Beauty Parlour

  • Manosh Chowdhury

Beauty Parlours attract me. It is not because of the pretty ladies who stay inside these parlours. But one of the terms and conditions –  ` men are not allowed inside ` somehow amazes me. My wife is not a regular customer in a Beauty Parlour and if she ever went to one even I am sure she would never keep her husband waiting outside of the Parlour. I would not like to wait either. I am not that interested to get the services which are provided there. They mean anything to me. Besides, there are quite a few parlours in Dhaka city which are meant strictly for men. I never feel like going and getting services there. Just without any reason I am always curious about a Beauty Parlour.

One can find quite a few Beauty Parlours with a reasonably large signboard hanging outside, on an important or not so important road in Dhaka .The larger parlours are more respected and popular. The customers who visit them are also quite sophisticated. The parlour has a large space which means it offers more facilities. A big, expensive parlour provides a lounge outside the main salon where male companions can sit and wait for their partners with bored looks on their faces and fiddle with their fingers on a smart phone. Depending on the size of the space the parlour offers extra services like Hair-dressing, Pedicure, Manicure and so on. Higher the service charge is, the higher the number of the staff working there. I feel interested to know about those workers too.

A long time ago, when I landed in Dhaka for the first time straight from a small town, I was amazed by Mirpur Road. I had felt as if it was a mine full of a variety of surprises. In a location on that road, Neelkhet, one could find everything from small book shops to a Chicken–polao restaurants.  On the other side of the road a place called New Market, where one can get everything from hard-ware goods to mosquito net, costume jewellery and what not!  There, in the corner of Gauchhiya there are some shops where saris are for sale inside and which sold fried vegetable snacks on the entrance as well. On street diagonally opposite, one can find even a music shop – Gaaner Dali . On the whole this is a great street with a package of big excitement and mobility from morning to evening.

Once in a while, if  you stroll on the road, proceed further on the road leaving  Dhaka Collage on the right hand side of the road and  some shops of musical instruments next to it, you will find a beauty parlour on the left named “Hong Kong Beauty Parlour”. On some days you could notice few of the parlour`s female workers who were coming out of the parlour. As it is, the name of the parlour is Hong Kong and those ladies used to resemble either someone Chinese or Japanese to a stupid, uncultured Bengali boy like me. It took quite a long time for me to understand that these ladies are mainly from the caste Mandi (Garo). And it needed some research for me to find out why and how these girls become the first choice in this particular profession. But I won`t tell that story here.

When I used to go to my work place from Uttara everyday I had to take two roads, one is called Ashulia and the other Zirabo. Both the roads were notorious for their bad conditions. It was really amazing to have such rotten roads so near to the city of Dhaka. And that is also years after years. The transport arranged by the university used to ply via Ashulia normally. But sometimes I used to take a public bus which used to go through Zirabo. So both the roads were known to me. The locality of Ashulia and Zirabo were direct witnesses of protests, agitations, expanses and changes of the city of Dhaka itself in various ways like brick-furnesses to hundreds of garment factories, electricity generator factories to pharmaceutical companies or from Fantasy kingdom to evening joggers next to the large water-tanks filled with rain water. On the whole it is a massive settlement, and at the same time a horrible chaos. It’s busy but mismanaged. Among the gaps between those settlements there were numerous small rented houses shadowed away from the public eyes. The occupants, come from the villages or small towns and used to work as labourer in the various types of factories. But the workers who used to work mainly in the garment factories were referred in urban consciousness.

On the both side of the roads of Ashulia and Zirabo there were plenty of beauty parlours operated from those small shops situated in a short gap of space. Very simple and humble in appearance. The signboards were so small in size that one could easily miss it if one did not look for it attentively. There are so many and situated in such close proximity that they supersede in the numbers those in sophisticated part of the city. Surprisingly there was one photo-shop next to almost all of parlours which were also very small in size. When I used to pass those parlours on the way to the university by a public bus, sometimes, my curiosity used to grow so much so that I used to feel like getting down from the bus and visit one or two of those parlours. But somehow it never happened. I used to get a glimpse of the photos that hung on the wall of the studios. Photos of those who had once gone inside, got their face made up and then took a snap before leaving the parlour. I could see a glimpse of those remote faces from even the bus I rode on. And I would imagine the next possible incident supposed to take place.

