Ahmed Shamim: Colonisation Of Bengali Language and Tagore – Open vs Rigid discourse

But with all its manifold new words from other tongues, English could never have become anything but English. And as such it has sent out to the world, among many other things, some of the best books the world has ever known.

 

Photo: bbc.com

Photo: bbc.com

 
Colonisation of Bengali Language and Tagore – Open vs Rigid discourse

by Ahmed Shamim

বাংলা ভাষার উপনিবেশায়ন ও রবীন্দ্রনাথ বদ্ধ বনাম মুক্ত আলোচনা 

আহমেদ শামীম 

বাংলা গদ্য কীকরে উপনিবেশায়িত হল, এবং এর বি-উপনিবেশায়ন প্রক্রিয়ায় রবীন্দ্রনাথের ভূমিকা কেন উল্লেখযোগ্য তা মোহাম্মদ আজম তার “বাংলা ভাষার উপনিবেশায়ন ও রবীন্দ্রনাথ”- বইটিতে তথ্য প্রমাণ আর বিশ্লেষণসহ হাজির করেছেন। ওই বইয়ের পাঠ-উত্তর আলোচনা শুনতে গিয়েছিলাম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কিছুদিন আগে অনুষ্ঠিত এক সেমিনারে। লেখক ও নির্ধারিত আলোচকদের আলোচনার অন্যতম কেন্দ্রীয় বিষয় ছিল উপনিবেশকদের দ্বারা বাংলার সংস্কৃতায়ন, অর্থাৎ কীভাবে উপনিবেশী শাসক তাদের আগমনের পূর্বে-চর্চিত বাংলার গদ্যরীতিকে অশুদ্ধ অভিধা দিয়ে, বাংলাকে শুদ্ধ করার নামে ব্যাপকহারে সংস্কৃত শব্দ ও নিয়মাবলী বাংলার উপর আরোপ করে নতুন একটি  বাগভঙ্গির জন্ম দিয়েছে।  নিজে তখনপর্যন্ত পড়েছিলাম বইটির ছোট্ট একটি অনুচ্ছেদ, যেখানে ঠাকুরের বাংলা ব্যাকরণ সঙ্ক্রান্ত চিন্তাভাবনাগুলো দাগানো হয়েছে। ঠাকুরের ওই চিন্তাগুলোর সঙ্গে আমি মোটের ওপর একমত, আজমও দেখলাম দ্বিমত করেননি, ফলে, মুক্ত আলোচনায় আমার কিছু বলার ছিল না। কিন্তু নির্ধারিত আলোচকদের মধ্যে অধ্যাপক শিশির ভট্টাচার্য আজমের থিসিসের “এন্টিথিসিস” হাজির করায় আমার কিছু বলার জোগাড় হল। অধ্যাপক ভট্টাচার্য “এন্টিথিসিস”এর নামে যা বললেন তার সারমর্ম এমন, ভাষার উপনিবেশায়ন হয় এটা তিনি মানেন না, ইংরেজি ভাষায় ৬০% শব্দ ফরাসি, তাই বলে ইংরেজি উপনিবেশায়িত হয়েছে বলা যাবে না, বলা হয় না, ফলে বাংলা ভাষার উপনিবেশায়ন বি-উপনিবেশায়ন প্রশ্নই তার কাছে অমূলক। চমক সৃষ্টিকারী কথাই বটে। কিন্তু আমার বিবেচনায়, অধ্যাপক ভট্টাচার্য তার এন্টিথিসিসটি কতিপয় ভ্রান্ত ধারণার ওপর খাড়া করেছেন। সেমিনারের মুক্ত আলোচনা পর্বে সে সম্পর্কে কিছু ইঙ্গিত দিয়েছি। এই লেখায় সেই তর্কের একটি সম্যক চিত্র তুলে ধরার প্রয়াস পেলাম। এই তর্কে আমি কার্যত আজমের থিসিসের নয় বরং অধ্যাপক ভট্টাচার্যের এন্টিথিসিসের পর্যালচনা হাজির করেছি। তবে প্রসঙ্গতই আজমের থিসিসের একটি রেখাচিত্র এখানে পাওয়া যাবে।

