Shameema Binte Rahman: An existentialist photograph and the reality of non-existence

An existentialist photograph and the reality of non-existence
by Shameema Binte Rahman, Translated from Bengali for by Tibra Ali

A photograph. The whole body is buried under debris. Only one part is sticking out: an ID card with its lace wrapped around the wrist and the fingers. The face shows that he couldn’t have been more than eighteen. Just a youth. He wrapped the ID card around his fingers in such a way that even if his body and facial features were obliterated his loved ones would be able to identify him.

Assuming that this boy was unaware of the theories of the existentialist philosopher Kierkegaard I shall say this – this is the natural instinct of a person about to be gobbled up by the overwhelming horror of becoming non-existent, in the socioeconomic context of post-second world war, neocapitalism and neoliberalism. But the number twists of the lace with which that youth of the photograph is clutching onto his identity card, isn’t that a reflection of his immediate reality? A portrait of the progressive process though which their existence was suddenly turned into non-existence.

This series of horrific events of mishaps from the garments sector is sending this coded message to the brain of each worker: “You may become an unclaimed dead body at any moment, a car from one of the charity organizations may swiftly take you to an unmarked grave. And your family and loved ones may have to spend the rest of their lives carrying the pain of waiting and wailing for you.”

How close to death was he or at what stage did his consciousness send him the message that he needed warp his identity card so tightly? In this city and country, it is very easy for living people, with permanent addresses and identities, to become unclaimed dead bodies through terrifying garment factory fires or thanks to the plain-clothes law and order militias. During the course of our days and nights, so many unidentified dead bodies are cropping up at the morgues and the rivers.

The media is reporting that in the list of the missing that the rescuers have put together, there are 659 names. Of the 306 that have been found dead so far, about fifty haven’t been identified. Where do they fit? Exactly five months ago, it was the 24th, the 24th of November, the authorities couldn’t identify 52 dead bodies found amongst the smoldering ruins of the burned down Tazreen Garments. This is the mental landscape of the terror of becoming unclaimed dead bodies.

It was during the military-backed caretaker government when this database of mass murder called the National ID Card and the Voter ID Card was first introduced with great fanfare; It was even supposed to be updated regularly. But has this system been used to identify any of the unidentified bodies or help locate any missing persons yet? Whereas, in Nepal and India this sort of databases are being used to locate the missing.

The owners’ organization BGMEA, do they have the list of all the workers’ names and contact details? They don’t, for sure. The organizations whose workers have died under the rubble, or are fighting for their lives, can’t the owners of those organization provide lists of workers? In this age of information there is information about everything around us. Yet, information regarding the workers and labourers of the highest foreign currency earning industry of the country is in shambles.

But why is it like this? Because they are poor. They are the subaltern. They don’t carry weapons. They don’t have the opportunity for committing corruption. They vote because they believe that it is their citizen’s duty. They believe in their politicians. However old they may be they are always our ‘junior’. And the owners have the capacity to force all of them – from the twenty-five year olds to the seven-five year olds – into death traps like Rana Plaza with the threat of beating-sticks.

How widespread corruption must be, from the centre to the extremities, for us to witness such brutality. The construction firm that was contacted, the suppliers of the bricks, rods, cement, sand, are all complicit. This is a joint “production”, a murderous accident-cum-narrative resulting from the corruption of every sector. Systematic and economic, both types of corruption have contributed here – via institutionalized and non-institutionalized channels.

We see through the visual presentations of the still photographs: a woman lying facedown on the sand and pulverized brick, whose arm has been run through by a metal rod; a foot, braceleted, sticking out from a body buried under the rubble; A man fallen onto a woman; Just a hand; A foot wearing a formal shoe sticking out of formal trousers; A lonely identity card hanging; That youth who, with his ID card wrapped around his fingers, announces even in death that “Won’t let you forget us”.

While I was seeing all this I was reminded of, “Have Anyone Seen a Death Like This”, or the short film “Chaka” about an unidentified dead body. But when the reality is so much more brutal, and the fight for survival so much more poignantly tragic, those become simply sophisticated presentations.

The number of people who died due to the lack of emergency equipments in the fire of the Tazreen Fashions, that body-numbing horror is surpassed in the disaster of Rana Plaza. This second reason for death is old by now – the lack of emergency equipments. It is likely that in the near future this lack will take even greater frightening proportions. Only the adjective “deadliest” will have to be added.

Even then the terror of becoming nameless-raceless will remain. Because through all this we have come to realize that we have no party. None of today’s political parties is our party, it is only theirs.


