীর জলপ্রবাহ কমে যাওয়ার তেমন কোনো সম্ভাবনা নাই , কিন্তু রামপাল এর সমালচনার যৌক্তিকতা কে অস্বিকার করা যাবেনা যে, ধারণা বসত আইডিয়ার উপর নির্ভর না করে রামপাল এ একটা পাওয়ার প্লান্ট স্থাপন  করলে পশুর নদীতে কি প্রভাব পারবে তার অবশ্যই একটা ডিটেল সার্ভে হওয়ার উচিত |

এই খানে আবার আর একটা বিপদ আছে| সেইটাও এই আলোচনায় বোঝা জরুরি |
সেইটার জন্যে মানগ্রভ ফরেস্ট এর চরিত্র বোঝা দরকার | মানগ্রভ ফরেস্ট এমন এক টা ফরেস্ট যাতে সাগর এর পানির উপর বন জন্মায় | জোয়ার এর সময় সাগর এর পানি মানগ্রভ ফরেস্ট কে প্লাবিত করে এবং ভাটার সময় সেই পানি টা নেমে যায় | এই মান্গ্রভে ফরেস্ট এ খুভ স্পেসিয়াল কিছু প্রজাতির গাছ জন্মায় যারা লোনা পানিতে বেচে থাকে | আমাদের সুন্দরবন এক্সেপশেনাল তার কারণ সুন্দরবন পৃথিবীর বৃহত্তম মান্গ্রভে ফরেস্ট | এই খানে বিপদ হইলো, ভাটার পানিতে যেই পলুটেন্ট বা বিষাক্ত পদার্থ থাকবে সেই পদার্থটা ভাটার সাথে পশুর নদীর গতিপথে যে মানগ্রভ ফরেস্ট এর গাছ আছে সেই খানে ছড়িয়ে যাবেম শুধু মাত্র ভাটার টানে সাগরে নেমে যাবেনা  | যেইটার কারণে, পশুর নদীতে বিষাক্ত পদার্থ পুরা সুন্দরবনের অস্তিত্বের জন্যে ক্ষতিকর |
Les Sundarbans

এই জন্যে পশুর নদীর উজানে একটা কয়লা ভিত্তিক প্লান্ট করার সেনসিটিভিটি অনেক বেশি| কারণ, একটা স্ট্যান্ডার্ড নদীতে যে পলিউটটেন্ট ফেলা হয় তা নদীর গতি পথ ধরে তার পাড়  কে পলিউট করতে করতে সাগরে গিয়ে পরবে| কিন্তু পশুর নদীতে যে পলিউটেন্ট ফেলা হবে, তা দিনে দুই বার ভাটার সময় মানগ্রভ ফরেস্ট এর উপর তার বিষাক্ত পদার্থ ছড়িয়ে দিবে যা গাছের গায়ে গায়ে এবং চোখা চোখা শীর্ষ মূলে এবং মাটিতে  পরে থাকবে |

pic 8

এই জন্যে এই কয়লা প্লান্ট কে জিরো পলিউটেন্ট ডিসচার্জ এর নীতি অবলম্বন করতে বলা হয়েছে | কিন্তু আপত্তির বিষয়  হইলো, রামপাল বিদ্যুত প্লান্ট এর সেই কনসিডারেশান  করা হয় নাই | এইটা একটা ভয়ঙ্কর সিনারিও|

পানির উপর দুষিত পদার্থের প্রভাব

অভিযোগ

তাই আর একাপানি দূষণ অভিযোগ যতই পরিশোধনের কথা বলা হউক, কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে পানি নির্গমন হলে তাতে বিভিন্ন মাত্রায় দূষণকারী উপাদান থাকবেই যে কারণে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্রের বেলায় ‘শূণ্য নির্গমণ’ বা ‘জিরো ডিসচার্জ’ নীতি অবলম্বন করা হয়। যে এনটিপিস রামপালে জিরো ডিসচার্জ‘ নীতি অনুসরণ না করে কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ করতে যাচ্ছেসেই এনটিপিসিই যখন ভারতে কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ করে তখন জিরো ডিসচার্জ’ নীতি অনুসরণ করে যেমন: ভারতের ছত্তিশগড়ের রায়গড়ের কাছে ১৩২০ মেগাওয়াট কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ইআইএ রিপোর্টে বলা হয়েছে: “Zero Discharge concepts will be followed”. (রায়গড় ১৩২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ইআইএ, এক্সিকিউটিভ সামারি, পৃষ্ঠা ই-১২ ). অথচ রামপাল কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ই্আইএ রিপোর্টে বলা হয়েছে: “After treatment, effluent shall be discharged to the Passur River at a rate of 100 m3/hr. Effluent quality shall be monitored at different stage of discharge and intake.” অর্থাৎ “পরিশোধন করার পর তরল বর্জ্য বা ইফ্লুয়েন্ট ঘন্টায় ১০০ ঘনমিটার হারে পশুর নদীতে নির্গত করা হবে।

পানি নির্গমন ও গ্রহণ করার প্রতিটা স্তরেই ইফ্লুয়েন্টের গুনাগুনের উপর নজর রাখা হবে।“ আবার অন্যত্র বলা হয়েছে: “To meet the water demand for plant operation, domestic water, environmental management 9,150 m3/hr (equivalent to 2.54 m3/s) surface water will be withdrawn from the Passur river and after treatment water shall be discharged back to the Passur river at the rate of 5,150m3/hr.