প্রথমে দুটি কথা বলে নিয়ে মূল আলোচনায় যাব, কথা দুটিকে বলা যায় আলোচনার মুখ। প্রথম কথা, ইংরেজি ভাষার ৬০% শব্দ ফরাসি এটা একটা অতিকথন। আমরা যদি ডিকশনারি ডট কম-এর হিসাব মানি, তাহলে দেখি ইংরেজি ভাষার সকল শব্দাবলীর ৬০%-এর উপর আছে ল্যাটিন এবং গ্রিকজাত শব্দ। অধ্যাপক ভট্টাচার্য সম্ভবত বিবিধ জরিপসমূহের গড় হিসাব থেকে তিনি ল্যাটিন ~২৯ আর ফরাসি ~২৯ মিলিয়ে ৬০ বলছেন। যাই হোক, এটা প্রকার বিপর্যয়। অবশ্য, এর ফলে যদিও তার যুক্তি দুর্বল হয়, কিন্তু খারিজ হয় না। ৬০% ফরাসির জায়গায় ল্যাটিন অর্থ করলে তার পরিসংখ্যান উদ্ধার হয়, কিন্তু এই ফরাসি কিংবা ল্যাটিন যাই হোক, ওই পরিসংখ্যান দিয়ে তিনি যে যুক্তি দাড় করাতে চাচ্ছেন তা কোনোভাবেই দাঁড়ায় না। সেটাই বরং খতিয়ে দেখা যাক। ফরাসির শব্দের বাহুল্য নিয়ে কেউ একজন দর্শকসারি থেকে সন্দেহ পোষণ করলে তিনি তাকে উদ্দেশ্য করে এমন বললেন, বলেন কিছু ইংরেজি বাক্য, আমি ধরিয়ে দিচ্ছি সেখানে কতগুলো ফরাসি শব্দ আছে। এই কথা যে ধারণা দাঁড় করায় তা ফরাসি শব্দগুলো তুলে নিলে ইংরেজি অচল। কিন্তু বাস্তবতা কিন্তু তা নয়। সাক্ষ্য হিসেবে John Algeo’র The Origins and the Development of English Language বইটির একটা অনুচ্ছেদের কথার উল্লেখ করা যেতে পারে:

But with all its manifold new words from other tongues, English could never have become anything but English. And as such it has sent out to the world, among many other things, some of the best books the world has ever known. It is not unlikely, in the light of writings by English speakers in earlier times, that this would have been so even if we had never taken any words from outside the word hoard that has come down to us from those times. It is true that what we have borrowed has brought greater wealth to our word stock, but the true Englishness of our mother tongue has in no way been lessened by such loans, as those who speak and write it lovingly will always keep in mind.

এই অনুচ্ছেদটির উল্লেখ করছি অধ্যাপক ভট্টাচার্যের দেয়া পরিসংখ্যানকে পর্যুদস্ত করতে নয়, বরং তার যুক্তির পর্যালোচনার খাতিরে। অনুচ্ছেদটিতে একটিও ফরাসি শব্দ নেই, তা অবশ্য মূল কথা নয়। ফরাসি কেন অন্য কোনো ভাষারই কোনো ঋণ নেই এখানে। তাতে ইংরেজি ভাষার নিজস্ব শক্তিমত্তার কথা প্রকাশ পাচ্ছে। এ বাবদে ৬০% ল্যাটিনজাত শব্দ নিয়েও ইংরেজি কেন একটি ফরাসি উপনেবিশত জার্মানিক ভাষা নয়, তা Algeo’র মুখেই শোনা যাক:

It is highly unlikely that many readers will have noted that the preceding paragraph contains not a single word of foreign origin. It was perhaps not worth the slight effort involved to write it so; it does show, however, that English would not be totally impoverished without its borrowings from other languages. It also suggests that a language or a culture as pluralistic, inclusive, and diverse as English and Anglo-American culture have become still needs, and can function effectively with, a stable, native core.

আমার দ্বিতীয় কথা ব্যাকরণ ও বাগবিধি সম্পর্কিত। ক্রিস্টিয়ানিটি আর নরম্যানদের আগমনে ল্যাটিন আর ফরাসি শব্দ আত্তীকরণ করে মধ্যযুগের ইংরেজি, জার্মানীয়-ভাষা প্রাচীন ইংরেজি থেকে উল্লেখযোগ্যভাবে বিশিষ্ট হয়েছে। বিশেষ করে রূপগত দিক থেকে। উদাহরণ, ল্যাটিন থেকে আসা -ize, -(i)fy ইত্যাদি ক্রিয়াবিভক্তি যুক্ত ক্রিয়াগুলো এখন ইংরেজি ভাষার অবিচ্ছেদ্য সম্পদ। কিন্তু ইংরেজি বাগবিধিতে  ল্যাটিন ব্যাকরণের বৈশিষ্ট্য আরোপ করাতে বিপত্তিও কম পোহাতে হয়নি ইংরেজদের। ল্যাটিন ব্যাকরণের আদলে ইংরেজির বিধি তৈরির ফলে কী রকম বিপত্তি হয়েছে, তার কয়েকটি উদাহরণ পর্যালোচনাসহ পাওয়া যায় স্টিভেন পিঙ্কারের সাম্প্রতিক (১৫ আগস্ট, গার্ডিয়ান) লেখা  “10 ‘grammar rules’ it’s OK to break (sometimes)”-এ। সেখানে প্রসঙ্গের শুরুতেই লেখক বলেছেন, ইংরেজি ভাষার কোন বিধি যদি এমন যুক্তিতে তৈরি হয়ে থাকে যে, ইংরজিকে ল্যাটিনের অনুগামী হতে হবে, তাহলে সেই বিধিকে ছুড়ে ফেলা দেয়া উচিত। তার দেয়া উদাহরণ আর সেগুলোর পর্যালোচনা সংক্ষেপে তুলে ধরছি:

