Bipul Bhattacharya (1955-2013): Last Song Of Freedom

Bipul Bhattacharya graphic created by Sachalayatan (http://http://www.sachalayatan.com)

Bipul Bhattacharya graphic created by Sachalayatan (http://http://www.sachalayatan.com)

“Bipul did not get his due respect. His contribution to the music arena and also as a ‘shabda shainik’ in the Liberation War is immense. But the new generation hardly knows him. His songs were not been archived in an organised manner and did not get due coverage in the TV and radio media.” – Indramahon Rajbansh

AlalODulal.org is reprinting an article by Tareque Masud, written when Bipul Bhattacharya was first diagnosed with the disease that took his life in July 2013. Salute to Bipul-da, whose contribution made independent Bangladesh possible.

বিপুলের গলায় গর্জে উঠুক আমার ‘মুক্তির গান’!

তারেক মাসুদ | তারিখ: ১৪-১০-২০১০ (originally published in Prothom Alo)

মুক্তির গানে ১১টি গান আছে, যার অধিকাংশই লোকসুরভিত্তিক। ১৯৯৩ সালে আমি আর ক্যাথরিন নিউইয়র্ক থেকে ডাবিং করতে বাংলাদেশে আসি। তখন প্রায় সব গানই আমাদের নতুন করে ডন স্টুডিওতে রেকর্ড করতে হয়েছিল। মুক্তিসংগ্রামী শিল্পী সংস্থার যে সদস্যরা শরণার্থী শিবিরে, মুক্তি ফৌজের ক্যাম্পে এবং মুক্তাঞ্চলে যেসব গান গেয়েছিলেন, সেসবই আবার গাওয়ানো হয়েছে তাঁদের দিয়ে। মূল ফুটেজের সঙ্গে গান হয়তো এক লাইন ছিল, তার পরে দৃশ্যের সঙ্গে মিলিয়ে আর পুরো অডিওটা নেওয়া হয়নি। কিন্তু এই এক লাইন-দুই লাইন করে শুনেই শিল্পীরা কোন গান ’৭১-এ গেয়েছেন, তাঁর একটা ধারণা আমরা পাই। আমরা সেভাবেই মূল গানের সঙ্গে ঠোঁট, তাল ও লয়ের মিল রেখে নতুন করে সেগুলো রেকর্ড করি, সে রেকর্ডিং করতে গিয়েই মুক্তিসংগ্রামী শিল্পী সংস্থার অন্যান্য সদস্যসহ অনেকের সঙ্গে পরিচয়ের অংশ হিসেবে বিপুলদার সঙ্গে আমার আর ক্যাথরিনের পরিচয়। আমরা আবিষ্কার করি—তাঁর সেই অসাধারণ কণ্ঠকে। লক্ষ করি—মূল ছবিতে প্রধানত কোরাস থাকলেও একটি গান ছাড়া বাকি সব গানই বিপুলদার একক কণ্ঠে। প্রথমে আমি কিছুটা অবাক হয়েছিলাম। কারণ, শিল্পী হিসেবে আমি তখনো বিপুলদাকে চিনি না। মাহমুদুর রহমান বেণুকে চিনি আমার নিকটাত্মীয় হিসেবে।

শাহীন সামাদ তখন শাহীন মাহমুদ নামে পরিচিত, তাঁকে আমি চিনি। নায়লা খানকে তিনি, চিনি তারেক আলীকে, স্বপন চৌধুরীকেও চিনি শিল্পী হিসেবে। লুবনা মরিয়মকে একাধিক পরিচয়ে চিনি। কিন্তু আমি কখনো বিপুলদার গান শুনেছি এমনটা মনে পড়ে না। অথচ ওই ছবিতে তাঁর গাওয়া এতগুলো গান আমরা অবশেষে ব্যবহার করেছি। শুধু তা-ই নয়, তাঁর কণ্ঠের অসাধারণত্বে আমরা মুগ্ধ হই এবং প্রথমবারের মতো বুঝতে পারি, তাঁর এই গানগুলোই হবে মুক্তির গানের প্রাণ। এর সঙ্গে বলে রাখি যে গানগুলোর সব কথা আমাদের অনেকেরই মুখস্থ ছিল না। কিন্তু সৌভাগ্যক্রমে আমরা খোঁজ পাই মোশাদ আলীর, যিনি জনপ্রিয় লোকগানের সুরকে অনুসরণ করে কথা বদলে এই অসাধারণ সময়োপযোগী গানগুলো লিখেছিলেন। মোশাদ আলীর কথাকে ভিত্তি করে বিপুলদার একক কণ্ঠে আর কখনো কখনো তাঁর লিড ভোকালে আমরা গানগুলো রেকর্ড করি। তখন আরেকজন শিল্পীর সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ হয়, তাঁর নাম দুলালচন্দ্র শীল। ’৭১-এ বিপুলদাদের হয়ে গানের সঙ্গে দোতারা বাজিয়েছিলেন। সেই দুলালচন্দ্র শীলকে দিয়ে নতুন করে দোতারা বাজানোর সিদ্ধান্ত নিই।

