The Truth Had Touched Him

By Firoz Ahmed

(Translated by Awrup Sanyal for AlalODulal Collective)

Rafiq-Azad

Rafiq Azad (courtesy: bdnews24)

I have heard that when he went up to receive his award he had to hear the condescending remark, ‘hope you are being able to eat rice’!

“ভাত দে হারামজাদা, নইলে মানচিত্র খাবো” (Give me rice bastard, or I will eat the map) – when we hear this does it make us feel that the poet is anti-national? That the poet wanted to go back to Pakistan? No one ever thought about the poet’s humanism or honesty, because Rafiq Azad articulated the rightful exasperation, disillusion, and disheartenment that many amongst the multitude felt too in one of the most compelling poems in the Bengali language ever. By hurling this seemingly-antinational spear that shattered the colorful veneer of the nation-state he brought to light the bloody hidden wound. But, as if, that same spear pierced Rafiq Azad’s own body; all his life the poet himself was quite distraught about the essence of that poem. His own political belief and the poem’s reality were at a dialectical variance.

When deep realization clouds the mind, even if that is supernal joy or the deepest regret, there is no escape. Such a soul’s melancholy is limitless, the existential awakening then is tortured by ” ঊর্ধ্বশিখা জ্বালি চিত্তে আহোরাত্র দগ্ধ করেপ্রাণ।” (the rising finger of the flame I light in my soul chars my existence every moment). In Arabic such a state is called Majnun, thus possessed or crazy. Rafiq Azad has written many wonderful poems. In that regard he is never at a separation from other great poets. But, this one poem has made its place in history as the one which has captured a whole nation’s disillusionment, the one which has embodied the betrayal of a nation’s hopes and aspirations. This poem’s truth has surpassed the poet’s personal beliefs and journeyed far out. He was probably saved that day because of his personal connections and network; a 61 page explanation had sufficed. He has desperately tried to explain the poem’s distorted instigation but he never tried to deny the truth that nests within it. This act then is greater than him. And, this is where he is apart, sui generis. No measure of literary tricks or ornamentations or contrived analyses will be able to overturn the truth the poem stands on. Later, some day perhaps, when the time stands in judgement of the nation called Bangladesh and its people’s history this poem will be an exemplary witness to call on.He had a passionate attraction for the Garo culture. The blood of the Mandis runs through his ancestral blood – the poet has alluded to that many a times. He was proud of the telltale marks of his ancestry in his mustache and his features. One day he had recited an exceptional poem after the second Iraq War – মৌলভীর মন ভালো নেই (Moulvi’s Heart is Unwell). That poem talked about his Moulvi, whose heart, too, would lift up at the sight of the monsoon clouds. Rafiq Azad had remembered even such a forgotten and abandoned character. He had said, this too is a kind of war, they depict such stereotypes that I had wanted to remind the people that he too has a heart.

Farewell Rafiq Azad. The truth had touched you.

সত্য তাঁকে ছুঁয়েছিল

ফিরোজ আহমেদ

শুনতে পাই, পুরস্কার গ্রহণের সময়ে তাঁকে শ্লেষবাক্যটা শুনতে হয়েছিল, ভাত খেতে পাচ্ছেন তো!

“ভাত দে হারামজাদা, নইলে মানচিত্র খাবো”– শুনে কি কখনো মনে হয়েছে কবি দেশবিরোধী? কবি পাকিস্তানে ফিরে যেতে চাইছেন? কবির সততা ও মানবিকতা নিয়ে কারও মনে প্রশ্ন ওঠেনি, কারণ আরও অজস্র মানুষের মনে জন্ম নেয়া ন্যায্য ক্ষোভ ও আশাভঙ্গের বেদনাকেই রফিক আজাদ প্রকাশ করেছিলেন বাংলা ভাষার তীব্রতম এই কবিতাটিতে। এই দৃশ্যত আপাত-রাষ্ট্রবিরোধিতার বল্লমটি ছুড়ে রফিক আজাদ রাষ্ট্রের সেই রঙচঙে পলেস্তরা চুরচুর করে গুড়িয়ে দিযে, উদোম করে দিলেন দৃশ্যের আড়ালে থাকা রক্তপুঁজ, ক্ষতস্থান। ওই একই বর্শায় রফিক আজাদ যেন নিজেকেও বিদ্ধ করেছিলেন, কবিতাটার মর্মবস্তু নিয়ে তিনি নিজেই খানিকটা বিব্রত ছিলেন সারা জীবন। তাঁর নিজস্ব রাজনৈতিক বিশ্বাস আর এই কবিতাটির বাস্তবতা দুই চরম বিপরীত মেরুর।

