Bravo my Santhal, Orao and Munda brothers and sisters!

Copyright @ Badall Ahmed
Santhal Protest; Copyright @ Badall Ahmed

Bravo my Santhal, Orao, and Munda brothers and sisters!

by Ahmed Badall for Alal O Dulal 

[Translated by the Alal O Dulal Editorial Collective]

For ages now the ‘civilized’ Bengali gentry have been grabbing lands from the Santhals of Dinajpur. Hundreds and hundreds of Adivasis today are landless and evicted from their homesteads. Starvation, poverty and the wails of the children have been commonplace in the homes of these hard working but simple people.  Whether employed as tillage, roadwork, or railroad laborers these people have forever been deceived and swindled by the majoritarian Bengalis. Yet, it has not whetted the appetites of the Bengali merchants, administrators, police, and the villagers. Dispossession of their ancestral lands, evictions from their villages, and grabbing their farmlands are a continual reality in their lives. There’s no one for them to go to, to seek help; rather the police-administration works against them. But, even these civilized, peace loving, and tolerant people have reached the limits of their patience. Breaking away from their subdued demeanour they have stood up against the rampant land grabbing; they have blocked the Ghoraghat-Gobindopur highway.

I was caught in that roadblock. But, I wasn’t annoyed. For I have known about the oppressions of these people for as long as I can remember. I had a lot of Santhal-Orao-Munda classmates in high school. Because I have known them so closely when I reached the road-block spot I told the protesting Adivasis that they shouldn’t end the protest till their demands are heard, registered and met. I was prepared to sit-in with them, protest with them all day; everything else could wait. But, I didn’t have to stay there long; the authorities made a deal with them soon enough. I am sure they have made some vacuous promises to these simple people, as has always happened. I knew that things would go back to usual in a few days, no headway will be made. The complex land-related problems of these most ancient inhabitants of the plains will never go away. Who will ever stand beside them? No one.

Copyright @ Badall Ahmed
Copyright @ Badall Ahmed

They are not just the original inhabitants of the the plains of North Bengal, they are literally the guardians and custodians of this land. These were the people who cleared the forest lands, fought the wild animals and the unpredictable nature, and made this swathe of lands fit for human habitation. They made these land arable. Today, looking at these boundless fertile farmlands of the north – including Dinajpur, Thakurgaon, Panchagar, Naogaon, Chapainawabganj – no one would ever imagine that the original custodians were the Santhal-Orao-Mundas. The redolence of these fertile lands brought in the greedy hordes of marauding raiders –Mughals, Aryans, Afghans, Arabs, the Marwari traders, and other warmongers. They dispossessed these peoples – through guile, or by the edge of the sword, or by torturing them – of their harvest, their livestock, their homesteads, and their farm lands, villages after villages.

For thousands of years they have fought Arabs, non-Arabs, various races from North India, Mughals, sultans, kings, emperors, nawabs, the Bhuyias and the Talukdars, and the British and the Pakistanis – they fought one and all. (There would be very few who have not heard about the famous Santhal Rebellion [Santhal Hool] by these brave peoples? This story for many of us holds epic mythological inspiration for revolution.) Sometimes they have won these battles, sometimes they have been defeated, but never have they stooped in front of anyone. But, who cares for these fables? For ages these countless wars have claimed their lives, their populations have dwindled, their lands taken away, and they have been left powerless and resource-starved. The once proud guardians, custodians, and owners of these lands have now become landless farmers, rail and road workers, or lowly paid day laborers at the factory-mill ecosystems.

Now, we – the ones who are the wealthy Bengali Chowdhurys, Talukdars, owners of bighas and acres – are the miscegenetic descendants of the usurpers who have exploited these Santhal peoples for hundreds of years. Frankly, we don’t have the dignity left to make any cultural claims; like many other so called civilized peoples of this world we too are usurpers, vile crooks, swindlers, oppressors and torturers.