My curiosity grew stronger when an incident took place in Rana Plaza one day. Some people were killed in a building collapse. Initially no one knew the number of the victims. Still today, nobody actually know how many were killed or injured. But there are always some sort of accounts of any incident. Right from the beginning the relatives of those unfortunate people who were buried under the rabbles started coming to the site everyday holding a photograph of the deceased in their hands. They used to keep standing and waiting.  Even then after one year some still would to come and wait. Wait just like that without any hope. Each one of them carried a photo of one face, made up in a tiny beauty parlour.

translated by Mrs Krishna DattaSeptember 2020

বিউটি পার্লার

বিউটি পার্লার আমাকে খুব টানে। শুধু এর ভিতরে বিউটিবতীরা থাকেন বলে না। বরং পুরুষদের সেখানে একদম ঢোকা মানা বলে কেমন যেন একটা আকর্ষণ কাজ করে। আমার বউ খুব একটা বিউটি পার্লারের বিশেষ ভোক্তা নন। কখনো হলেও বরকে বিশেষ বাইরে বসিয়ে রাখবেন বলেও মনে হয় না। বাইরে যে আমি বসে থাকতে চাই তাও নয়। আবার ভিতরে ঠিক যে যে পরিষেবা দেয়া হয় বলে শুনতে পাই সেগুলো পেতেও যে আমার অনেক ইচ্ছে করে তাও নয়। মানে কোনো কিছুই নয়। তাছাড়া ইদানীং রকমারি পুরুষের বিউটিমূলক পার্লার ঢাকায় হয়েছে। সেগুলোতেও সেবা নিতে যেতে ইচ্ছে হয়নি। নেহায়েৎ কোনো গুরুতর নিজের স্বার্থ ছাড়াই বিউটি পার্লার আমাকে টানে।

ঢাকার প্রায় যে কোনো মানানসই রাস্তাতেই একটা প্রমাণ সাইজের সাইনবোর্ডওয়ালা বিউটি পার্লার থাকে। পর্যাপ্ত জায়গা নিয়ে যেসব বিউটি পার্লার থাকে সেগুলোর মানমর্যাদা আর পসার দুই-ই বেশি। সেখানকার খরিদ্দাররাও সবচেয়ে বেশি অভিজাত। পর্যাপ্ত জায়গা আছে মানেই পরিষেবার ধরন-ধারণ বিচিত্র ও বহুবিধ। পর্যাপ্ত জায়াগার মানেও নানান রকম। অভিজাত, মানে দামি, পার্লারের বহির্বাটিতে বৈঠকখানা থাকবে, সেখানে সাধারণত বিউটিকামীদের সঙ্গে আগত পুরুষকুল ট্যাব কিংবা স্মার্টফোন খোঁচাখুঁচিরত বা উসখুস অবস্থায় বসে থাকবেন। এর পরে ধাপে ধাপে পরিষেবার ধরনের উপর নানাবিধ ঘর থাকবে। পদসেবার আলাদা ঘর, চুলবাঁধার আলাদা ঘর, ত্বকের যতেœর আলাদা ঘর এরকম আরকি।

যত দামী বিউটি পার্লার, তার তত বেশি সৌন্দর্যকর্মী বা কর্মচারি। এসব সৌন্দর্যকর্মীদের নিয়েও আমার আগ্রহ কম নয়। অনেক আগে, আমি মফস্বল থেকে কেবল ঢাকায় এসেছি আর মিরপুর সড়ককে আমার বিস্ময়ের এক খনি মনে হতো। নীলক্ষেতে বই থেকে শুরু করে মোরগ পোলাওয়ের খুপরি দোকান। ওদিকে নিউ মার্কেটের লাচ্ছি থেকে শুরু করে ফুটপাতের মশারি আর ব্রেইসলেটের দোকান। এদিকে গাউছিয়ার কোণায় পাকোড়ার দোকান, ভিতরে অজস্র শাড়ি। একটু কোণার দিকে ত্যারছা করে গানের ডালিÑসবমিলে একেবারে উত্তেজনায় ঠাসা এক মহাসড়ক। ঢাকা কলেজ, আর তারপর বাদ্যযন্ত্রের দোকানগুলোর সামনে খানিকক্ষণ অক্ষমের উত্তেজনাসমেত তাকিয়ে আরেকটু হাঁটলেই বাম হাতে ‘হংকং বিউটি পার্লার’। মিরপুর সড়কের বিস্ময় উপভোগ করতে করতে যেসব দিনে হাঁটতে থাকতাম, তার মধ্যে কোনো কোনো দিন হঠাৎ চোখে পড়ে যেত সৌন্দর্যকর্মী মানে বিউটি পার্লারের পরিষেবাদানকারী মেয়েদের কেউ কেউ বেরিয়ে আসছেন। একেই নাম ‘হংকং…’, তার মধ্যে বেরোতেন যাঁরা তাঁদেরকে দেখলে চীনা-জাপানি-কোরিয়ানই মনে হয় অদক্ষ গোঁয়ার বাঙালি চোখে। এটা জানতে আরো খানিকটা সময় লেগেছে যে ঢাকা শহরের বিউটি পার্লারগুলোর এই চীনা-জাপানি সদৃশ সৌন্দর্যকর্মীদের বড় অংশই মান্দি (গারো) জাতির নারীরা। কেন ও কীভাবে তাঁরা এই পেশায় পয়লা পছন্দের শ্রমিক হলেন সেটা নিয়েও ভাবতে হয়েছে বিস্তর। তবে সেই কাহিনী এখানে নয়।