গভীরতম বোধ যাকে আচ্ছন্ন করে, হোক সে অলৌকিক আনন্দ কিংবা গভীরতম গ্লানি, তাকে আর কে রক্ষা করবে! তাঁর বেদনা অপার, তার নিত্য জাগরণ, তাঁকে ” ঊর্ধ্বশিখা জ্বালি চিত্তে আহোরাত্র দগ্ধ করে প্রাণ।” আরবিতে এমন দশাকে বলে মজনুন, জিনগ্রস্ত, ফলে দশাপ্রাপ্ত কিংবা পাগল। রফিক আজাদ দারুণ কবিতা অনেক লিখেছেন, অন্য বহু কবির সাথে সেখানে তাঁর কোন ফারাক নেই।। কিন্তু এই একটি কবিতা গোটা একটা জাতির আশাভঙ্গের, জাতীয় আকাঙ্ক্ষার সাথে বেইমানির স্থায়ী প্রতীক হিসেবে ভাষার ইতিহাসে ঠাঁই করে নিয়েছে। এই কবিতার সত্য তাঁর ব্যক্তিগত বিশ্বাসকে ছাপিয়ে বহুদূর গেছে। ব্যক্তিগত যোগাযোগের কল্যাণেই ব্যক্তিগত ক্ষতি থেকে বেঁচে গিয়েছিলেন সেদিন, ৬১ পাতার ব্যাখ্যা লিখেই খালাস পেয়েছিলেন। কিন্তু কবিতাটা মিথ্যে প্রণোদনাজাত, সেটা বারংবার স্মরণ করিয়ে দেয়ার মরিয়া চেষ্টা করেছেন, আবার কবিতাটার সত্যকে কখনো অস্বীকার করেননি। এই কীর্তি তাই তাঁর নিজের চেয়েও মহৎ। এইখানে তিনি অনন্য। অলঙ্কারশাস্ত্র কিংবা কাব্যালোচনার কোন ছলচাতুরি কিংবা ব্যাখ্যার উলট পালটে এই সত্য আর বদলে দেয়া যাবে না। ভবিষ্যতে বাংলা নামের দেশের, এই মানুষের ইতিহাস বিচারের স্বাভাবিক সময় যখন আসবে, এই কবিতাটা নিদারুণ সাক্ষ্য দেবে।

গারো সমাজের প্রতি তীব্র আকর্ষণ বোধ করতেন তিনি। তাঁর পূর্বপুরুষে মান্দি রক্ত মিশে আছে, এমন কথা বহুবার বলেছেন। চোখ কিংবা গোঁফে, চেহারায় তার স্থায়ী ছাপ নিয়েও গর্বিত ছিলেন। আর, একবার একটা দারুণ কবিতা পড়ে শুনিয়েছিলেন, দ্বিতীয ইরাক যুদ্ধের পর, মৌলভীর মন ভালো নেই। সেখানে তিনি বলছিলেন তাঁর মৌলভীর কথা, বর্ষার মেঘে যারও মন উদ্বেলিত হয়। ফেলে যাওয়া, ভুলে যাওয়া চরিত্রটির কথাও মনে রেখেছিলেন রফিক আজাদ। বলছিলেন, এও তার এক রকম যুদ্ধ, ওরা আমাদেরকে এমন ভাবে চিত্রিত করে, আমি স্মরণ করাতে চাইছিলাম তারও মন আছে।

বিদায় রফিক আজাদ। সত্য আপনাকে ছুঁয়েছিল।

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s