How do “traditions” get lost?

– Manosh Chowdhury

Today we will think about tradition, friends. When it comes to tradition, many of you are awakened to a teary-eyed nationalism, so please let it go for a while. Otherwise, you may mess up with the process of understanding. However, since we are talking about food, you may definitely feel greedy along with a sense of nationalism.

Let’s take Rumali bread, or Muskmelon pudding. Well, forget them, let’s take Bakharkhani; this is the final. Bakharkhani is a typically defined old-town ‘tradition’ in Dhaka. Of course, you have to hold it with a very soft delicate hand. You can say many things about the “tradition” of “Old Dhaka”. However, it is best not to discuss these while you are having a Bakharkhani. It is so very delicate thing that if you continue your conversation, the half-chewed buckwheat may become dusty and fall on the face of your loved ones or even boss.

So, it is not yet an “extinct” tradition. But, the possibility or fear is not remote. Layer after layer of this object has such care, you realize the dedication of its craftsmen. There was a master of craftsman, there was a master of him as well; again there was a master of him too. That means the sequences, which is very relevant in the case of tradition. You could predict that its flour needs to be processed in a special way too. And then its stove is not any simple two-burner that you generally use in your household.

Now think of the making process of this layered and cared object! Suppose 4 craftsmen can make 2000 bakharkhani in 24 hours in 2 ovens in one factory. It’s just a fictional number. Other times we can go and find out what happens actually.

We may now have to talk about the artisan’s salary and the owner’s income. If we assume that bakharkhani-maker gets paid less than a bank officer or a college lecturer or a TV presenter, we are spot on. But, if we assume that the bakharkhani-artisan gets paid more than security guard of an apartment, then we may be mistaken. Similarly, if we talk about the owners! Suppose we assume that the owner of a two-oven bakharkhani factory earns more than the owner of a three-wheeler rickshaw, then of course we can be exact. But assuming he earns more than the owner of a two-story garment factory, we are very likely to be wrong, no matter if he is categorized as an ‘industrialist’ or not.

In all, his 2,000 bakharkhanis, including the wasted ones, had to pay for four artisans, woods of two stoves, factory rent and daily supplies. And yes, he has to keep his family earning as well. Now, first of all, even if you are ready to buy a bakharkhani for 5 taka, he cannot redeem ten thousand taka a day. Second, even if he could, he would not be able to pay his employees (i.e., a respected craftsman of our “tradition”) the amount earned by a bank-cashier or a college librarian or even a human-hauler driver. So in this process, if the artisan takes a job of for saluting in front of someone’s house in 2024, a security-guard as you name them, then you can’t blame the owner of that house or the owner of this stove (the former bakharkhaniwala) for violating the tradition. The best you can do is to write a lament or an essay. Of course that would be about tradition.

Now when you will find this artisan, in the future, is preparing to salute with his uniform put on, or maybe ironing in a nearby laundry, you won’t want to learn making of bakharkhani from him, even if you are a core devotee of “tradition”.

Moreover, he himself too may not want to announce that knowledge any more. After a while he may forget himself. And you may not find a convincing reason to learn bakharkhani from someone now ironing.

This is how the “tradition” can be lost. By reading this far, if you are obsessed with the endangered “Bakharkhani Tradition”, you are entitled to shed some tears now. But again, don’t please do that with a bakharkhani in your mouth. That’s really a delicate food-product!

Dhaka. August 10, 2020

কীভাবে ‘ঐতিহ্য’রা হারিয়ে যায়? মায়াকান্না নয়, পলিটিক্যাল-ইকনমিকভাবে শিখুন

আজ আমরা ঐতিহ্য নিয়ে ভাবব, বন্ধুগণ। ঐতিহ্য প্রসঙ্গ এলেই আপনাদের অনেকের যেমন কান্নামাখা গলাভেজা জাতীয়তাবোধ জাগরুক হয়, সেটা মেহেরবানি করে খানিকক্ষণের জন্য অব্যাহতি দিন। নাহলে এই হারিয়ে যাওয়া বিষয়ক আজকের বোঝাবুঝিতে ভেজাল বাধবে। তবে আমাদের আলোচ্য বিষয় খাদ্যবস্তু বিধায় জাতীয়তাবোধের সঙ্গে আপনাদের লোভও জাগতে পারে।

ধরা যাক রুমালি রুটি, কিংবা বাঙ্গির হালুয়া। না ধরুন, বাখরখানি; এটাই ফাইনাল। বাখরখানি অবশ্য আপনার অত্যন্ত নরম ডেলিকেট হাতে ধরতে হবে। এটা ‘পুরান ঢাকা’র ‘ঐতিহ্য’ ইত্যাদি নিয়ে নানান কথা আপনি বলতেই পারেন। তবে সবচেয়ে ভাল হয় খাবার সময় এসব আলোচনা না-করা। এটা খুবই নাজুক ও ডেলিকেট বস্তু। আপনার আলাপের সময় আধচিবানো বাখরখানি ধুলিময় হয়ে আপনার প্রিয়তম, কিংবা বসের মুখে গিয়ে পড়তে পারে।