In comparison the Adivasis of the plains and the hills are far more civilized and peace loving. Many of us are aware of numerous recent social and political injustices, and repressive actions against our indigenous people of the Hill Tracts by different Bengali communities and governments. No one has come forward with a just-solution or a will to mitigate the problems of land distribution, or address the land grabbings, or the illegal forceful evictions of the indigenous peoples from their lands and homes. When will this stop? Can anyone explain me with sound logic and knowledge as to how we can claim ourselves to be a civilized nation and society?

Copyright @ Badall Ahmed
Copyright @ Badall Ahmed

About 1800 acres of local and indigenous farmlands in Rangpur (in Gobindanagar Upazilla) have been ‘acquired’ by a local sugar mill in the name of sugarcane plantations. Breaking all laws the ‘acquirers’ are now leasing out pieces from this land to the common people which has angered the original owners of this land, amongst whom a large percentage are the indigenous people. Though these people have been agitating for a long time now, and demanding that these unlawful leases be stopped, and their land be returned, it has fallen on deaf ears.

Finally, having exhausted all means, the original owners of this land have taken to the streets, blocking the Dinajpur-Dhaka highway. Apparently the authorities have a struck a deal with these original owners (amongst whom are the indigenous peoples); I have my doubts that they will get back their lands going by historical precedence of such chicanery. The Daily Korotoya has published a short report on this.

[Ahmed Badall has worked in daily, fortnightly, and monthly news outlets as a journalist. Presently he is an advertising professional. He is a poet and a writer.]

শাবাশ সাঁওতাল-ওঁরাও ভাইবোনেরা!

আহমেদ বাদল
দীর্ঘদিন ধরে দিনাজপুরের বিভিন্ন অঞ্চলে সাঁওতালদের জমিজমা দখল করে চলেছে সুসভ্য(!) বাঙালি জাতি| অত্যাচারিত শত-শত আদিবাসী আজ ভিটেমাটিছাড়া, গ্রামছাড়া| এই পরিশ্রমী সরল মানুষদের ঘরে-ঘরে চিরকাল অনাহার, শিশুর কান্না, দারিদ্র্য| কৃষিশ্রমে বা রেলপথ ও সড়কপথ নির্মাণে নিযুক্ত সাঁওতালদের মজুরী নিয়েও বাঙালিদের ছলনা ও ঠকবাজি চিরন্তন| এতেও তৃপ্ত হয়না বাঙালি জোতদার ব্যাপারী প্রশাসনের লোক পুলিশ গ্রামবাসী… সবাই| ভিটে থেকে উচ্ছেদ, গ্রাম উজাড় করা বা এদের কৃষিজমি দখল চলছে প্রতিনিয়ত| দেখার বা সহযোগিতার কেউ নেই; বরং পুলিশ-প্রশাসনের মদদ থাকে সবসময়| কিন্তু এই সভ্য শান্ত অসম্ভব সহনশীল মানুষদের সহ্যের সীমা আছে| ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে ভূমিগ্রাসের প্রতিবাদে আজ ওরা অবরোধ করে রেখেছে ঘোড়াঘাট-গোবিন্দগঞ্জ সড়ক|

আমি ওই অবরোধে আটকা পড়েছিলাম| একটুও বিরক্ত হইনি| কারণ আমি আজন্ম তাদের দুর্দশার বিষয়টা জানি| হাইস্কুলে আমার অনেক সহপাঠী ছিলো সাঁওতাল-ওঁরাও| ওদেরকে জানি বলেই ওই স্পটে পৌঁছে প্রতিবাদকারী ভাইদের বলেছি, দাবি আদায় না হলে আপনারা উঠবেন না; প্রয়োজন হলে আমি ও আমরা সবাই সারাদিন আপনাদের সাথে বসে থাকবো, একটুও তাড়া থাকবে না, চালিয়ে যান| কিন্তু না, খুব বেশিক্ষণ সেখানে থাকতে হয়নি আমার; প্রশাসনের লোকজন এসে ওদের সাথে বনিবনা করে নিয়েছে… কোনো একটা মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে ওই সহজ সু-মানুষদের বুঝ দিয়েছে, যেমনটা সবসময় হয়ে আসছে| জানি, কিছুদিন পর আবার যেই-কা-সেই… কিছুই সুরাহা হবে না! সমতলের সবচেয়ে প্রাচীন এই মানবগোষ্ঠীর ভূমি সংক্রান্ত জটিলতা কোনোদিন ঘুচবে না| কে পাশে দাঁড়াবে এদের? কেউ না!