এক। বাক্য প্রিপজিশন দিয়ে শেষ করা যাবে না। অথচ ইংরেজিভাষীরা অহরহ তা করে থাকেন। এখন কেউ এটা নিয়ে ভাবে না, কিন্তু একসময় এটা বেশ বড় ব্যাপার ছিল। উইনস্টন চার্চিলের বাক্য “This is pedantry with which I will not put up.” পত্রিকার এক সম্পদক কেটে ঠিক করেছেন এভাবে “This is pedantry up with which I will not put.” সম্পাদকের এই পাণ্ডিত্য (কাকতাল) চার্চিল সহ্য করেছিলেন বলেই মনে হয়, কারণ এর কোন জবাব তিনি দেননি। পিঙ্কারের বলেন, এই নিয়ম ল্যাটিন থেকে আমদানি করেছিল জন ড্রাইডেন। উদ্দেশ্য ছিল বেন জনসনকে কবি হিশেবে হেয় করে দেখানো। এমনতো বাংলা দেশেও শোনা যায়, অমুক বাংলা-ই শুদ্ধ করে লিখতে জানে না, কবিতা কি ছাতা লিখবে! তখন অবশ্য তখন জনসন জীবিত ছিলেন না, থাকলে তিনি ড্রাইডেনকে মল্লযুদ্ধে আহ্বান করতেন, এবং পরবর্তী প্রজন্মগুলোকে বিশাল পরিমাণ দুঃখ থেকে বাঁচাতেন। পিঙ্কারের উল্লেখে পাই, ভাষাবিদ মার্ক লিবারম্যান অমনটাই মনে করেন।

দুই। ল্যাটিনপ্রীতির কারণে আরেকটি বিধি ইংরেজির গায়ে বিঁধিয়ে দিয়েছে গ্রামার টিচারেরা, তাদের মতে, “Hi, honey, it’s me”এর পরিবর্তে “Hi, honey, it’s I” বলতে হবে, কারণ, বিধেয়তে সর্বনাম কর্তৃকারকে হবে। খুব যারা ফর্মালিটি করেন, তারা অনেকে এটা মানেন, সাধারণকেতো মানতে দেখি না। অসাধারণদের মধ্যে হেমিংওয়ে, উলফ প্রমুখেরা মানেননি।

তিন। ল্যাটিনে ক্রিয়া যেমন থাকে, ইংরেজিতেও তেমনি রাখার পক্ষপাতী যারা, তারা তথা কথিত “স্প্লিট ইনফিনিটি”  এবং “স্প্লিট ভার্ব” বা বিযুক্ত ক্রিয়ার ব্যবহার অশুদ্ধ ঘোষণা করেছিল। পিঙ্কারও অবশ্য বলছেন, ইংরেজিতে ক্রিয়াবিশেষণ সাধারণত ক্রিয়ার শেষেই বসে, আর ইনিফিটিভ “টু” এবং ক্রিয়ার মাঝে অন্য কোন পদ বসিয়ে “টু” থেকে ক্রিয়াটিকে বিযুক্ত করা হয় না। তাই বলে এটাই অকাট্য নিয়ম, এমনটা চাপানো জবরদস্তিমূলক, এই নিয়মে তৈরি বাক্যে অনেক সময় অর্থেরও ভজঘট ঘটে। যেমন, ওই দুটি নিয়ম মেনে তৈরি করা “The board voted immediately to approve the casino” একটি দ্ব্যর্থক বাক্য। কেউ ভাবতে পারেন অবিলম্বে ভোট দেয়ার কথা বলা হয়েছে, আবার কেউ ভাবতে পারেন অবিলম্বে অনুমোদন করার কথা বলা হয়েছে। এখন ওই বিযুক্ত ক্রিয়া বিষয়ক নিয়ম ভেঙ্গে “The board immediately voted to approve the casino” লিখলে, অবিলম্বে ভোট দেয়ার বিষয়টা বেশি পরিষ্কার হয়। আবার, “স্প্লিট ইনফিনিটি” বিষয়ক নিয়মটি ভেঙ্গে “The board voted to immediately approve the casino” অবিলম্বে অনুমোদন করার কথাটা পরিষ্কার হয়।