উত্তরা থেকে আমার চাকরি ক্ষেত্রে আসার সময় আশুলিয়া আর জিরাব এই দুইটা রাস্তা ধরতে হয়। দুটো রাস্তাই নিজগুণে স্মরণযোগ্য। ঢাকার এত কাছে এরকম ঘিয়ে-ভাজা রাস্তা থাকাই বিস্ময়কর, তাও বছরের পর বছর। বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস সাধারণত আশুলিয়া সড়কটাই ধরে। আমি নিজে রাস্তার গাড়িতেও চড়ি। তাই দুই রাস্তাই আমার পরিচিত। আশুলিয়া-জিরাব এলাকাটা ঢাকা মহানগরের তোলপাড় বদল ও বিস্তারের দুর্দান্ত সাক্ষী। নানান ভাবে। ইঁটের ভাটা থেকে শুরু করে শয়ে শয়ে গার্মেন্টস; বিদ্যুৎ কারখানা থেকে শুরু করে ফার্মাসিউটিক্যাল কম্পানি; কিংবা ফ্যান্টাসি কিংডম থেকে শুরু করে হাওড়ের বর্ষাকালের পানিতে ভ্রমণপিপাসু নগরজীবীরা। সব মিলে বিপুল এক আয়োজন, আবার বিকট বিশৃঙ্খল। ব্যস্ত অথচ বেসামাল। আর এসবের ফাঁকে ফাঁকে প্রায় চোখের আড়ালে অসংখ্য ভাড়াটে। ছোট ছোট ঘরে তাঁরা থাকেন। বাংলাদেশের নানান গ্রাম আর শহর থেকে তাঁরা এসেছেন। এইসব কারখানার শ্রমিক হিসেবে তাঁরা কাজ করেন। নানান শ্রমিক। যদিও গার্মেন্টস শ্রমিকই কেবল নগর-চৈতন্যে উদ্ধৃত।

আশুলিয়া আর জিরাব’র রাস্তার দুই পাশে কিছুক্ষণ পর পরই ‘বিউটি পার্লার’। ছোট ছোট দোকান ঘরে বিউটি পার্লার। এত ছোট তার সাইনবোর্ড যে একদম খেয়ালই না করতে পারেন আপনি। এত ছোট সেসব দোকান যে বিউটি পার্লার বিষয়ক প্রচলিত ধ্যানধারণা দিয়ে কিছুতেই তাকে চেনা সম্ভব নয়। কিন্তু এত ঘন ঘন যে ঢাকার যে কোনো অভিজাত এলাকার তুলনায় বেশি। ছোট ছোট ¤্রয়িমান ন¤্র এই বিউটি পার্লারগুলোর, প্রায়ই, খুব গা-ঘেঁষে একটা ছবির দোকানও থাকে। ফোটো স্টুডিও। সেগুলোও ছোট ছোট। বাস-চলতি পথে দেখতে দেখতে বিউটি পার্লার বিষয়ক আমার আগ্রহ আরও দাঁনা বেঁধে ওঠে। মাঝে মাঝেই মনে হয়। নেমে আর দেখতে যাওয়া হয় না। আর ফোটো স্টুডিওগুলোর দেয়ালে ঝোলানো ফোটোগুলোতে সেইসব মুখ যেগুলো কিছুক্ষণ আগেই বিউটি পার্লার থেকে সাজগোজ করে এসেছে। এক ঝলক সেসব অস্পষ্ট মুখেদের বাসে বসেই দেখে নেয়া যায়। অথবা ঝলকানির মধ্যেই বাকি দৃশ্যগুলো ভেবে নেয়া যায়।

বিউটি পার্লার নিয়ে আগ্রহ আরেক দফা আমার বেড়ে গেল। যখন রানা প্লাজাতে মানুষ মারা গেল। কত মারা গেল তা কেউই প্রথমে জানে না। কত মারা গেল কেউই এখনো জানে না। তবে একটা হিসেব আছে। দুর্ঘটনার শুরুর দিন থেকে চাপা পড়া মানুষগুলোর আত্মীয়-স্বজন, মা-বাবা, বন্ধু-বান্ধব, ভাই-বোন একটা করে ফোটো হাতে দাঁড়িয়ে ছিলেন। দাঁড়িয়ে থাকতেন। এখনো মৃত্যুর এক বছর বাদে ওই জমিটার পাশে ফোটো-হাতে দাঁড়িয়ে থাকেন। খামকাই। ফোটোগুলোতে একজন করে মানুষের মুখ। কাছের কোনো ছোট বিউটি পার্লারে সাজানো একখানি মুখ।

২৬ মে ২০১৪

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in: Logo

You are commenting using your account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s