Ekusher Prothom Kobita

Ekusher Prothom Kobita

By Ikhtisad Ahmed for AlalODulal

History exists in the abstract. Vague theories are posited, established and refuted, but rarely felt. Over the years mankind has perfected this art-form into an exact science. Regrettably, Bangladesh never got the instruction manual. Not only is it a country that, despite being the victors in a hard, violent struggle against oppressors, never wrote a precise history universally acknowledged, it has also shamelessly indulged in unbridled revisionism. The deep divisions created internally as a result has taken history away from the people and turned it into a reliable weapon of the ruling class.

I have, thankfully, not been deprived of my history and heritage. I felt the full force of it on the 23rd of December 2007. I was in London at the time, an inconsolable wreck in the arms of my future wife, barely able to make out the images of a sea of people at the Dhaka Shaheed Minar that were blurred by the rivers that ran from my eyes. A man most dear to me, my friend, my mentor, my teacher, my idol, had died. His modesty forbade him during his lifetime to ever fully explain to me his inseverable tryst with the monument at which he lay in repose, the reason for his being a hero to a nation and its people.

In the evening of the 21st of February 1952, Mahbub ul Alam Chowdhury lay in bed, consigned to it by a bout of chicken-pox and fever of a hundred and four degrees Fahrenheit. News reached him of the defiant people’s movement in Dhaka to protest Urdu being the only national language of Pakistan. This insult, the latest gambit by an oppressive West Pakistan to subjugate and colonise East Pakistan, was made worse by the fact that Bangla was the most widely spoken language in the whole of Pakistan by a country mile.

Mahbub ul Alam Chowdhury was told about the horrific quashing of the protests that had claimed the lives of innocents and injured countless numbers. In a fit of fury that betters any muse, he penned a seventeen-page demand for justice and end of oppression without pause, thereby quite literally writing himself into history as Ekusher Prothom Kobi. Amongst his impassioned lines that conveyed the sentiments of the people was spelt out “independence”, evidence, if any was needed, that it had been conceived by the people nineteen years before their political leaders pronounced it.

For his troubles he was rewarded with a bounty being put on his head and an arrest warrant being issued. The law enforcement officials that descended on him decided to allow him to recover before being apprehended. They guarded him day and night while he convalesced. Friends and relatives pleaded with him to live, to continue the fight. Once convinced, he was smuggled away, dressed in a burqa, from under the noses of the sentinels. His words of revolution suffered a worse fate. After being read at a large public protest rally on the 23rd of February, all copies were confiscated and burnt. The Kohinoor Printing Press in Chittagong that printed them was ransacked. It was not until the 1990s that a public appeal brought a termite-ridden copy to light. The entire poem had not survived, but, as was the case even during the lost years, its spirit and purpose had never waned.

None of this had been made known to me by him, my maternal grandfather. The public and private eulogies that followed his passing informed me of most of it. I was, however, not surprised. I had grown up in the shadow of a man who had only ever allowed the best angels that resided within him to dictate his life and inspire those around. My identity, the answer to all existential questions, became a relentless pursuit of values, history, heritage, culture, equality, justice and revolution. Nana did that without ever bringing himself or his life’s work into the discourse. He emphasised that it was always about and for the people and humanity. I acknowledged as an incontrovertible truth that the only motivation, the only reason, for ever doing anything is being on the side of right.

This year marks the sixty-second anniversary of the Language Movement and Ekusher Prothom Kobita, though the latter was never stressed to me. He could have spared me the stories, the teachings, the discussions, and imparted the sum-total of the wisdom contained within them by simply reading that poem to me every day, by telling me how and why it came about, by allowing it to be memorised and digested. He chose not to, for he was a humble giant of a man. I live with “Kandte Ashini, Phashir Dabi Niye Eshechhi” every day of my life now. It is an eternal conversation that I have with Nana, and a promise to him that I dedicate my life to keeping.