তো দেখা গেল, তথাকথিত ফর্মাল ইনফর্মাল বিভেদ জারি রাখার জন্য ইংরজিতে ল্যাটিন ব্যাকরণের বিধির অনুকরণ কিন্তু আজকেও আছে, এবং তা প্রশ্নের সামনে পড়ছে। অধ্যাপক ভট্টাচার্যও স্বীকার করবেন, বাংলার লিপিবন্ধ ব্যাকরণে অনেক বিধি সংস্কৃত নিয়ম অনুকরণ করে গড়া। এবং এই গড়াপেটা হয়েছে প্রকল্প করে, ঔপনিবেশিক প্রকল্প। এবং বাংলাভাষীরা সেই লিপিবন্ধ ব্যাকরণের নিগড় ভেঙ্গে বাংলাকে ব্যবহার করে চলেছে, সেই গোড়া থেকেই। তো, যে বিধি অমান্য করলে বাক্য আরও প্রাঞ্জল হয়, সে বিধি আর যাই হোক ব্যাকরণ নয়। কোনো ভাষায় ভজঘট পাকানোর জন্য ব্যাকরণ কখনই দায়ী হতে পারে না, ভজঘট বাঁধায় ওই ভাষার নিজস্ব বিধিসমূহ সম্পর্কে বৈয়াকরণিকদের জ্ঞান আর গরিমা। ল্যাটিনের ছাঁদে ইংরেজি আর সংস্কৃতের ছাঁদে বাংলাকে বাঁধার চেষ্টা সে কারণে সাধারণ ভাষাভাষীদের ধোপে টিকেনি। কিন্তু এর ফলে ভাষার আনুষ্ঠানিক ব্যবহারে বিপত্তিকর বাগবিধি আর শব্দাবলী প্রবেশ করেছে, এবং এক শ্রেণির লোক তার সেই চর্চা জারি রাখতে চেয়েছে এবং এখনো চায়, সেটা ব্যাকরণ তথা ভাষার স্বার্থের নাম করে, কিন্তু আদতে স্বার্থটা অন্য কোথাও। বর্ণনাত্মক ব্যাকরণবিদ্যা চর্চাকারীগণের বিশ্বাস তেমনটাই বিশ্বাস করেন। ভাষাবিদ স্টিভেন পিঙ্কার উল্লেখ করেছেন, “They (the descriptivists) believe that the rules of correct usage are nothing more than the secret handshake of the ruling class, designed to keep the masses in their place.” আমি বলব, অমন বিশ্বাস জন্মানোর পেছনে অবশ্যই বাস্তব কারণ বিদ্যমান। সংস্কৃতভাষার আদলে বাংলা বাগবিধির প্রচলন আমাদের আনুষ্ঠানিক আর অনানুষ্ঠানিক ভাষার মধ্যে কেবল ফারাকই তৈরি করেছে তা কিন্তু নয়, এই ফারাক শ্রেণি ও বর্ণ বৈষম্যের হাতিয়ার হিসেবেও ভূমিকা রেখেছে। এখন নরম্যানগণ ইংল্যান্ডে ইংরেজদের ওপর তেমনসব বৈষম্যের দীর্ঘস্থায়ী দেয়াল তুলতে পারেনি, যা আধুনিক উপনিবেশী শক্তি ইংল্যান্ড ইন্ডিয়াতে তৈরি করতে পেরেছে। তাই লক্ষণে কিছুটা একটা হলেও ইংরেজি আর বাংলার অভিজ্ঞতা গুণগতভাবে আলাদা। আমার আলোচনা এবার সেদিকে গড়াবে।

অধ্যাপক ভট্টাচার্য ইংরেজি ভাষার উৎপত্তি ও ক্রমবিকাশের সাপেক্ষে ভাষার উপনিবেশায়ন নিয়ে সার্বিক একটা চিন্তা দাড় করিয়েছেন, এবং বাংলার উপর তিনি ঢালাওভাবে প্রয়োগ করেছেন। এটা আরও বড় একটি বিপর্যয়।  কারণ, ওই দুই অভিজ্ঞতার ভেদাভেদ না জানলে আজমের থিসিসের মূল্যায়ন করতে গিয়ে বিপর্যস্ত হওয়া ছাড়া গতি নাই। বিস্ময়ের ব্যাপার হল, আযম এই ভেদ বেশ স্পষ্ট করেই তার বক্তব্য হাজির করেছেন, কিন্তু তা হয়তো অধ্যাপক ভট্টাচার্যের চোখ এড়িয়ে গেছে, অথবা তিনি ওই ভেদ মানছেন না। তাই আমি এই লেখায় আজমের উত্থাপিত ভেদবিচারের সারসংক্ষেপসহ, সামান্য ইতিহাস তুলে ধরে দেখাতে প্রয়াস পেয়েছি যে, ভেদ না মানার কারণ কত্ত কম। বলা দরকার আজম আধুনিক যুগের উপনিবেশ এর প্রকৃতি বর্ণন ও বিশ্লেষণ করে কলকাতার অভিজ্ঞতাকে বিশেষ হিশেবে পাঠ করেছেন। আর বিশেষ ভাবে গুরুত্ব দিয়েছেন “উপনিবেশায়ন প্রক্রিয়ার” ওপর। এখানে আরো বলা দরকার যে, মুসলমান-শাসনাধীন ভারতকে উপনিবেশায়িত ভারত থেকে আলাদা করে পাঠ করার পক্ষপাতী আজম। তার এই পক্ষপাতের পেছনে যাদের বিশ্লেষণ দায়ী তাদের মধ্যে গৌতম ভদ্র, পার্থ চট্টোপাধ্যায়, রণজিৎ গুহ প্রমুখ রয়েছেন। এনাদের বিচার-বিশ্লেষণ অনুযায়ী আজম দেখেছেন, “ক্ষমতা-সম্পর্কের যে অসম-দশা ঔপনিবেশিক শাসনের মূল বৈশিষ্ট্য, ‘মধ্যযুগে’র ভারতবর্ষে মোটেই সে অবস্থা ছিল না। পরবর্তী ‘বিদেশী’ শাসনের সঙ্গে এর সুস্পষ্ট পার্থক্য সম্পদ-পাচারের ক্ষেত্রে। তাছাড়া, প্রশাসনিক কাঠামো, শিক্ষা, জ্ঞানতত্ত্ব, বর্ণবাদ ও সর্বগ্রাসী নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা- সব মিলিয়ে শাসনাধীন জনগোষ্ঠীর সঙ্গে শাসকপক্ষের যে অসাম্য ঔপনিবেশিক শাসনে তৈরি হয়েছিল, আগের শাসনের সঙ্গে তা মোটেই তুলনীয় নয়।”

