Bangladesh: Where Puja and Eid meet

Bangladesh: Where Puja and Eid meet
by Tarek Chowdhury for AlalODulal.org
Combo

Chobi 1

ছবি ১:  ফেনী সদর থেকে সাত কিলোমিটার দূরত্বে জমজমাট বাজার কুঠিরহাট; আর সে বাজার থেকে আরো দু’ কিলোমিটার দূরত্বে রয়েছে বাদুরিয়া গ্রাম। বাদুরিয়ার বকুলতলার মোড়ে রয়েছে ‘মজুমদার বাড়ি”, যেখানে ১৯৭১ সাল পর্যন্ত চালু ছিল কয়েক পুরুষের দূর্গাপূজা। স্বাধীনতাযুদ্ধের সময় বাড়িটি পুড়িয়ে দেয়া এবং সাময়িক দখলের পর দূর্গাপূজা উদযাপন বন্ধ হয়ে গিয়েছিল পরিবারটির বিপর্যস্ততার কারণে। ১৯৮৬ সাল থেকে সেখানে আবার পূজা উদযাপন শুরু হয়েছে নিয়মিতভাবে। সেই পরিবারের বর্তমান সদস্যদের উদযোগেই মূলত এ পূজা উদযাপন নতুন করে চলছে আজ ২৭ বছর ধরে।

Image 1: Seven km away from Feni sadar is the lively marker of Kuthirhat. Two km from that market is Baduria village. At the bakultala corner of Baduria is “Majumdar House.” Where up to 1971 was celebrated several generations’ Durg Puja. During the war, the house was burnt down and taken over temporarily, and Dura Puja was stopped because of the family’s distress. In 1986 Puja was started again at that house. It is basically at that family’s effort that Puja has been celebrated there for last 27 years.

ছোট-ছোট কিছু তথ্য “মজুমদার বাড়ি”র দূর্গাপূজা এবং গ্রামটি সম্পর্কে ভাসাভাসা কৌতূহলোদ্দীপক ধারণা দেবে। ঐতিহাসিকভাবে বাড়িটির পাশেই রয়েছে শীল-মালি ও  ধোপা পরিবার; যারা আজও নিজ নিজ পেশায় নিয়োজিত। এক সময় এ গ্রামে এমনই নানা হিন্দু পেশাজীবী পরিবার বাস করত। পূজা মণ্ডপের গা-ঘেঁষে ধোপাবাড়িতে রোদে শুকাতে দেখেছি লম্বা লম্বা ধবধবে সাদা আলখাল্লা-পাঞ্জাবি আর গেঞ্জি। অষ্টমির দিন দেখেছি বাড়ির আঙিনায় নাপিতের চুল কাটা। দুঃখজনকভাবে কোনো মালিকন্যার কাছ থেকে মালা পাবার সৌভাগ্য হয়নি।

Some small pieces of data about “Majumdar House” Durgapuja and about this village will awaken curiosity. Historically, next to this house, was Shil-Mali and Dhopa family, who are still engaged in their own professions up to this date. At one time, many such Hindu working families lived here. Right adjacent to the Muja mandap, I have seen the Dhopa house drying white, sparking alkhalla-punjabi and genji in the sun. On Oshtomi day, I have seen barber cutting hair in their courtyard. Sadly, I never had the chance to receive flower garlands from a Malikanya.

এবারের পূজার ব্যয় এক লাখ টাকার কিছু উপরে। সিংহভাগ খরচ এসেছে মজুমদার বাড়ির (এখন এঁদের উপাধি “দত্ত-গুপ্ত”) সদস্যদের কাছ থেকে। স্থানীয় তরুণদের নিয়ে গঠিত পূজা কমিটি সরকারি প্রশাসন থেকে ১৩ হাজার টাকার সহায়তা পেয়েছে। গত বছর পেয়েছিল ২৮ হাজার টাকা। প্রশাসন থেকে এ সহায়তা দেয়া হয় চাল হিসেবে; যেটা তারা বিক্রি করে টাকায় রূপান্তরিত করে। পুরো পূজার সময় নিয়োজিত ছিল চারজন মহিলা ও কয়েকজন পুরুষ আনসার; সকলেই মুসলিম। প্রতি রাতে স্থানীয় পুলিশ টহল দিয়ে যেত নিয়মিতভাবে। কোনো শংকা-অশান্তি কখনো চোখে পড়েনি অষ্টমি থেকে বিজয়া পর্যন্ত।

This year, the Puja expenses were over 1 lakh Taka. majority of expense came from Majumdar house (their title is “Datta-Gupta”). Local youth formed a Puja Committee which received 13 thousand taka from local government administration. Last year they had received 28 thousand. This government help comes in the form of rice, which they sell to convert to cash. At the time of Puja, four women and a few male Ansars were appointed for security by government– all Muslim. Every night, local police also patrolled. I have never seen any fear-worry from Ashtami to Bijaya.