একটি অস্তিত্ববাদী ফটোগ্রাফ এবং অস্তিত্বহীনের বাস্তবতা

by শামীমা বিনতে রহমান

একটি ফটোগ্রাফ।পুরো শরীরই ডেবরিসের তলায়। তবে ডেবরিসের উপর দৃশ্যমান আছে শরীরের আরও একটু অংশ; একটা হাতের কবজি আর আঙুলে ফিতা দিয়ে পেঁচানো আইডি কার্ড।

মুখ দেখে বোঝা যায়, ছেলেটির বয়স কোনোক্রমেই আঠারোর বেশি নয়। নিতান্ত কিশোর। আঙুলে এমনভাবে প্যাঁচ দিয়ে সে তার আইডেন্টিটি কার্ড বেঁধে রেখেছিল যেন শরীর-মুখ ক্ষতবিক্ষত হয়ে গেলেও প্রিয়জন-পরিজন তাকে চিনে নিতে পারে।

অস্তিত্ববাদের দার্শনিক কিয়ের্কেগাদের তত্ত্ব তার জানা নেই সেটা ধরে নিয়ে বলব- অস্তিত্বহীন হয়ে পড়ার এ ব্যাপকতাগ্রাসী আতঙ্ক মানুষের সাধারণ ইন্সটিংক্ট, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধোত্তর নিও-ক্যাপিটালিজম, নিও-লিবারালাইজেশনের সমাজ-অর্থনৈতিকতার বাস্তবতায়। কিন্তু ওই ফটোগ্রাফের কিশোর আঙুলে যতগুলো প্যাঁচ দিয়ে পরিচয়পত্র আটকে রেখেছে, তা তার সাম্প্রতিক বাস্তবতার রিফ্লেকশন নয় কি? অস্তিত্বময় থেকে তাদের হঠাৎ অস্তিত্বহীন করে ফেলার ধারাবাহিক প্রক্রিয়ার একটি পোর্ট্রেইট।

গার্মেন্টসের ভয়াবহ সব সিরিয়াল দুর্ঘটনা শ্রমিকদের মগজে এ কোড পাঠিয়ে দিয়েছে যে, ‘‘তুমি হয়ে পড়তে পার বেওয়ারিশ, আঞ্জুমানে মফিদুলের গাড়ি এসে তোমাকে সাঁই সাঁই করে নিয়ে গিয়ে মাটিচাপা দিয়ে দিবে। আর তোমার পরিবার-পরিজন সারাজীবন অপেক্ষা ও হাহাকারের যন্ত্রণা বয়ে বেড়াবে!’’

মৃত্যুর কতটা কাছাকাছি গিয়ে বা কোন পর্যায়ে তার সচেতনতা তাকে একমাত্র এ বার্তাই দিয়েছিল যে, শক্ত করে বেঁধে রাখ তোমার পরিচয়পত্র; এ শহরে, এ দেশে খুব সহজেই, স্থায়ী নাম-পরিচয়-ঠিকানাওয়ালা জীবিত মানুষেরা গার্মেন্টেসে ভয়াবহ আগুন বা সাদা পোশাকধারী আইনশৃঙ্খলা বাহিনির হাতে মরে হয়ে যায় ‘বেওয়ারিশ’ লাশ। লাশকাটা ঘর থেকে শুরু করে নদীতে ভেসে ওঠা বেওয়ারিশ লাশ- কত কত ঘটে যাচ্ছে আমাদের যাপনে-উদযাপনে।

গণমাধ্যমগুলো জানাচ্ছে, উদ্ধারকর্মীরা নিখোঁজের যে তালিকা তৈরি করেছেন, তাতে উঠে এসেছে ৬৫৯ জনের নাম। যে ৩০৬ লাশ পাওয়া গেছে, তার মধ্যে অর্ধশতের নাম-পরিচয় পাওয়া যাচ্ছে না। এরা কোথায়? ঠিক ৫ মাস আগে, সেটাও ছিল ২৪ তারিখ, নভেম্বরের ২৪, সেদিন তাজরীন গার্মেন্টসের আগুনে পুড়ে ছাই-কয়লা হয়ে যাওয়া ৫২ লাশের পরিচয় নিশ্চিত করতে পারেননি সংশ্লিষ্ট দায়িত্ববানরা। এসবই তো ‘বেওয়ারিশ’ হয়ে পড়ার আতঙ্কের মনোভূমি।