এইখানে অধ্যাপক ভট্টাচার্য ইংরেজি ভাষার উপনিবেশায়ন প্রসঙ্গটি টেনে ১০৬৬ সনে সামরিক অভিযান চালিয়ে ফ্রান্সের নরম্যান্ডির ডিউক উইলিয়াম কর্তৃক ইংল্যান্ড দখলকে প্রাসঙ্গিক করে তোলেন। সেক্ষেত্রে বলা দরকার যে, নরম্যানদের ইংল্যান্ড দখলকে কী বলা যায়, কঙ্কোয়েস্ট না কলনাইজেশন? এটা নিয়েও বিতর্ক হয়েছে অনেক। Marjori Chibnall তার The Debate on the Norman Conquest গ্রন্থে বিশ্লেষকদের সেই বিতর্কগুলো পর্যালোচনাসহ গ্রন্থিত করেছেন। এর মধ্যে ইংল্যান্ডে নরম্যান শাসনকে উপনিবেশী বলে যারা পর্যালনা করেছেন, এবং করার কথা তুলেছেন, তাদের মধ্যে Le Patourel-এর কথাগুলো উল্লেখযোগ্য। Le Patourel তার বই The Norman Empire এ দেখিয়েছন ব্রিটেইন এবং নরম্যান্ডি জুড়ে গড়ে তোলা নরম্যান সাম্রাজ্য John Gilissen-এর দেয়া সাম্রাজ্যের সংজ্ঞাকে কীভাবে সন্তুষ্ট করে। সে বাবদে তিনি  Norman Conquest-এর উপনিবেশী দিকগুলো দাগান। তার মতে “the cross-Channel aristocracy created after 1066 had a strong vested interest in maintaining the union of Normandy and England.” এবং এই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই ইংল্যান্ড “became an overwhelming aristocratic and ecclesiastical colonization’.

অর্থনৈতিক বিবেচনায় ইংল্যান্ড বহুকাল নরম্যান্ডির উপনিবেশ ছিল একথা Le Patourel-সহ  অনেকের কথায় উঠে আসে। দেখা যাচ্ছে, নরম্যান্ডির ডিউক উইলিয়াম দ্য কঙ্কয়ারার  ১১৬৬তে ব্রিটেনের রাজা হেরল্ডকে পরাজিত করলেও স্থানীয় অভিজাতদের বিদ্রোহী দমন করে পুরো ব্রিটেইনের দখল নিতে ১১৭১ পর্যন্ত লেগে যায়। নরম্যান অভিজাততন্ত্র অ্যাংলো-সাক্সন অভিজাততন্ত্রকে হটিয়ে দেয়, এবং নিজেদের ফ্রেঞ্চ পরিচয় জারি রাখে। ব্রিটেইন দখল করার পর বহু বছর কেবল বহিরাগত শাসকই ছিল, নরম্যান্ডি ছিল তাদের কেন্দ্র। David A. Carpernter তার The Stuggle for Mastery: Britain, 1166-1284 বইতে বলেন:

Yet Norman rule was also significantly different from that of the Confessor and his Wessex predecessors. In the first place, after 1072 William was largely an absentee. Of the 170 months, remaining of his reign he spent around 130 in France, returning to English on only four occasions. … But this absenteeism solidified rather than sapped royal government since it engendered structures both to maintain peace and extract money in the king’s absence, money which was above all needed across the Channel.

তো, ইঙ্গ-ইউরোপের নিজেদের মধ্যকার ওই উপনিবেশী অভিজ্ঞতাকে আধুনিক সংজ্ঞানুযায়ী উপনিবেশ হিশেবে না ধরার পক্ষেও লোক কম নয়, বরং বেশি। কারণ হয়ত একসময় দখলদারেরা কেন্দ্র নরম্যান্ডি থেকে বিতাড়িত হয়ে ইংল্যান্ডে বসতকার হয়ে গিয়েছিল, উপনিশীবিত জাতিতে মিশে গিয়েছিল। তাছাড়া উপনিবেশী শক্তি আর উপনিবেশীত জনগণের ধর্ম ও সংস্কৃতিতে তেমন ফারাক ছিল না। এমনকি Le Patourel-ও বিংশ শতাব্দীর উপনিবেশের সংজ্ঞা একাদশ-দ্বাদশ শতকের ব্রিটেইনের অভিজ্ঞতার উপর ভেদবিচার ব্যাতিরেকে চাপিয়ে দিতে নারাজ। এখন আমরা যদি ভারতের উপনিবেশ-পূর্ব বিদেশী শাসনের অভিজ্ঞতার পাশাপাশি ইংল্যান্ডের এই অভিজ্ঞতাকে উপনিবেশ না জ্ঞান করি তো অধ্যাপক ভট্টাচার্যের এনালজি অকার্যকর হয়ে যায়। আবার যদি ইংল্যান্ডের এই অভিজ্ঞতাকে উপনিবেশ জ্ঞান করি, তবুও ভারতের উপনিবেশী শাসনের অভিজ্ঞতার তুলনায় তার ভেদবিচার সাপেক্ষে ভট্টাচার্যের এনালজি হালে পানি পায় না, বিশেষ করে ভাষার উপনিবেশায়ন প্রসঙ্গে। এবার বরং এই দিকটি নিয়েই আলোচনা নির্দিষ্ট করা যাক।