” অর্থাৎ “প্ল্যান্ট পরিচালনা, ঘরোয়া ব্যাবহার, পরিবেশগত ব্যাবস্থাপনা ইত্যাদি কাজে পশুর নদী থেকে ঘন্টায় ৯১৫০ ঘনমিটার পানি সংগ্রহ করা হবে এবং পরিশোধন করার পর পানি পশুর নদীতে ঘন্টায় ৫১৫০ ঘনমিটার হারে নির্গমন করা হবে।“ ঘন্টায় ১০০ ঘনমিটার বা ৫১৫০ ঘনমিটার যাই হোক, কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে পানি নির্গমন করা হলে নির্গত পানির তাপমাত্রা, পানি নির্গমণের গতি, পানিতে দ্রবীভূতি নানান উপাদান বিভিন্ন মাত্রায় পানি দূষণ ঘটাবে যা গোটা সুন্দরবন এলাকার পরিবেশ ধ্বংস করবে।

সরকারী বক্তব্য

EIAতে বলা হইছে যেই সকল পানি পশুর নদীতে ফেরত আনা হবে, তা ওয়াটার ট্রিটমেন্ট করে তার পর ফেলা হবে |

আসল কাহিনী |

অত্যন্ত যুক্তি যুক্ত একটি সমালোচনা |

একই সাথে  এই গুলো কে একটা কয়লা ভিত্তিক প্লান্ট এর মৌলিক ইসু গুলোর আলোকে আর একটু বোঝা দরকার |

আমরা একদম প্রথম পর্বে যখন থার্মাল পাওয়ার প্লান্ট এর ডিজাইন আলোচনা করেছি তখন আমরা দেখেছি, একটা কম্বাইনড সাইকেল প্লেনট এর পানি কেন লাগে এবং পানিতে কি ধরনের পলিউশন হয় | আমরা দেখেছিলাম,  একটা কম্বাইনড সাইকেল প্লান্ট এ কয়লা কে পুড়িয়ে স্টিম তৈরী করা হয় যে  স্টিম টারবাইন কে ঘোরায়| এই স্টিম কে আবার ঠান্ডা করা হয়, নদীর পানি দিয়ে কন্ডেন্সার এর মাধ্যমে | এবং একই পানি বার বার ব্যবহার হয় | এই জন্যেই এই ধরনের প্লান্ট কে ক্লোজ  সাইকেল প্লান্ট বলে | এবং আমরা দেখেছি,  নদীর যেই পানিটা এই স্টিমকে ঠান্ডা করতে ব্যবহার করা হয় তাকেই আবার কুলিং টাওয়ার এর উপর তুলে কিছু পাইপের ভেতর দিয়ে ছেড়ে দেয়া হয় যে আসতে আসতে নিচে নেমে আসে এবং ঠান্ডা হয় | এবং একটা  প্লান্ট এর যে পানি  লাগে তার মধ্যে  ঠান্ডা করতেই  ৮০% পানি ব্যবহার হয় |

রামপাল এর EIAবলছে এই কুলিং এর কাজেই ৯১৫০  m3/hr এর মধ্যে  ৭৩৫০ m3/hr ব্যবহার হবে | এই পানির মধ্যে কিছু অংশ   জলীয় বাষ্প হয়ে উড়ে যাবে এবং বড় একটা অংশ ফিরে আসবে | আমাদের জন্যে বোঝা খুব জরুরি হলো, এই কুলিং এর কাজে ব্যবহৃত পানিতে সিগনিফিকেন্ট কোনো দূষণ হবেনা |

কারন, পাইপের মধ্যে গিয়ে কন্ডেন্সার এর মধ্যে গিয়ে স্টিম কে ঠান্ডা করে সে আবার নদীতে ফিরে যাবে|  এই প্রসেস টাই  কিন্তু জিরো লিকুইড ডিসচার্জ বলে | পানি কে সম্পূর্ণ বাষ্প করে আলাদা করে ফিরিয়ে আনা | আমাদের আবার একটু ফিরে যাই, কয়লা প্লান্ট এর ডিজাইনে | এফ্লুএননট ট্রিটমেন্ট প্লান্ট করার মূল কারণ টা যদি আমরা দেখি তা হলো, কম্বাইনড সাইকেল এর মধ্যে যে হিট লস হয় তাকে পুরা  করার জন্যে কিছু পানি রেগুলার ফিল আপ হিসেবে দেয়া হয়|  সেই সব পানি যেন বয়লারকে জং না ধরায় তার জন্যে  যেই পানি টা ঢোকানো হয় তাকে প্রথমে ট্রিটমেন্ট করা হয় এবং এই ট্রিটমেন্ট করা পানি বয়লারে ঢোকানো হয় | তাহলে দেখা যাচ্ছে, যেই  পানিকে ট্রিটমেন্ট করা হয় সেই পানির সোর্স কেই পরিষ্কার করে আবার উত্সে ফিরিয়ে দেয়া হয় | ফলে এই পর্যায়েও তেমন কোনো দূষণ  হয় না |

একটা  কয়লা ভিত্তিক প্লান্ট এর মূল দূষণ টা হয় এশ স্লারী থেকে যে  পানি নির্গত হয় তো সেই খান থেকে অনেক  হেভি মেটেরিয়াল যুক্ত  হয় |