পূজোর পুরো সময়ে গ্রামের সকল হিন্দু সদস্যর তিনবেলার খাওয়াদাওয়ার ব্যবস্থা এ বাড়িতেই। বিরাট উঠোনে চট-সিমেন্টের বস্তায় সারিবেঁধে বসে প্রথমে পুরুষ ও পরে নারীদের খাওয়া। রান্না-পরিবেশন সবই স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে এবং পূজোর ব্যয়ের মধ্যে। সব মিলিয়ে প্রতিবেলায় প্রায় ৮০/৯০ জনের খাবার ব্যবস্থা থেকে গ্রামে হিন্দু জনসংখ্যা সম্পর্কে একটি ধারণা পাওয়া যায়। গ্রামের মানুষদের সাথে অবলীলায় এক সারিতে বসে পরিবারের ছোট-বড়, পুরুষ এবং নারী অনেকেই আহার গ্রহণ করছেন প্রতিবেলাতেই।

During Puja, all Hindu families of the village are fed at this house three times a day. The huge courtyard has lines of women sitting on jute-cement bags, waiting to eat. Food is served based on volunteer labor and from the Puja funds. Each meal, 80-90 people are fed, which gives an idea of the village’s Hindu population. The Majumdar family members of multiple generations sit with all the villagers and eat each meal.

Chobi 2

Chobi 3

ছবি ২ ও ৩ : অষ্টমির সন্ধ্যায় পূজামণ্ডপে নারী-কিশোরী দর্শনার্থী এবং দিদিমার সাথে বাচ্চারা উপভোগ করছে ঢাক-কাঁসরবাদন ও ধুনচি নাচ।

Image 2-3: On the evening of Ashtami, women and teenage visitors to the Puja Mandap are sitting with Didima and the children and enjoying Dhak-Kasharbadon and Dhunchi dance.

Chobi 4

Chobi 5

Chobi 6

ছবি ৪, ৫, ৬: বিজয়া দশমীর মধ্যাহ্নে পূজামণ্ডপ থেকে দেবী দূর্গাকে ভাসানের আগে নিয়ে আসা হয়েছে বকুলতলা মোড়ে, কমিউনিটি ক্লিনিকের সামনের ছোট চত্বরে। ভাসানের আগে চত্বরে চলছেভক্তকুলের আনন্দফূর্তি, নাচ, কাদাপানিরঙের খেলা! এরা সকলেই গ্রামের শ্রমজীবী পরিবারের নারী-পুরুষ।

Image 4-6: On afternoon of Bijaya, Devi Durga is being taken to Bakultala before being floated in water.  At the bakultala, worshippers dance, and play with colors. These are all the working labor families of the village.

Chobi 7

Chobi 8

ছবি ৭ ও ৮: বকুলতলা চত্বর যখন ভাসানের আগের হুল্লোর-উলুধ্বনিতে মাতোযারা, তখন তার কয়েক হাত দূরেই চলছে কোরবানী ঈদের প্রস্তুতি।  সাতচল্লিশ হাজার টাকায় কেনা গরুকে তৃপ্তি নিয়ে আদরযত্ন করছেন দুই মুসলিম প্রতিবেশি। দেখে মনে পড়ে গেল অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্তের অমোঘ পঙক্তিমালা :

Image 7-8: Just as the cheers and Ulu-dhoni of Bakulatala Durga floating procession ring out, just a few feet away are the preparations for Qurbani Eid. This cow was bought for 47 thousand Taka and is being taken care of by two Muslim neighbors.Seeing this moment,  I am reminded of Achintyakumar Sengupta’s immortal sonnets:

We are two flowers on the same stem, two crops on the same field

An unknown bird comes and goes in this cage of mine.
You tie a piece of string in the banyan-knot of my god’s holy temple
I light a lamp at the holy burial place of your pir
Your book of hymns calls you
My azaan seeks me out
We share same happiness, same set of tears, same thirst
Geographically and historically we are the same
One mind, one people, one land, one love
We are not alien to each other
We are neighbours and a neighbour is the face reflected in a mirror.

(Poem translated by Tibra Ali,)

আমরা এক বৃন্তে দুই ফুল, এক মাঠে দুই ফসল

আমাদের খাঁচার ভিতর একই অচিন পাখির আনাগোনা।
আমার দেবতার থানে তুমি বটের ঝুরিতে সুতো বাঁধো
আমি তোমার পীরের দরগায় চেরাগ জ্বালি।
আমার স্তোত্রপপাঠ তোমাকে ডাকে
তোমার আজান আমাকে খুঁজে বেড়ায়।
আমাদের এক সুখ, এক কান্না, এক পিপাসা
ভূগোলে-ইতিহাসে আমরা এক
এক মন এক মানুষ এক মাটি এক মমতা
পরস্পর আমরা পর নই
আমরা পড়শী–আর পড়শীই তো আরশির মুখ।
(পূব-পশ্চিম কবিতার অংশবিশেষ)

Text & Images by Tarek Chowdhury, translated by AlalODulal.org

One comment

  1. During Zakat collection, Hindus especially in rural areas are particularly targeted if they do not contribute (even though it is not an obligation under interpretation of law or code like “jizia”). Everybody knows this. Please write about this also.

    During recent hartal, many instances of Hindu businesses and residences only being attacked (e.g. http://www.thedailystar.net/beta2/news/hindus-attacked-in-pabna/). Please see DAILY STAR, PROTHOM ALO, even if only a fraction reported, it is there for everyone to see. Again, please write about this also.

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s