অথচ এরা এই উত্তরবঙ্গের সমতলভূমির শুধু আদিবাসী নয়, আদি পিতামাতা; যারা সর্বপ্রথম এই অঞ্চলের বন-জংলা সাফ করে, প্রকৃতি ও হিংস্র জন্তুর বিরুদ্ধে লড়াই করে মানুষের বসবাসের উপযোগী করে তুলেছিলো এই অঞ্চলকে; হাসিল করেছিলো দিগন্তজোড়া ফসলী জমি| আজকের দিনে দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড়, নওগাঁ, চাঁপাইনবাবগঞ্জসহ উত্তরাঞ্চলের অতি-উর্বর বিস্তীর্ণ ভূমির দিকে চেয়ে কেউ কল্পনাও করতে পারবে না যে এই ভূমির আদি পিতাপাতা সাঁওতাল-ওঁরাওরা| তৈরি করা উর্বর ফসলী জমির গন্ধ শুঁকে-শুঁকে লকলকে জিভ ঝুলিয়ে এ অঞ্চলে দলে-দলে ছুটে আসে দস্যু-লুটেরা, মোঙ্গল-আর্য-আফগান-আরব, ব্যাপারী মারওয়ারী ও যুদ্ধবাজ নানান সম্প্রদায়ের লোকজন; নানাভাবে ঠকিয়ে বা যুদ্ধে হারিয়ে, হত্যা বা অত্যাচার করে হাতিয়ে নিয়েছে ফসল-গবাদি পশু; তারপর, বাড়িঘর, ফসলী জমি, গ্রামকে গ্রাম এলাকা| হাজার বছর ধরে আরব-অনারব, উত্তর ভারতের বিভিন্ন মতলবী জাতি-সম্প্রদায়, মোগল, সুলতান, রাজা-মহারাজা, নবাব-জমিদার, ভুইয়া, তালুকদার, ব্রিটিশ, পাকিস্তানী… সবার সাথে ছোট-বড় যুদ্ধ করেছে এই সাহসী বীরের জাতি (ঐতিহাসিক সাঁওতাল বিদ্রোহের অবিনাশী গাথা কে না জানেন! সে কাহিনী তো আমাদের জন্য এক মহাকাব্যিক মিথ, এক অবিস্মরণীয় সংগ্রামের প্রেরণা); কখনো তারা বিজয়ী হয়েছে, কখনো-বা যুদ্ধে হেরে প্রাণ দিয়েছে অকাতরে কিন্তু কারো কাছে মাথা নত করেনি| তাতে কী! যুগে যুগে যুদ্ধ-সংগ্রামে সঙ্কীর্ণ হয়েছে ওরা জনসংখায়, সম্পদে, জমিজমায়… শক্তি-সামর্থেও| একদা এ অঞ্চলের ফসলী জমিনের জীবনদাতা, ভূস্বামী ও মালিক ধীরে ধীরে হয়ে পড়েছে ভূমিহীন কিষান-শ্রমিক, রেল-রাস্তা নির্মাণ বা মিল-কারখানা-চাতালে স্বল্প মজুরীতে উদয়াস্ত খেটে মরা অভুক্ত নিরন্ন মজুর|