এটা ঐতিহাসিক সত্য যে মধ্যযুগে ইংরেজি ভাষার ব্যাকরণ ও শব্দভাণ্ডারে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। কিন্তু তার কতটা উপনিবেশী প্রকল্পের ফল সেটা বিচার্য, অন্তত আজমের বইয়ের ওপর বক্ষ্যমান আলোচনার প্রেক্ষিতে। গদ্যসাহিত্যের বিকাশ এখানে ইংরেজি ভাষা থেকেই তৈরি হয়েছিল এবং তা নরম্যানরা আসার আগেই। Algeo’র বয়ানে পাই, ফ্রান্সের নরম্যান্ডি অঞ্চলের নরম্যানরা ব্রিটেইন দখল করার আগেই, ইংরেজি ভাষা তৈরি ছিল, এর সাহিত্যও ছিল বেশ সমৃদ্ধ, প্রাসঙ্গিকভাবে Ælfric-এর গদ্যের কথা বলা যেতে পারে:

Ælfric was a tenth- and early eleventh-century Benedictine monk who devoted himself to the revival of learning among both clergy and laity. He was the most important prose stylist of classical Old English. His saints’ lives, sermons, and scriptural paraphrases were models for English prose long after his death and were the basis for the continuity of English prose through the years following the Norman Conquest. His grammar, glossary, and colloquy (a humorous dialog between teacher and pupil) were basic texts for education long after his death.

মজার ব্যাপার হল, সাহিত্যের ভাষা হিশেবে ফরাসি তখনো কল্কে পায়নি, পেয়েছে  ব্রিটেইন দখলের পরে। সাক্ষ্য দিচ্ছেন Algeo:

As for the English language, which is our main concern here, it was certainly one of the earliest highly developed vernacular tongues in Europe—French did not become a literary language until well after the period of the Conquest. The English word stock was capable of expressing subtleties of thought as well as Latin. English culture was more advanced than any other in western Europe, so the notion that Anglo-Saxondom was a barbarian culture is very far from the reality.

ক্রিস্টিয়ানিটি আর নরম্যানদের আসার আগে অ্যাংলো-সাক্সনরা সংস্কৃতি বর্বর ছিল বলে যে কথা চাউর আছে, তা  উপনিবেশী ধারনার একটি রূপ মাত্র। তবে তার অনেকটাই পেছন থেকে প্রক্ষেপ করা। ওপরের উদ্ধৃতিতে দেখা যাচ্ছে,  Algeo তা খণ্ডন করছেন। বাংলার ব্যাপারেও সেই উপনিবেশী ধারনাটি বিদ্যমান, তবে পার্থক্য হল বাংলার বেলায় ধারনাটি পেছন থেকে প্রক্ষেপিত নয়, বরং এই ধারনার প্রেক্ষিতেই একটি গদ্যরীতির জন্ম দেয়া হয়েছিল। উপনিবেশ আসার আগে বাংলারও একটা গদ্যরীতি দাঁড়িয়ে ছিল, এবং তা এখানকার মানুষের লোকভাষা থেকেই উৎপন্ন। উপনিবেশী প্রকল্প সেই গদ্যকে অশুদ্ধ তকমা দিয়ে, পাশাপাশি ওই অর্বাচীন গদ্যরীতি চালু করে, প্রাচীনটির বিকাশের পথ রুদ্ধ করেছে।  উপনিবেশকের গড়ে দেয়া গদ্যের বাইরে বাকিসব বাংলা গদ্য যাচ্ছেতাই বলাটাকে প্রশ্ন করেছেন আজম, অথচ অধ্যাপক ভট্টাচার্য সেটা আমলে নিলেন না। হয়ত ভাষায়তো উপনিবেশায়ন হয় না এ ধারণার বশে তিনি গদ্যেরও উপনিবেশায়ন হয় না এমন ভাবনার বশবর্তী হলেন। এবং যা হয়েছে তা হওয়াই ছিল নিয়তি, অথবা তা-ই ইতিবাচক, তাতেই ঘটেছে স্বাভাবিক বিকাশ, আর এভাবেই হয়, এই যেমন ইংরেজি- এই যেন তার কথার সার। এটা ভেবে নেয়ার কারণ তার উদাহরণ:  ফরাসিদের দখলকৃত ব্রিটেইনে ইংরেজির বিকাশ। অস্বীকার করার জো নেই, ফরাসি ভাষা থেকে ইংরেজি অনেক নিয়েছে। কিন্তু সেই নেয়াটার প্রকৃতি কী সেটা জানলে আজমের থিসিসের তথাকথিত “এন্টিথিসিস”টির ভিত্তির নড়বড়ে ব্যাপারটি ধরা পড়ে।