তাই এই পানিকেও  আবার ওয়াটার ট্রিটমেন্ট করা হয় |  হেভি মেটেরিয়াল যুক্ত পানি, নদীতে ফিরিয়ে দেয় হয় না |   EIA অনুসারে এই প্রভিশন টা রাখা হইছে যাতে এই হেভি মেটেরিয়াল গুলো পানিতে  ফিরে না আসে |

আর একটা দূষণ হয় যখন FGD ব্যবহার করা ও মার্কারী কি ধরার জন্যে ACI বা অ্যাডভান্সড কার্বন ইনজেকশন পদ্ধতি  করা হয় তখন অনেক ধরনের কেমিকেল কে কেপচার করা হয় এবং এই কেমিকেল কেপচার করার জন্যে আরো কিছু কেমিকেল ব্যবহার করা হয় |  যেই গুলো কে কাপচার করার জন্যে, জিরো লিকুইড ডিসচার্জ বা জিরো ডিসচার্জ পদ্ধতি ব্যবহার করা হয় | জিরো লিকুইড ডিসচার্জ বিষয়টা তত্বগত ভাবে খুবই সহজ |

এর মানে হইলো, যেই সব পানিতে দুষিত পদার্থ আছে তাকে বাষ্প করে পানি টাকে আলাদা করে নেয়া এবং দুষিত পদার্থ তাকে কঠিন পদার্থ হিসেবে আলাদা করে নেয়া| বোঝার বিষয় হইলো, যদি এই FGD ব্যবহার না করা হয় (যেইটা রামপাল এ এখন করা হচ্ছেনা, কিন্তু করা অতিব প্রয়োজনীয়) তখন ওয়েস্ট ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট টা সম্পূর্ণ জিরো ডিসচার্জ করা হয় না  |

কারণ, FGD এবং মার্কারী কে কেপচার করার এই কাজ গুলো বাদে কয়লা ভিত্তিক প্লান্ট থেকে যেই দুষিত  পদার্থ বের হয় তাকে যথেষ্ট সফলতার সাথে এফ্লুএনট ট্রিটমেন্ট প্লান্ট দিয়ে পরিশোধন করা যায় |  এবং পরিশোধন এর পর যেই টুকু রয়ে যায় তা সহনশীলতার সীমার মধ্যে থাকে |  এই জন্যে কয়লা ভিত্তিক প্লান্টে এই এফ্লুএনট টেকনোলজি টা আজ ইন্ডাস্ট্রি স্ট্যান্ডার্ড হিসেবে বিশ্বের বিভিন্য দেশে ব্যবহার করা হয় |

সাথে এইটাও বলে রাখা উচিত, এই সহনশীলতার সীমা টা নির্ধারণ করাটা একটা বড় নীতি নির্ধারণী প্রশ্ন |

মার্কিন যুক্তরাসট্রের কথা যদি ধরি তাহলে সেখানে ক্লিন ওয়াটার একট এর নতুন যে আইন করা হয়েছে তার ফলে প্রতি টা কয়লা প্লান্ট এ , জিরো ডিসচার্জ নীতি মাস্ট হয়ে গেছে  সব নতুন প্লান্ট এর জন্যে | এই গুলো বাদেও কয়লার পরিবহন এবং স্টোরেজ থেকে পানি দুষিত হতে পারে , যদিও স্টোরেজ এর থেকে যে পানি টা বের হয় তাকেও ওয়াটার ট্রিটমেন্ট করা হয় | তাছাড়া কনডেন্সেট  কে ধোয়া হলেও পানি দূষণ হয় | তাহলে দেখা যাচ্ছে, যে কয়লা ভিত্তিক প্লান্ট থেকে পানিটে মাত্রাতিরিক্ত দূষণীয় পদার্থ নির্গমন এর সুযোগ নাই যদি ঠিক মত এফ্লুয়েন্ট ট্রিটমেন্ট করা হয়  |

তারপরেও  দেখ যাবে কিছু বিষাক্ত পদার্থ নির্গত হবে, কিন্তু সেইটা  টলারেন্ট লেভেল এর ভেতরে  থাকলে পরিবেশ এর উপর দীর্ঘ মেয়াদী প্রভাব পরার কথা না | কিন্তু অনেক গুলো সমালোচনায় দেখা যাচ্ছে , পানিতে  টলারেন্ট লেভেল এর মধ্যে থেকেই কি কি পদার্থ নির্গত হবে সেইটা বলার সাথে সাথে বলে দেয়া হচ্ছে, এর ফলে পুরো সুন্দরবন এলাকার পরিবেশ ধংশ করে দিবে | দুর্ঘটনা বাদে কয়লা ভিত্তিক প্লান্ট থেকে, অত্যন্ত বেশি মাত্রায় দূষণ হয়ে আসে পাশের জলজ পরিবেশ ধংশ  হয়ে যায় টা কোনো ধরনের রিসার্চ দ্বারা সাপোর্টেড না এবং এর কোনো  রেফারেন্স কথাও খুঁজে পেলাম না | আমি বরং দেখলাম গরম পানি নামার কারণে, ইমিডিয়েট এলাকায় জলজ বস্তুর উপর  প্রভাব টা নিয়ে কনসার্ন বেশি |