[The original poem in Bangla, sourced from https://priyokobita.wordpress.com/tag/kandte-ashini-fashir-dabi-niye-eshechi/]

কাঁদতে আসিনি ফাঁসির দাবি নিয়ে এসেছি – মাহবুব উল আলম চৌধুরী

ওরা চল্লিশজন কিংবা আরো বেশি
যারা প্রাণ দিয়েছে ওখানে—রমনার রৌদ্রদগ্ধ কৃষ্ণচূড়ার গাছের তলায়
ভাষার জন্য, মাতৃভাষার জন্য—বাংলার জন্য।
যারা প্রাণ দিয়েছে ওখানে
একটি দেশের মহান সংস্কৃতির মর্যাদার জন্য
আলাওলের ঐতিহ্য
কায়কোবাদ, রবীন্দ্রনাথ ও নজরুলের
সাহিত্য ও কবিতার জন্য
যারা প্রাণ দিয়েছে ওখানে
পলাশপুরের মকবুল আহমদের
পুঁথির জন্য
রমেশ শীলের গাথার জন্য,
জসীমউদ্দীনের ‘সোজন বাদিয়ার ঘাটের’ জন্য।

যারা প্রাণ দিয়েছে
ভাটিয়ালি, বাউল, কীর্তন, গজল
নজরুলের “খাঁটি সোনার চেয়ে খাঁটি
আমার দেশের মাটি।”
এ দুটি লাইনের জন্য
দেশের মাটির জন্য,
রমনার মাঠের সেই মাটিতে
কৃষ্ণচূড়ার অসংখ্য ঝরা পাপড়ির মতো
চল্লিশটি তাজা প্রাণ আর
অঙ্কুরিত বীজের খোসার মধ্যে
আমি দেখতে পাচ্ছি তাদের অসংখ্য বুকের রক্ত।
রামেশ্বর, আবদুস সালামের কচি বুকের রক্ত
বিশ্ববিদ্যালয়ের সবচেয়ে সেরা কোনো ছেলের বুকের রক্ত।
আমি দেখতে পাচ্ছি তাদের প্রতিটি রক্তকণা
রমনার সবুজ ঘাসের উপর
আগুনের মতো জ্বলছে, জ্বলছে আর জ্বলছে।
এক একটি হীরের টুকরোর মতো
বিশ্ববিদ্যালয়ের সেরা ছেলে চল্লিশটি রত্ন
বেঁচে থাকলে যারা হতো
পাকিস্তানের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ
যাদের মধ্যে লিংকন, রকফেলার,
আরাগঁ, আইনস্টাইন আশ্রয় পেয়েছিল
যাদের মধ্যে আশ্রয় পেয়েছিল
শতাব্দীর সভ্যতার
সবচেয়ে প্রগতিশীল কয়েকটি মতবাদ,
সেই চল্লিশটি রত্ন যেখানে প্রাণ দিয়েছে
আমরা সেখানে কাঁদতে আসিনি।

যারা গুলি ভরতি রাইফেল নিয়ে এসেছিল ওখানে
যারা এসেছিল নির্দয়ভাবে হত্যা করার আদেশ নিয়ে
আমরা তাদের কাছে
ভাষার জন্য আবেদন জানাতেও আসিনি আজ।
আমরা এসেছি খুনি জালিমের ফাঁসির দাবি নিয়ে।
আমরা জানি ওদের হত্যা করা হয়েছে
নির্দয়ভাবে ওদের গুলি করা হয়েছে
ওদের কারো নাম তোমারই মতো ওসমান
কারো বাবা তোমারই বাবার মতো
হয়তো কেরানি, কিংবা পূর্ব বাংলার
নিভৃত কোনো গাঁয়ে কারো বাবা
মাটির বুক থেকে সোনা ফলায়
হয়তো কারো বাবা কোনো
সরকারি চাকুরে।
তোমারই আমারই মতো
যারা হয়তো আজকেও বেঁচে থাকতে
আমারই মতো তাদের কোনো একজনের
হয়তো বিয়ের দিনটি পর্যন্ত ধার্য হয়ে গিয়েছিল,
তোমারই মতো তাদের কোনো একজন হয়তো
মায়ের সদ্যপ্রাপ্ত চিঠিখানা এসে পড়বার আশায়
টেবিলে রেখে মিছিলে যোগ দিতে গিয়েছিল।
এমন এক একটি মূর্তিমান স্বপ্নকে বুকে চেপে
জালিমের গুলিতে যারা প্রাণ দিল
সেই সব মৃতদের নামে
আমি ফাঁসি দাবি করছি।
যারা আমার মাতৃভাষাকে নির্বাসন দিতে চেয়েছে তাদের জন্যে
আমি ফাঁসি দাবি করছি
যাদের আদেশে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে তাদের জন্যে
ফাঁসি দাবি করছি
যারা এই মৃতদেহের উপর দিয়ে
ক্ষমতার আসনে আরোহণ করেছে
সেই বিশ্বাসঘাতকদের জন্যে।
আমি তাদের বিচার দেখতে চাই।
খোলা ময়দানে সেই নির্দিষ্ট জায়গাতে
শাস্তিপ্রাপ্তদের গুলিবিদ্ধ অবস্থায়
আমার দেশের মানুষ দেখতে চায়।