তো, এটা এখনো ‘বিলুপ্ত’ ঐতিহ্য নয়। তবে ধারণা বা আশঙ্কা করা যেতে পারে এর অবলোপের। এই বস্তুটার পরতে পরতে লেয়ারে লেয়ারে এমন কেয়ার থাকে, ধরলেই বুঝতে পারবেন যে এর কারিগরের নিষ্ঠার সঙ্গে তা শিখতে হয়। কারিগরের ওস্তাদ থাকেন, তাঁর ওস্তাদ থাকেন, তাঁরও ওস্তাদ থেকেছিলেন। পরম্পরা যাকে বলে, ঐতিহ্যের ক্ষেত্রে যা অতীব প্রাসঙ্গিক। এর আটা-ময়দাও, আন্দাজ করা যায় বিশেষ পদ্ধতিতে প্রক্রিয়াজাত করা লাগে। এর চুলাও যে কোনো চুলা নয় যে টু-বার্নার একটা জায়গামতো লাগিয়ে নিলেন।

তো এই লেয়ারসম্পন্ন কেয়ারজাত বস্তুটা তো বানাতে হবে! ধরা যাক একটি কারখানাতে ২টা চুলায় ৪ জন কারিগর ২৪ ঘণ্টায় ২০০০ বাখরখানি বানানো যায়। এটা কাল্পনিক সংখ্যা মাত্র। অন্য সময়ে আমরা গিয়ে জেনে আসতে পারব।

কারিগরের বেতন ও মালিকের আয় বিষয়ক একটা আলাপ আমাদের এখন করা লাগতে পারে। যদি আমরা ধরে নিই যে বাখরখানি-কারিগর ব্যাংকের সেকন্ড অফিসারের থেকে কিংবা কলেজের প্রভাষকের থেকে কিংবা টিভির উপস্থাপকের থেকে কম বেতন পান, তাহলে আমাদের সেই ধরে-নেয়া একদম ঠিক আছে। কিন্তু, যদি আমরা ধরে নিই, বাখরখানি-কারিগর বাড়ির সামনে সালামপ্রহরীর চাইতে বেশি বেতন পান, তাহলে আমাদের ঠিক হবার সম্ভাবনা বেশ কম থাকতে পারে।

একইভাবে, যদি মালিকদের আলাপও করি! ধরুন দুইচুলার বাখরখানির কারখানা মালিক তিনচাকার একটা রিকশার মালিকের তুলনায় বেশি আয় করেন ধরে নিলে অবশ্যই আমরা সঠিক হতেও পারি। কিন্তু তিনি দুই ভবন বিশিষ্ট গার্মেন্ট কারখানার মালিকের থেকেও বেশি আয় করেন ধরে নিলে আমাদের ভুল হবার সম্ভাবনাই বেশি, তা তিনি যতই না কেন (বাখরখানি) শিল্পপতি হয়ে থাকুন।

মোটের উপর, তার ওই ২০০০ বাখরখানি হলো গিয়ে, ভাঙাটাঙা সমেত, চারজন কারিগর, দুইটা চুলার কাঠ, কারখানার ভাড়া ও নিজের মালিকগিরি সামলানোর, দৈনিক রসদ। এখন প্রথমত, আপনি যতই ৫টাকায় একখানা বাখরখানি কিনতে ইচ্ছুক থাকুক না কেন, দিনে ২০০০ বাখরখানি তিনি কিছুতেই দশ হাজার টাকায় খালাস করতে পারেন না। দ্বিতীয়ত, তা তিনি পারলেও তাঁর কর্মচারিকে (তথা ঐতিহ্যের সম্মানিত কারিগরকে) ব্যাংকের ক্যাশিয়ার কিংবা কলেজের লাইব্রেরিয়ান কিংবা এমনকি লেগুনার ড্রাইভারের মতো সমান তালে বেতন দিতে পারবেন না।

তো এভাবে চলতে চলতে, কারিগর যদি ২০২৪ সালে কারোর বাড়ির সামনে গিয়ে সালাম দেবার চাকরিটা নিয়ে নেন, তখন ঐতিহ্য খোয়ানোর জন্য সেই বাড়ির মালিক বা এই চুলার মালিক কিংবা সালামওয়ালা সাবেক বাখরখানিওয়ালা কাউকেই আপনি দায়ী করতে পারবেন না। আপনি বড়জোর একটা মায়াকান্নামূলক বিলাপ বা রচনা লিখতে পারবেন। অবশ্যই ঐতিহ্য বিষয়ক।

তারপর বর্তমানের ওই কারিগর যখন ভবিষ্যতে উর্দি-পরে সালাম দেবার প্রস্তুতি নিচ্ছেন, বা ধরুন লন্ড্রির ইস্ত্রি চালাচ্ছেন, তখন তাঁর কাছে ‘ঐতিহ্যে’র লোভে কেউ বাখরখানি বানানো শিখতে যাবারও উপায় থাকে না।

তাছাড়া তিনি তখন ওই বিদ্যা আর নিজেও ঘোষণা দিতে না-চাইতে পারেন। তারও কিছুকাল পরে তিনি নিজেও ভুলে যেতে পারেন। আর বাখরখানিবিদ্যাধারীর ইস্তিরি চালানো দেখে আপনিও হয়তো আর বাখরখানি বানাতে শিখতে না চাইতে পারেন।

এভাবে ‘ঐতিহ্য’ হারিয়ে যেতে পারে। এই পর্যন্ত পাঠ করে যদি লুপ্তিসম্ভাবনাময় বাখরখানি ঐতিহ্যের জন্য আপনার মনভার হয়, এখন আপনি কাঁদতে পারেন অবশ্যই। তবে সত্যি সত্যিই বাখরখানি মুখে পুরে সেটা করবেন না। ওটা আসলেই খুব ডেলিকেট।

(আদাবর, ১০ আগস্ট ২০২০।। সাম্প্রতিক ব্লগে ১০.০৮.২০ প্রকাশিত।। সহজ সমাজপাঠ)

One thought on “How do “traditions” get lost?

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in: Logo

You are commenting using your account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s