একটা কয়লা ভিত্তিক প্লান্ট থেকে ওয়েস্ট ওয়াটার ট্রিটমেন্ট করার পরেও কিছু অংশে হেভি মেটেরিয়াল রয়ে যেতে পারে যার ফলে একটা নির্দিষ্ট দূরত্ব পর্যন্ত জলজ প্রাণীর মধ্যে বেশ কিছু দূষণ দেখা দিতে পারে | এই দূষণের  পরিমান ও নেগ্লিজেবল হবার কথা কারণ কয়লা ভিত্তিক প্লান্ট এর দূষণ টা মূলত বায়ু মন্ডলে হয় | পানির কাজ টা হইলো কন্ডেনসার  কে ঠান্ডা করা আর রিফিল পানি রে পীয়র করতে ট্রিটমেন্ট করা  |

আমাদের দেশের EIA  এর ভিত্তিতে অনেক গুলো সমালোচনায় বলা হচ্ছে, ১০ কিমি এলাকার ৫৫০০ টন মাছ ধংশ হয়ে যাবে বা মানুষের মধ্যে এই ধরনের পারসেপশনও ঢুকে পরেছে  | এই গুলো রিসার্চ দ্বারা সাপরটেড না |

হইলে সারা দুনিয়াটে আর কেও কয়লা ভিত্তিক প্লান্ট করত না | কয়লা ভিত্তিক প্লান্ট এর ডিজাইন এর মধ্যেই পানির দূষণের ব্যাপারটা মিনিমাইজ করা হইছে এবং অত্যন্ত নেগ্লিজেবেল লেভেল এ নিয়ে আনা হইছে | এখন সেইটা সরকার না করলে সেইটা অন্য জিনিস কিন্তু কয়লা ভিত্তিক প্লান্ট করলেই সুন্দরবনের শুশুক মরে যাবে, ৫৫০০ টন মাছ ধংশ হয়ে যাবে, এইটা রিসার্চ দ্বারা সাপোরটেড  না  | বিশ্বের প্রতি টা দেশে নদীর পারে বা সাগরের পড়েই  কয়লা ভিত্তিক প্লান্ট হচ্ছে, লক্ষ্ লক্ষ্ গিগা ওয়াট এর ভারত থেকে কম্বোডিয়া, ব্রাজিল থেকে সাউথ আফ্রিকা , চীন থেকে চিলি  | কোথাও নদীর  প্রাণী এবং মাছ মরে যাচ্ছে না | বা মাছ চাষ বন্ধ হয়ে যাচ্ছেনা বা গাছ মরে যাচ্ছেনা |

কয়লা কে নিয়ে মূল সমালোচনা গ্রিন হাউস গ্যাস নির্গমন রিলেটেড এবং সালফার ও মার্কারী এমিশন রিলেটেড যার প্রতিটার সমাধান করা হইছে প্রযুক্তির মাধ্যমে |

এবং একটা কয়লা ভিত্তিক কম্বাইনড সাইকেল প্লান্ট এর কি ক্ষতি হবে টা অত্যনত  অয়েল রিসার্চড করা একটা সাবজেক্ট | আমাদের দেশে সায়েন্টিস্ট রা কোয়ানটেটিভ এনালাইসিস করে বলে দিচ্ছেন , এই প্লান্ট থেকে ১০ কিমি দুরে পানি, উদ্ভিদ জীবন খাতে সুন্দরবন ও সংলগ্ন  গ্রাম এর প্রাণী ও উদ্ভিদ সম্পদ এর মারাত্মক হ্রাস পাবে| এবং এর ফলে অপুরনীয় ক্ষতি হবেই হবে | পানির স্তর নিচে নেমে যাবে |

এই সমালোচনা গুলো  কোনো ধরনের কনটেক্সট এ প্লেস না করার কারণে মনে হচ্ছে,  ১০ কিমি এলাকার সব মাছ মরে যাবে |  অনান্য দেশের অভিজ্ঞতা থেকে এই ধারণা গুলো  সাপোর্ট করে না | কিন্তু আমরা এই আইডিয়া গুলো হবেই বলে ধরে নিচ্ছি |

শব্দ দূষণ

অভিযোগ কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্রের টারবাইন, জেনারেটর, কম্প্রেসার, পাম্প, কুলিং টাওয়ার, কয়লা উঠানো নামানো, পরিবহন ইত্যাদির কাজে ব্যাবহ্রত যন্ত্রপাতি ও যানবাহন থেকে ভয়াবহ শব্দ দূষণ হয়। সুন্দরবন এলাকায় রামপাল কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্র পরিচালনার সময় বিদ্যুৎ কেন্দ্র এলাকায় পরিবেশ অধিদপ্তরের বেধে দেয়া মাত্রার(দিনের বেলা ৫০ ডেসিবল, রাতে ৪০ ডেসিবল) চেয়ে বেশি শব্দ তৈরী হবে বলে ইআইএতে স্বীকার করা হয়েছে

সরকার পক্ষে আঞ্জুমান ইসলাম এর বক্তব্য

এই তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের কারণে সুন্দরবনে শব্দদূষণ বাড়ার কোনো কারণই নেই।