১২০৪ এ ফ্রান্সের রাজা দ্বিতীয় ফিলিপ নরম্যান্ডি জয় করলে, উইলিয়ামের উত্তরাধিকার কিং জনকে তার ডিউকডোম নরম্যান্ডি ছেড়ে দিতে হয়। আধুকনিক কালের উপনিবেশী কায়দায় উইলিয়াম ও তার মহাদেশীয় দোসরগণ সামরিক কায়দায় অন্তর্বর্তী এই সময়টা ব্রিটেইন শাসন করে। অতঃপর দ্বিতীয় ফিলিপের কাছে নরম্যান্ডি হারিয়ে ব্রিটেইনকেই নরম্যানরা তাদের ঘর হিশেবে নির্বাচন করে। কিন্তু এ সময়টায় ইংরেজি ভাষার গড়াপেটা করার জন্য ঔপনিবেশিক কোনো প্রকল্পের কথা জানা যায় না। Algeo’র ভাষায়:

For a long time after the Norman Conquest, England was trilingual. Latin was the language of the Church, Norman French of the government, and English of the majority of the country’s population. The loss of Normandy in 1204 by King John, a descendant of the Conqueror, removed an important tie with France, and subsequent events were to loosen the remaining ties. By the fourteenth century, several things happened that promoted the use of English. The Hundred Years’ War, beginning in 1337, saw England and France bitter enemies in a long, drawn-out conflict that gave the deathblow to the already moribund use of French in England. Those whose ancestors were Normans eventually came to think of themselves as English.

 

একটা বিষয় এখানে খেয়াল রাখা দরকার, নরম্যানরা যত নিজেদের ইংরেজি হিশেবে ভাবেনি ততদিন ইংরেজিকে আপন করে নেয়নি, তারা যখন ব্রিটেইন দখল করে তখন তারা বলতো নরম্যান ফ্রেঞ্চ, তারপর তাদের বংশধরেরা ইংরেজীর সংস্পর্শে এসে অ্যাংলো-নরম্যান নামে ইংরেজিবহুল নরম্যান ফ্রেঞ্চের উপভাষার জন্ম দেয়, এবং সেই ভাষাই ছিল তখন নরম্যান অভিজাতদের ভাষা। কিন্তু নরম্যানরা তাদের বিদেশী শাসন বেশিদিন চালাতে পারেনি। একদিকে তারা টের পাচ্ছিল ফ্রান্সে নয় ব্রিটেইনই তাদের দেশ, আর ফ্রেঞ্চ পরিচয়ে ব্রিটেইনে রাজত্ব করা কঠিন, বিশেষ করে ফ্রান্স আর ব্রিটেইন যেখানে শতবর্ষের যুদ্ধে (১৩৩৭-১৪৫৩) জড়িয়ে পড়েছে। আবার দেশের ভেতরেও বাড়ছে ন্যাটিভদের চাপ। Algeo বলছেন:

In addition, the common people had begun to exercise their collective power. The Black Death, or bubonic plague, perhaps reinforced by pneumonia, raged during the middle of the fourteenth century, killing a third to a half of the population. It produced a severe labor shortage that led to demands for higher wages and better treatment of workers. The Peasants’ Revolt of 1381, led by Wat Tyler and sparked by a series of poll taxes (fixed taxes on each person), was largely unsuccessful, but it presaged social changes that were fulfilled centuries later.

এসকল আন্তর্জাতিক ও জাতীয় ঘটনাবলীর  অ্যাংলো নরম্যান ভাষী নরম্যানরা নিজেদের ইংরেজ পরিচয় পোক্ত করে অ্যাংলো নরম্যান ছেড়ে ইংরেজিকে তাদের প্রথম ভাষার স্থান দিয়ে। এই পুরো প্রক্রিয়াজুড়ে ইংরেজি ভাষায় ফরাসি শব্দের চালান বেড়েছে। চৌদ্দ শতকের কবি চসার যিনি ফরাসি ইংরেজি দুই ভাষায়ই লিখতেন, তার ইংরেজি পদ্যে আমরা ১০ থেকে ১৫% ফরাসি থেকে আসা শব্দের ব্যাবহার পাই (Algeo’র উদ্ধৃতিতে Serjeantson-এর হিশাব মতে)। এই শতকেই দেখি, আদি অ্যাংলো-স্যাক্সন ধারায় কাব্য রচনার ধুম পড়ে যায়, শতকের শেষের দিকে সরকারী পর্যায়ে ইংরেজির প্রচলন শুরু হয়, এবং ১৩৯৯ সনে পঞ্চম হেনরি ইংরেজিকে রাজভাষা করেন।