পাকিস্তানের প্রথম শহীদ
এই চল্লিশটি রত্ন,
দেশের চল্লিশ জন সেরা ছেলে
মা, বাবা, নতুন বৌ, আর ছেলে মেয়ে নিয়ে
এই পৃথিবীর কোলে এক একটি
সংসার গড়ে তোলা যাদের
স্বপ্ন ছিল
যাদের স্বপ্ন ছিল আইনস্টাইনের বৈজ্ঞানিক তত্ত্বকে
আরো গভীরভাবে বিশ্লেষণ করার,
যাদের স্বপ্ন ছিল আণবিক শক্তিকে
কী ভাবে মানুষের কাজে লাগানো যায়
তার সাধনা করার,
যাদের স্বপ্ন ছিল রবীন্দ্রনাথের
‘বাঁশিওয়ালার’ চেয়েও সুন্দর
একটি কবিতা রচনা করার,
সেই সব শহীদ ভাইয়েরা আমার
যেখানে তোমরা প্রাণ দিয়েছ
সেখানে হাজার বছর পরেও
সেই মাটি থেকে তোমাদের রক্তাক্ত চিহ্ন
মুছে দিতে পারবে না সভ্যতার কোনো পদক্ষেপ।
যদিও অগণন অস্পষ্ট স্বর নিস্তব্ধতাকে ভঙ্গ করবে
তবুও বিশ্ববিদ্যালয়ের সেই ঘণ্টা ধ্বনি
প্রতিদিন তোমাদের ঐতিহাসিক মৃত্যুক্ষণ
ঘোষণা করবে।
যদিও ঝঞ্ঝা-বৃষ্টিপাতে—বিশ্ববিদ্যালয়ের
ভিত্তি পর্যন্ত নাড়িয়ে দিতে পারে
তবু তোমাদের শহীদ নামের ঔজ্জ্বল্য
কিছুতেই মুছে যাবে না।
খুনি জালিমের নিপীড়নকারী কঠিন হাত
কোনো দিনও চেপে দিতে পারবে না
তোমাদের সেই লক্ষদিনের আশাকে,
যেদিন আমরা লড়াই করে জিতে নেব
ন্যায়-নীতির দিন
হে আমার মৃত ভাইরা,
সেই দিন নিস্তব্ধতার মধ্য থেকে
তোমাদের কণ্ঠস্বর
স্বাধীনতার বলিষ্ঠ চিৎকারে
ভেসে আসবে
সেই দিন আমার দেশের জনতা
খুনি জালিমকে ফাঁসির কাষ্ঠে
ঝুলাবেই ঝুলাবে
তোমাদের আশা অগ্নিশিখার মতো জ্বলবে
প্রতিশোধ এবং বিজয়ের আনন্দে।


I Have Not Come To Shed Tears Where They Laid Down Their Lives 

[Translation of Mahbub ul Alam Chowdhury’s “Kandte Ashini, Phashir Dabi Niye Eshechhi” by Kabir Chowdhury]

I have not come, where they laid down their lives

under the upward looking Krishnachura trees,

to shed tears.

I have not come, where endless patches of blood

glow like so many fiery flowers, to weep.