এমনিতেই মংলা বন্দর জেটি সুন্দরবনের দশ কিলোমিটারের সীমারেখার চেয়ে মাত্র ১ কিলোমিটার দূরে, সেটির আধুনিকায়নে যথেষ্ট পরিমাণ ভারি যন্ত্রপাতি ব্যবহার হচ্ছে/হয়েছে। পশুর নদীর নাব্যতা ধরে রাখার জন্য সেখানে এখনও ড্রেজিং চলছে। আর নির্মাণকাজের যে শব্দের কথা বলা হচ্ছে সে ব্যাপারে (১০+৪ =) ১৪ কিলোমিটার দূরত্বটি মাথায় নিয়ে ভাবার জন্যে অনুরোধ করছি। সদরঘাটে নির্মাণকাজ চললে সেই শব্দ ১৪ কিলোমিটার দূরে মিরপুরে পৌঁছানোর ব্যাপারটি কি যৌক্তিক? সেখানে সুন্দরবনের স্পর্শকাতর জায়গাগুলো ৭২ কিলোমিটার দূরে। আসল কাহিনী এই অভিযোগ এর দুইটা ইস্যু |

একটা হইলো আকরাম পয়েন্টে যদি কয়লা উঠানামা করা হয় তবে সেই খানে শব্দ দূষণ হবে এবং  প্রজেক্ট এলাকা রামপাল এও শব্দ দূষণ হবে| প্রজেক্ট এলাকার শব্দ দূষণের ব্যাপারে আঞ্জুমান ইসলাম এর বক্তব্যে সারবত্তা আছে বলে মেনে নিতে হবে |

কারণ, রামপাল সুন্দরবনের ভেতরে নয় | রামপাল সুন্দরবনের শেষ সীমানা  থেকে ১৪ কিমি দুরে| এবং অভিযোগে যেইটা পরিষ্কার করে আসেনি তা  হলো  EIAতে বলা হয়েছে, এই প্রজেক্ট  এর টারবাইন, টারবো জেনারেটার, পাম্প,ফেন সব কিছু  মাক্সিমাম ৯০ db এর মধ্যে কাজ করবে | ফলে, ৯০ db টা ই হলো নয়েস এর রেফারেন্স পয়েন্ট | এখন আমরা একটু দেখি ৯০ db নয়েস বলতে আমরা কি বুঝি | http://www.industrialnoisecontrol.com/comparative-noise-examples.htm উপরের লিংক এ আমরা দেখি  একটা নিউজ পেপার প্রেস এর নয়েস লেভেল ৯০ db| একটা রক কনসার্ট এর নয়েস লেভেল ১১০ db |

এইটা পরিষ্কার রামপাল এলাকার শব্দ দূষণ যদি ৯০ ডিবি হয় তো তার শব্দ দূষণ সুন্দরবন এলাকায় পর্যন্ত পৌছুবে না | কিন্তু দ্বিতীয়  অভিযোগ  টা সঠিক এবং  সিরিয়াস ইস্যু আকরাম পয়েন্ট এর উপর যদি কয়লা  উঠা নামা হয় তবে তার পাশেই যে ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট সেই খানে শব্দ দূষণ হতে পারে | কিন্তু, কয়লা উঠা নামা করতে কত ডেসিবেল সাউন্ড হবে তা EIA তে বলা হয় নাই | এই খানে একটা বড় প্রশ্ন | আকরাম পয়েন্ট হটাত  করে কবে  বাংলাদেশের গভীর সমুদ্র বন্দর হয়ে উঠলো | এত বড় একটা নীতি নির্ধারণী প্রশ্ন হটাত করে কেন একটা কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুত কেন্দ্রের জন্যে নেয়া হয়েছে |

এইটা আসলেই একটা ইম্পর্টান্ট প্রশ্ন | হটাত  করে, আকরাম পয়েন্ট কে ডিপ সি পোর্ট এর মত ব্যবহার  করার মানে কি ? এর জন্যে কি  আলাদা EIAকরা হইছে ? আকরাম পয়েন্ট এর দুই কিমি এর মধ্যেই  ইউনেস্কো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ  সাইট | সেই খানে যদি কয়লা উঠা নামা করতে হয়, তো তার একটা প্রপার  EIAকরতে হবে | এইটা তো রাষ্ট্রীয় লেভেল এ নীতি নির্ধারণী প্রশ্ন, এইটা এত সহজে  এমনি  এমনি করে ফেললেই তো   হবেনা |

সুন্দর বনের ভেতর দিয়ে কয়লা পরিবহনের ফলাফল অভিযোগ 

রামপাল কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য আমদানীকৃত কয়লা সুন্দরবনের ভেতর দিয়েই পরিবহন করা হবে! এ জন্য সুন্দরবনের ভেতর দিয়ে প্রায় সারা বছর ধরে হাজার হাজার টন কয়লা পরিবহনকারী জাহাজ চলাচল করে গোটা সুন্দরবনের পরিবেশ ধ্বংস করে ফেলবে। বছরে ৪৭ লক্ষ ২০ হাজার টন কয়লা প্রথমে বড় জাহাজে করে কয়লা সুন্দর বনের আকরাম পয়েন্ট পর্যন্ত আনতে হবে, তারপর আকরাম পয়েন্ট থেকে একাধিক ছোট লাইটারেজ জাহাজে করে কয়লা মংলাবন্দরে নিয়ে যেতে হবে। এর জন্য সুন্দর বনের ভেতরে হিরণ পয়েন্ট থেকে আকরাম পয়েন্ট পর্যন্ত ৩০ কিমি নদী পথে বড় জাহাজ বছরে ৫৯ দিন এবং আকরাম পয়েন্ট থেকে মংলা বন্দর পর্যন্ত প্রায় ৬৭ কিমি পথ ছোট লাইটারেজ জাহাজে করে বছরে ২৩৬ দিন হাজার হাজার টন কয়লা পরিবহন করতে হবে!