দুঃখজনক হলো, সেই দুলালদা মুক্তির গান মুক্তি পাওয়ার কয়েক মাস আগে আমাদের ছেড়ে গেলে গেলেন এক দুরারোগ্য রোগে পড়ে এবং চিকিৎসার অভাবে। আরও দুর্ভাগ্যজনক যে মুক্তির গান মুক্তি পাওয়ার কয়েক বছরের মধ্যেই বিপুলদার কণ্ঠে গাওয়া ওই গানগুলোর কথার গীতিকার মোশাদ আলী দুরারোগ্য ক্যানসারে ভুগে অনেকটা যথাযথ চিকিৎসার অভাবেই এবং যথাসময়ে আর্থিক আয়োজনের অভাবেই আমাদের ছেড়ে গেলেন। মুক্তির গানের সতীর্থ শিল্পীরা তাঁর জন্য যথেষ্ট চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু তারপরও সেটা ছিল অপ্রতুল। মুক্তির গানের মুক্তির পর আমরা ভেবেছিলাম মোশাদ আলী হয়তো তাঁর যথেষ্ট স্বীকৃতি ও সম্মান পাবেন। তিনি পাননি।
মুক্তিযোদ্ধা শিল্পী বিপুল ভট্টাচার্য্য ছিলেন দলের অন্যতম কনিষ্ঠ সদস্য। দেবব্রত চৌধুরী, যিনি তবলা বাজিয়েছেন, ঢোল বাজিয়েছেন, খোল বাজিয়েছেন এ ছবিতে, তাঁরই সমবয়সী ছিলেন। সদস্যদের প্রায় সবাই ছিলেন টিনএজার। কিন্তু সবচেয়ে অল্পবয়সী দুজনের একজন ছিলেন বিপুলদা, তাঁর বয়ষ ছিল মাত্র ১৬। ’৭১ সালে আমার বয়সও এমনই ছিল, বলতে গেলে আমি মুক্তিযুদ্ধের একজন নির্বাক দর্শক ছিলাম কিন্তু কিশোরগঞ্জের এই কিশোরযুদ্ধে যোগ দিয়েছিলেন। মেশিনগানের বিরুদ্ধে তাঁর গান এবং গলা দিয়ে যুদ্ধ করেছেন। তিনি মুক্তিযুদ্ধের পর কোনো সম্মান বা স্বীকৃতি পাননি, আশাও করেননি। কিন্তু দুঃখজনক হলো, মুক্তির গান মুক্তি পাওয়ার পর আমাদের অনেকের অনেক কিছু হয়েছে, নির্মাতা হিসেবে আমরা অনেক বিখ্যাত হয়েছি কিন্তু বিপুলদার মতো অসাধারণ কণ্ঠের অধিকারী শিল্পীর যে প্রত্যাশিত মূল্যায়ন বা রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি হওয়ার কথা, তা হয়নি। তাঁকে গান শিখিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতে হয়েছে। একজন কণ্ঠশিল্পী হিসেবে তিনি টিকে থাকতে পারেননি, এমনকি মুক্তির গানের বিশাল সাফল্যের পরও। আজ দুলালচন্দ্র শীল, মোশাদ আলীর মতো বিপুল ভট্টাচার্য্য দুরারোগ্য রোগে শয্যাশায়ী। তাঁর সেই দরাজ কণ্ঠ প্রায় স্তব্ধ হওয়ার পথে। আজ আমরা হয়তো অন্য শিল্পীর জন্য তুলনামূলকভাবে দ্রুত পাশে দাঁড়াতে পারছি, কিন্তু বিপুলদার পাশে দাঁড়াতে আমরা বোধহয় বড্ড দেরি করে ফেলছি। এই দেরির জন্য শুধু আমরা নিজেরা নই, হয়তো পুরো জাতিই একদিন অনুশোনায় ভুগবে।

সেদিন বিপুলদার সম্মানে এবং চিকিৎসার্থে সব প্রজন্মের শিল্পীরা জাতীয় গণগ্রন্থাগারের মিলনায়তনে সমবেত হয়ে মুক্তির গান দেখলাম। আমরা সবাই আবার নতুন করে উপলব্ধি করলাম একজন বিপুল ভট্টাচার্য্য কীভাবে এই ছবির শুধু কণ্ঠ নয়, আত্মা হয়ে আমাদের কাছে ধরা দিলেন। আমরা আর কত দুলালচন্দ্র শীল বা মোশাদ আলীর মতো মুক্তিযোদ্ধাকে হারাব, সৃষ্টিশীল মানুষকে হারাব, আর কত দেরি করব আমরা তাঁদের পাশে দাঁড়াতে? আমরা কি কালক্ষেপণ করে বিপুলদাকেও হারাতে চাই? অবশ্যই না। তাঁর সতীর্থ শিল্পীদের সঙ্গে কণ্ঠ মিলিয়ে আমি বলতে চাই—বিপুলদা, আপনার পাশে আমরা সবাই আছি। আপনার সব সহযোদ্ধা আছেন।

A tribute to Bipul Bhattacharya | Dhaka Tribune

daily sun | Bipul Bhattacharya cremated

Bipul Bhattacharya dies at 58 – bdnews24.com


Singer Bipul Bhattacharya no more – The Daily Star

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s