এখন আমরা যারা এ অঞ্চলের বাঙালি ধনী, চৌধুরী, জোতদার, তালুকদার, বিঘা-একর জমির মালিক… তারা সবাই-ই হাজার বছর ধরে সাঁওতালদের ওপর চড়াও হওয়া খুনে-লুটেরা, যুদ্ধবাজ দখলবাজ ও আক্রমণকারী নানান জাতিগোষ্ঠির একধরনের মিশ্র বংশধারা| আসলে খুব বড় গলায় সংস্কৃতি-সভ্যতার গৌরব করার মুখ আমাদেরও নেই; সভ্যতার মিথ্যা বড়াই করা পৃথিবীর অনেক জাতির মতো আমরাও দখলবাজ, হিংস্র, ঠকবাজ, জোচ্চর, নির্যাতনকারী| তুলনায় সমতল ও পাহাড়ের আদিবাসী মানুষেরা বেশি সভ্য ও শান্তিপ্রিয়| সাম্প্রতিক সময়ে আমাদের পাহাড়ী মানুষদের সাথে নানান বাঙালি জাতি ও সরকারের সামাজিক রাজনৈতিক অন্যায়, অত্যাচার, নিপীড়নের খবর সবাই জানেন| সমতল ও পাহাড়ের আদিবাসী মানুষদের ন্যায্য ভূমি বন্দোবস্ত, অবৈধ দখলদার উচ্ছেদসহ ভূমি সংক্রান্ত যাবতীয় সমস্যা সমাধানে কোনো সরকার ইতিবাচক মনোভাব নিয়ে এগিয়ে আসেনি, বন্ধ হয়নি আদিবাসী মানুষদের জমি-জীবন-সম্ভ্রম-সম্পদের ওপর আমাদের আক্রমণ নিবর্তন| কবে বন্ধ হবে, কেউ কি বলতে পারেন? কেউ কি আমাকে নানান যুক্তি, তথ্য ও জ্ঞানের দ্বারা বোঝাতে পারেন, কীভাবে আমরা সভ্য হিসেবে নিজেকে দাবি করতে পারি?

রংপুর চিনিকলের আওতাধীন এবং গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার অন্তর্গত সাহেবগঞ্জ ইক্ষু খামার দীর্ঘদিন ধরে ইক্ষু চাষের নাম করে আদিবাসী ও স্থানীয়দের ১৮শ’ একরের বেশি আবাদী জমি অধিগ্রহণ করে রেখেছে| সরকারী নিয়ম ভঙ্গ করে এবং ইক্ষু আবাদ না করে ইদানীং খামার কর্তৃপক্ষ সেই জমি সাধারণের মাঝে লীজ দিচ্ছে বলে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে জমির প্রকৃত মালিকরা, যাদের মধ্যে রয়েছে আদিবাসী সম্প্রদায়ের অসংখ্য মানুষ| অনেকদিন ধরেই তারা এই লীজ বাতিল ও জমি ফেরতের দাবিতে আন্দোলন করে এলেও কর্তৃপক্ষ কানে তোলেনি| ক্ষতিগ্রস্ত ও প্রকৃত জমির মালিকরা অবশেষে গতকাল নিরুপায় হয়ে দিনাজপুর-ঢাকা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে| প্রশাসনের হস্তক্ষেপে একধরনের সমঝোতা হয়েছে বটে, কিন্তু আমার বিশ্বাস হয় না যে প্রকৃত মালিকরা খুব সহজেই তাদের জমি ফেরৎ পাবে কারণ এদের মাঝে রয়েছে অনেক আদিবাসী মানুষ এবং এমন বহুবিধ ফন্দিফিকির ও ছলনায় এতকাল গ্রাস হয়েছে আদিবাসীদের জমিজমা! আজকের দৈনিক করতোয়া’য় এই বিষয়টি নিয়ে ছোট্ট একটা নিউজ ছাপা হয়েছে|

[আহমেদ বাদল; একসময় দৈনিক, পাক্ষিক ও মাসিক পত্র-পত্রিকায় কাজ করেছেন; বর্তমানে বিজ্ঞাপন পেশায় নিয়োজিত; কবি ও লেখক]

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s