এর  ফলে-

১) কয়লা পরিবহনকারী জাহাজ থেকে কয়লার গুড়া, ভাঙা /টুকরো কয়লা, তেল, ময়লা আবর্জনা, জাহাজের দূষিত পানি সহ বিপুল পরিমাণ বর্জ্য নি:সৃত হয়ে নদী-খাল-মাটি সহ গোটা সুন্দরবন দূষিত করে ফেলবে;

২) সুন্দরবনের ভেতরে আকরাম পয়েন্টে বড় জাহাজ থেকে ছোট জাহাজে কয়লা উঠানো নামানোর সময় কয়লার গুড়া, ভাঙা কয়লা পানিতে/মাটিতে পড়ে- বাতাসে মিশে মাটিতে মিশে ব্যাপক পানি-বায়ু দূষণ ঘটাবে;

৩) চলাচলকারী জাহাজের ঢেউয়ে দুইপাশের তীরের ভূমি ক্ষয় হবে;

৪) কয়লা পরিবহনকারী জাহাজ ও কয়লা লোড-আনলোড করার যন্ত্রপাতি থেকে দিনরাত ব্যাপক শব্দ দূষণ হবে;

৫) রাতে জাহাজ চলের সময় জাহাজের সার্চ লাইটের আলো নিশাচর প্রাণী সহ সংরক্ষিত বনাঞ্চল সুন্দরবনের পশু-পাখির জীবনচক্রের উপর মারাত্বক ক্ষতিকর প্রভাব ফেলবে ইত্যাদি। EIA তে এবং সরকার পক্ষের বক্তব্য সুন্দরবনের ভেতরে দিয়ে কয়লা পরিবহণের এই সব ফলাফল বর্ণনা করে আবার সমীক্ষায় আশাবাদ প্রকাশ করা হয়েছে জাহাজ চলাচলের আন্তর্জাতিক আইন, বাংলাদেশের পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ইত্যাদি মেনে চললে, জাহাজ ধীর গতি চলাচল করলে, অপ্রয়োজনে শব্দ না করলে ও সার্চ লাইটের অপ্রয়োজনীয় ব্যাবহার নিয়ন্ত্রণ করা হলে নাকি এইসব ভয়ংকর ক্ষতির প্রভাব সুন্দরবনের পরিবেশের উপর মাইনর বা সমান্য হবে!

শত শত জাহাজ পশুর নদীর মধ্যে দিয়ে প্রায় ১০০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে মংলা বন্দরে পৌঁছায়। সেখানে সপ্তাহে একটি Mother Vessel আক্রাম পয়েন্ট পর্যন্ত এবং দৈনিক একটি করে বার্জ আক্রাম পয়েন্ট হতে বিদ্যুৎ কেন্দ্র চলাচল করবে বিধায় বাড়তি দুটি জাহাজ চলাচলে কোন ক্ষতি হবার সম্ভাবনা নেই। তার উপর আবার মংলা বন্দরের আধুনিকায়ন ও এর সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করার জন্যে জাহাজ সংখ্যা বাড়ানোর জন্য শ্রমিকদের একটি জোরালো দাবি রয়েছে। আসল কাহিনী রামপাল এলাকার মাপটা দেখেন rampal area

মাপ এ দুই টা ট জায়গা মার্ক করে দিচ্ছি |

এর মধ্যে মংলা বন্দর টা দেখেন আর বিদ্যুত কেন্দ্রের অবস্থান দেখেন | রামপাল এর সাইট মঙ্গা বন্দর থেকে দুই কিমি উজানে | তার মানে, রামপাল হোক কি না হোক আমরা যেই এলাকার জাহাজ পরিবহনের কারণে দূষণের কথা বলছি, সেই এলাকার পুরো পথেই ইতিমধ্যে মংলার জাহাজ চলে |  তাইলে এইটা খুব ভালো  প্রশ্ন, এখনি যদি এই পথে জাহাজ চলে তাহলে একই পথে রামপাল এর জন্যে ডেইলি অতিরিক্ত একটা জাহাজ চললে অসুবিধা কি

? এইটা রামপাল এর  যে সমালোচনা হচ্ছে সেই সমালোচনার বিরুদ্ধে যুক্তিযুক্ত একটা অভিযোগ | ঠিক আছে |

কিন্তু অসুবিধা অন্য জায়গায় |

সমস্যা টা শুধু রামপাল নিয়ে না | সমস্যা আসলে পুরো নদী পথ টা নিয়ে যেইটা নিয়ে পরিবেশবিদ রা বিগত দুই বছর ধরে হাই লাইট করছে কিন্তু সরকার কোন নজর দিচ্ছে না |বর্তমানে রামপাল এর বিদ্যুত কেন্দ্র হবার আগেই সুন্দরবনে একটা ব্যপক দূষণ করা হইছে | ইতিপূর্বে, খুলনা হয়ে মংলা বন্দরের দিকে নৌযানগুলো ঘসিয়াখালী খাল দিয়ে আসা-যাওয়া করত। প্রায় নয় কিলোমিটার আয়তনের ওই খালটি খননের অভাবে ভরাট হয়ে গেছে। এই খাল দিয়ে জাহাজ চলার পথ ছিল নিরাপদ এবং এইটা সুন্দরবন কে বাইপাস করে যেত | কিন্তু পলি জমে ভরাট হয়ে যাওয়ার ফলে এই খালটির নাব্যতা কমে যায় |