Today I am not overwhelmed by grief,

Today I am not maddened with anger,

Today I am only unflinching

in my determination,

The child who will nevermore get a chance

to rush to his father’s arms,

the housewife who, shielding the lamp

with her sari, will nevermore wait

by the door for her husband,

the mother who will nevermore draw

to her breast with boundless joy

her returning son,

the young man who, before collapsing

on the earth, tried again and again

to conjure before his eyes the vision

of his beloved,

in their name,

in the name of those brother and sisters,

in the name of my language,

nourished by the heritage of a thousand years,

in the name of the language in which

I am accustomed to addressing my mother,

in the name of my native land,

I say, I have come today,

here on the open grounds of the university,

to demand their death by hanging,

the death of those who killed

my brothers and sisters indiscriminately.

I have not come here to weep for them,

who gave their lives under Ramna’s

sun-scorched Krishnachura trees

for their language,

Those forty or more who laid down their lives

for Bangla, their mother tongue,

for the dignity of a country’s great culture,

for the literary heritage of Alaol,

Rabindranath, Kaikobad and Nazrul,

for keeping alive the bhatiali, baul,

kirtan and the ghazal,

those who laid down their lives

for Nazrul’s unforgettable lines:

“The soil of my native land

is purer than the purest gold.”

Forty blooming lives fell

like innumerable Krishnachura petals

on Ramna’s soil.

In the husks of the seeds

sprouting therefrom I can see

endless drops of bloodm

the blood of young Rameswar and Abdus Salam,

the blood of the most brilliant boys of the university.

I can see each drop of blood

shining on Ramna’s green grass like burning flames,

each boy a piece of diamond,

forty jewels of the university,

who, had they lived, would have become

the most precious wealth of the country, in whom

Lincoln, Rolland, Aragon and Einstein had found refuge,

in whom had flourished some of the

most progressive ideals of this century’s civilization.

We have not come here to shed tears

where forty jewels sacrificed their lives.

We have not come, either, to plead

for our language to the killers

who had arrived with their rifles loaded,

with orders to shoot our brothers and sisters.

We have come to demand the hanging

of the tyrants and the murderers.

We know that our brothers and sisters were killed,

that they were mercilessly shot,

that one of them was perhaps called ‘Osman’

just like you,

that perhaps one of them had a clerk for his father

just like you, or that one’s father was growing

golden crops in some remote village of East Bengal,

or was a government functionary.

Today those boys could be living just like you or me.

Perhaps one of them had his weddind day fixed

just like me.

Perhaps one of them had left on his table,

just like you, his mother’s letter

received a moment ago,

hoping to read it when he got back

from the procession he went out to join.

Those boys had harboured concrete dreams

in their chests,

and they were killed by the bullets

of the cruel tyrants.

In the name of those, who wanted

to banish our mother tongue be hanged.

I demand that those who ordered

the killing be hanged.

I demand that the traitors

who climbed to the seats of power

over the dead bodies of my brothers and

sisters be hanged.

I want to see them tried and shot

as convicted criminals

on that very spot in this open field.

Those first martyrs of the country,

those forty brilliant boys of the university,

each of them had dreams of building

a quiet home in the bosom of this earth

with his wife, children and parents.

They dreamed of analysing

the scientific theories of Einstein with greater depth,

they dreamed of finding ways

to put atomic power to man’s service

in the cause of peace.

They dreamed of writing a poem

more beautiful than Tagore’s “The Flute Players”.

O, my martyred brothers,

the spot where you laid down your lives

will continue to glow

even after a thousand years.

No footprints of civilization can wipe out

the marks of your blood from that soil,

although procession after procession

will one day converge here

and shatter its vague silence.

The tolling of the university bells

will daily announce the historic hour of your deaths,

even if one day a violent storm

erupts and shakes the building’s very foundation.

Whatever comes to pass

the brightness of your names as hallowed martyrs

will never grow dim.

The cruel hands of the murderers

can never throttle your long cherished hopes.

Some day we shall surely win

and hail the advent of justice and fair play.

O, my dead brothers,

on that day, your voices,

the strong voice of freedom,

will soar from the depths of silence.

The people of my country, on that day,

will surely hang from the gallows

those tyrants and murderers.

On that day, your hopes will shine like flames

in the joy of victory and sweet vengeance.


Ikhtisad is a writer and an erstwhile lawyer. Follow him on Twitter: @ikhtisad

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s