তো, এই যখন ইংরেজির অভিজ্ঞতা, বিজ্ঞজন মাত্রই বুঝবেন বাংলার অভিজ্ঞতার সঙ্গে এর ভেদাভেদ কোথায়। আজম দেখাচ্ছেন, বাংলা ভাষার গদ্য আধুনিক অর্থে যাকে আমরা উপনিবেশ বলছি তার খপ্পরে পড়ার পর কীভাবে এর উপনিবেশায়ন হয়েছে। বাংলাকে সংস্কৃতের “দুহিতা” ধরে মায়ের ব্যাকরণের শাসনে মেয়ের গড়ে তোলা হয়েছে। বাংলা ভাষা সেই নির্দেশমূলক ব্যাকরণে কতটা আটে তা প্রশ্নসাপেক্ষ অবশ্যই, তবে লেখালেখির জগতে, বিশেষ করে গদ্যসাহিত্যে, উপনিবেশী প্রকল্পের তৈরি করে দেয়া কাঠামোর ছাপ আজও অলক্ষ্যনীয় নয়। এখন এমন নয় যে, আজম ইংরেজি ভাষার সঙ্গে বাংলার প্রতিতুলনা করেননি, বিলক্ষণ করেছেন। এমনকি আধুনিক যুগের অন্যান্য উপনিবেশী অভিজ্ঞতার সঙ্গে বাংলার পার্থক্য তিনি বেশ সূক্ষ্ম দাগেই দাগিয়েছেন। তার বক্তব্য: “উপনিবেশায়ন-প্রক্রিয়ার সংস্কৃতায়ন একেবারেই আলাদা জিনিস। আগের অন্তত তিনশ বছরের চর্চায় বাংলা শব্দভাণ্ডার ও বাগভঙ্গির যে ধারা গড়ে উঠেছিল, ‘অশুদ্ধ’ অভিধায় সেগুলো বাতিল করে দেওয়া ভিন্নতার মূল কারণ। আগের গদ্য কমবেশি মুখের ভাষার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ। নতুন ধারায় ছিল খোদ মুখের ভাষাকেই বদলে ফেলার প্রস্তাব।” অপরপক্ষে ক্রিস্টিয়ানিটি আর নরম্যানদের মাধ্যমে জার্মানীয়-ভাষা প্রাচীন ইংরেজি যে প্রক্রিয়ায় ল্যাটিন ব্যাকরণের বৈশিষ্ট্য, বিশেষত রূপতাত্ত্বিক, মধ্য ইংরেজির ব্যাকরণে জায়গা করে নিল এবং ভাষার বিবর্তনে ভূমিকা রাখল, তা দিয়ে বাংলা গদ্যের উপনিবেশায়ন হয়েছে কি হয়নি তা বোঝা যাবে না। এটা আজম তার বইতে বেশ কয়েক জায়গায় Baugh and Cable (2002), Bhattacharya (1975), Walder (1998) এবং Anderson (1983) প্রমুখের দোহাই দিয়ে পরিষ্কার করেছেন। সেখানে একটি বক্তব্য বেশ জোরাল যে, ইংরেজি মান ভাষার পত্তন “পরভাষা বা ধ্রুপদী ভাষা পরিহার করে জনপ্রিয় লোকভাষা অবলম্বন” করে হয়েছে। অন্যদিকে বাংলার মান শাসিত হয়, এখনো হচ্ছে ঔপনিবেশিক শাসকের তৈরি করে দেয়া মানদণ্ডে। অবশ্য চলতি বাংলা সেই মানের ধার তেমন ধারে না, কিন্তু ছাড়ও পায় না, বাংলার শুদ্ধতা রক্ষার  আদেশ এখন আসে আদালত থেকে। তো এসব যতটা না সিনট্যাক্স  আর রূপতত্ত্বের নিগুঢ় নিয়মাবলীর প্রশ্ন, তারচে বেশি বাগভঙ্গী আর শব্দভাণ্ডারের জন্য শব্দাবলী নির্বাচনের প্রশ্ন। তবে অবশ্যই এর মাধ্যমে একটি ভাষার বিদ্যমান ব্যাকরণে দৃষ্টিগ্রাহ্য পরিবর্তন আসে। এবং তা নিয়ে গবেষণা করে ভাষাবিদগণ ওই পরিবর্তনের একটি বর্ণনা তৈয়ার করতে পারেন। কিন্তু সেক্ষেত্রে একজন সিনট্যাকটিশিয়ান, মরফলজিস্ট কিংবা ফনলজিস্টের তথাকথিত অরাজনৈতিক-বৈজ্ঞানিক দৃষ্ট অনেক কিছুই দেখতে হয়ত পাবে না, যা ভাষাভাষীর সামাজিক জীবনে সত্য। সেই সত্য ভাষাভাষীর সামজিক-রাজনৈতিক জীবনে প্রতিফলিত। সেই সত্য উদ্ঘটনের প্রয়াস আজমের এই বই। অশেষ ধন্যবাদ তাকে। ধন্যবাদ অধ্যাপক শিশির ভট্টাচার্যকেও, যার “এন্টিথিসিস” এই লেখাটার জন্য প্রেষণা জোগাল।

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s