ফলে ২০১১ সালের নভেম্বর থেকে বিআইডব্লিইউটিএ সুন্দরবনের ভেতর দিয়ে সন্ন্যাসী-রায়েন্দা-বগী-শরণখোলা-দুধমুখী-হরিণটানা-আন্ধারমানিক-মুগমারী-চাঁদপাই-জয়মণিরগোল হয়ে মংলা বন্দরে যাওয়ার অনুমতি দেয়।

এই নিয়ে প্রথম আলোর একটা প্রতিবেদন http://environmentmove.com/?p=2348#

সরকার এর অবহেলার কারণে  সুন্দর বন এর ভেতর দিয়ে প্রায় ১৮০ কিলিমিটার পথ পারি দিয়ে সুন্দরবন কে দুষিত করে এই পথ দিয়ে এখন সব জাহাজ চলাচল করে|এই পথে যদি রামপাল এর জন্যে আসা জাহাজ গুলো এড হয় তবে দূষণের মাত্রা আরো বাড়বে |

আকরাম পয়েন্ট এর নিয়ে সমালোচনা আমি আগেই করছি | কোনো ধরনের EIA না করে, ইউনেস্কো হেরিটেজ সাইটের মধ্যে ডিপ সি তে  কয়লা ট্রান্সপোর্ট করা গ্রহনযোগ্য নয় | এই সব কারণে মংলা বন্দর সহ একটা কালেকটিভ EIAকরা টা আমি এই লেখায় সাজেস্ট করছি | আমি মনে করি, রামপাল এর জন্যে যে জাহাজ পরিবহন  হবে তার আসল আপত্তি হওয়া উচিত একটা  কালেকটিভ EIA করার  দাবি , আউটরাইট বাতিল করে দেয়ার দাবি না |

ভারতের ইনভেস্টমেন্ট ইস্যু

অভিযোগ

রামপাল নিয়ে আর একটা ইম্পর্টান্ট  সমালচনা হইলো ভারতীয় কোম্পানির সাথে ৫০% শেয়ারিং করে চুক্তি করা হচ্ছে  অথচ সেই খানে ভারতীয় কোম্পানি ইনভেস্ট করবে মাত্র ১৫% এবং বাংলাদেশ করবে ১৫% আর বাকি ৭০% লোন নেয়া হবে |তার মানে এই প্রজেক্ট এর প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকা ইনভেস্টমেন্ট এর মধ্যে ভারত বহন করবে মাত্র  ১৮০০  কোটি টাকা এবং বাংলাদেশের জনগণ করবে ১০ হাজার দুই শ  কোটি টাকা

বিপক্ষের বক্তব্য

এই চুক্তির পক্ষে যারা তারা বলছেন এইটা ভারত বিরোধিতা | এমন চুক্তি হইতেই পারে , এতে দোষের কিছু নেই | এবং বামেরা নাকি চীন যদি এই রকম প্লান্ট করতো তাইলে এই সমালোচনা করত না|

আসল কাহিনী

এইটা আজ  অবভিইয়াস্লি একটা বাংলাদেশের স্বার্থ বিরোধী চুক্তি  , এইটা যদি কেও দেখতে না পরে এবং কেও যদি বলে এই চুক্তির বিরোধিতা করা ভারত বিরোধিতা তাকে বেসিক রিজনিং এর ক্ষমতা এবং তার স্বার্থ নিয়ে প্রশ্ন তুলতেই হবে |

ভারত যদি বাংলাদেশের এত উপকার করতে চায় , তো সে ১৫% কেন ইনভেস্ট করবে ? আর পৃথিবীর কোন ব্যবসায় কে ১৫% ইনভেস্ট করে ৫০% এর মালিক হয় |

আরো ভয়ঙ্কর হচ্ছে, এই প্রকল্পের চুক্তি টে ভারত কে সকল ট্যাক্স থেকে মাফ করে দেয়া হইছে | এইটা পৃথিবীর কোনো দেশ করবেনা, কিন্তু আমাদের সরকার করছে |

ইন্টেরেস্টিংলি খোজ করলে দেখবেন, ভারতের NTCPC  কিছু দিন আগে শ্রীলংকাতেও একটা বিদ্যুত প্রকপ্লের জন্যে চুক্তি করছে| ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুত উদপাদন এর এই চুক্তি সাক্ষর হইছে বেহসি দিন হয় নাই |

আমরা একটু দেখি তারা কি ভিত্তিতে এই চুক্তি করছে ? তারা ৫০/৫০ ইকুইটি শেয়ার করছে এবং এইটার জন্যে ভারত 200 মিলিয়ন ডলার ক্রেডিট দিচ্ছে |

আর আমরা কি করছি, আমরা ভারতের সাথে ৫০% শেয়ার করছি আর ৭০% লোন নিছি কোনো ফায়নান্সিং অর্গানাইজেসন এর কাছ থেকে |

আমরা যে বলি আওয়ামী লিগ ভারতের কাছে দেশের স্বার্থ বেচে দিয়ে ভারতের স্বার্থ দেখে তার সর্বোত্কৃষ্ট প্রমান রামপাল এর এই  চুক্তি |

এই চুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশের জনগণ কে একটা ত্রিপল হয়ে বাস দেয়া হয়েছে |

এক | ১৫% মাত্র ইনভেস্ট করে ভারতকে ৫০% মালিকানা  দেয়া হয়েছে | আর এক দিক থেকে যদি দেখেন তো এই ৮৫% বৈদেশিক মুদ্রা দিয়ে এই বিদ্যুত কেন্দ্র বানানোর ১০ হাজার ২০০  কোটি টাকার চাপ বাংলাদেশের জনগণ এর উপর চাপিয়ে দেয়া হয়েছে | তার মানে এই ১০  হাজার ২০০ কোটি টাকা র  লোন কি এই দেশের জনগণ কে ঠিক ই পরিশোধ করতে হবে |

খ | যেই মালিকানার কারণে বিদ্যুত কেন্দ্র টি চালু হবার পর থেকে, ৫০% লাভ ভারত  ফরেন কারেন্সি হিসেবে নিয়ে যাবে, টাক্স ফ্রি | ফলে মাত্র ১৫% ইনভেস্টমেন্ট করে প্রতি দিন এই বিদ্যুত উত্পাদন করে জনগন কে সেল করে যে লাভ হবে তাকে  মূল্যবান বৈদেশিক মুদ্রা হিসেবে ভারতে নিয়ে যাওয়া হবে |

গ | একই সময় কয়লা ইম্পোর্ট করতে গিয়ে বাংলাদেশের জনগণ কে মূল্যবান বৈদেশিক মুদ্রা করছ করতে হবে |

এইটা যে এই দেশের জনগণ এর উপর কত বড় একটা অসততা এবং কি পরিমান দেশ বিরোধী একটা ন্যাক্কারজনক চুক্তি টা বলার ভাষা নাই |

এখন ভারত যদি সত্যি একটা বিদ্যুত কেন্দ্র বাংলাদেশ কে করে দেয় তো সেইটা কেমন হওয়া উচিত ?

কথার কথা সেইটা হইতে পারে ভারতীয় লোন বা অন্য কোনো লোন  | সেই ক্ষেত্রে ভারত দিক আর যেই দিক , সেই লোন এর টাকা আমরা ফেরত দিব কিন্তু প্রজেক্ট এর পূর্ণ মালিক থাকবে বাংলাদেশের জনগণ |

এই প্রজেক্ট চালাতে ntcpc কে আমরা  প্রয়োজনে একটা মোটা  অঙ্কের সার্ভিস চার্জ দিব,একটা সুনির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত যেই সময় পর্যন্ত তারা বাংলাদশের পাওয়ার ডেভেলপমেন্ট কোম্পানির লোক দের ট্রেনিং  দিবে |

নাইলে আমাদের কেন ভারত কে লাগে এই প্রজেক্ট করতে ? যদি  আমাদের এই নো হাউ না থাকে তো এই ধরনের টার্মসে বিশ্বের অনেক দেশ আমাদের কে এই প্রজেক্ট করে দিবে |

আলটিমেটলি এই প্রজেক্ট এর যে লোন সেই টাকা বাংলাদেশ রাষ্ট্রকেই বহন করতে হবে | এক দিকে আমরা একটা প্রজেকটের  লোন এর টাকা ফেরত দিব ১১,০০০ কোটি টাকা  তারপর  সেই লোন এর টাকা দিয়া  উচ্চ দামে  এই  বিদ্যুত কেন্দ্র থেকে বিদ্যুত কিনব এবং এতে যেই লাভ হবে সেই লাভ এর টাকার  ৫০% ভারতীয় কোম্পানি বৈদেশিক মুদ্রায় নিয়ে যাবে ২৫ বছর ধরে কয় এক বিলিয়ন ডলার   -এইটা যে একটা অসম এবং নেক্কারজনক   দেশের স্বার্থ বিরোধী চুক্তি তা একটা ক্লাস ফাইভ এর বাচ্চাও বুঝে কিন্তু আমাদের সরকার  বুঝে না |

এই খানে দ্বিতীয় পর্ব সমাপ্ত | ফাইনাল পর্বে থাকবে, এই পুরো আলোচনার উপর ভিত্তি করে কি কনক্লুশান দাড়াইল,  আমাদের এনার্জি মিক্স নিয়া কিছু কথা , মধ্যবিত্তের পরিবেশ রোমান্টিকতা নিয়া কিছু গালাগালি এবং দি এন্ড |

PART 1: সহি রামপাল নামা – পর্ব ১

2 comments

  1. ভালো লিখেছেন। ভীষণ তথ্যবহুল, সরকারী অপপ্রচারগুলো খুব স্পষ্টভাবেই এসেছে এখানে।
    শাহেরীন আরাফাতের এই লেখাটাও পড়ে দেখতে পারেন। এটা অনেক তথ্যবহুল। বিকল্প জ্বালানীর উপর লেখা।
    http://www.mongoldhoni.net/alternative-energy-is-the-ultimate-solution-and-huge-prospects-of-geothermal-energy-in-bangladesh/

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s