ন্যাশনাল আইডি কার্ড এবং ভোটার আইডি কার্ড নামে একটা মহাযজ্ঞের ডাটাবেজ ব্যাপক ঘোষণা দিয়ে করা হয়েছিল সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়টায়; এবং তা নিয়মিত আপডেট করার কথাও বলা হয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো নাম-পরিচয়হীন লাশ অথবা নিখোঁজ ব্যক্তিকে শনাক্ত করার ক্ষেত্রে এটা কাজে দিয়েছে কি? অথচ ভারতে ও নেপালে এ ডাটাবেজ নিখোঁজদের খুঁজে বের করার কাজে ব্যবহৃত হয়।

মালিকদের যে সংগঠন বিজিএমইএ, সেখানে কি সব শ্রমিকের নাম-পরিচয়-ঠিকানা বা তালিকা আছে? নিশ্চিতভাবেই নেই। যেসব প্রতিষ্ঠানের শ্রমিক চাপা পড়ে মরে গেছেন, যাচ্ছেন অথবা মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন- ওইসব প্রতিষ্ঠানের মালিক কি শ্র্রমিকদের তথ্য সরবরাহ করতে পারে না? তথ্যপ্রযুক্তির এ যুগে কত তথ্যই তো কতদিকে পাওয়া যাচ্ছে। অথচ সর্বাধিক বিদেশি মুদ্রা অর্জনের কারিগর শ্র্রমিকদের তথ্য কোথাও ঠিকঠাক নেই!

কেন নেই? ওরা গরিব। সাবঅল্টার্ন। অস্ত্র ঠেকায় না। দুর্নীতি করতে পারে না। ভোট দেওয়াকে নাগরিক অধিকার মনে করে ভোটের বাক্সে একটা ব্যালট পেপার ঢুকিয়ে দিয়ে আসে। বিশ্বাস করে রাজনৈতিক নেতাদের। যত বয়স্কই হোক না কেন, তবু ওরা সবসময় ‘ছোট’। আর পঁচিশ থেকে পঁচাত্তর সব বয়সী শ্রমিককেই লাঠির ভয় দেখিয়ে রানা প্লাজার মতো মৃত্যুকূপে ঢুকিয়ে দিতে পারে মালিকরা।

কেন্দ্র থেকে মাঠ পর্যায়ে শেকড়-বাকড়, ডালপালা নিয়ে দুর্নীতি কতখানি ছড়িয়ে পড়লে এমন নৃশংসতার সাক্ষী হতে হয় আমাদের। যে কনস্ট্রাকশন ফার্ম কাজ করেছে, যে সাপ্লাইয়ার সরবরাহ করেছে ইট-বালি-রড-সিমেন্ট, কেউ এর বাইরে নয়। এটি একটি সমন্বিত ‘প্রযোজনা’, প্রতিটি সেক্টরের দুর্নীতির ফলে সংঘটিত নৃশংসতম দুর্ঘটনা-আখ্যান। সিস্টেমেটিক ও আর্থিক, দু’ধরনের দুর্নীতিই এখানে ঘটেছে- প্রাতিষ্ঠানিক ও অপ্রাতিষ্ঠানিক উপায়ে।

স্টিল ফটোগ্রাফগুলোর মাধ্যমে যে ভিজ্যুয়াল প্রেজেন্টেশন দেখি: ইট-বালি-সুড়কির স্তুপে উপুড় হয়ে পড়ে থাকা নারী, যার এক হাতের ভেতর দিয়ে একটি রড ঢুকে এফোঁড়-ওফোঁড় করে রেখেছে; নুপুর-পরা একটি পা, শরীরটা স্তুপের তলায় আটকাপড়া; মৃত এক নারীর উপর উপুড় হয়ে পড়ে থাকা এক পুরুষ; শুধু একটি হাত; ফর্মাল প্যান্টের সঙ্গে ফর্মাল সু-পরা একটি পা; একলা ঝুলে থাকা একটি আইডি কার্ড; সে কিশোর, যে হাতের আঙুলে আইডি কার্ড পেঁচিয়ে মরে গিয়েও ঘোষণা দেয়, ‘তবু আমারে দেব না ভুলিতে’।

এসব দেখতে দেখতেই মনে পড়ছে, ‘কেউ কি দেখেছ মৃত্যু এমন’, বেওয়ারিশ লাশ নিয়ে ছোট দৈর্ঘ্যের চলচ্চিত্র ‘চাকা’। যখন বাস্তবতা আরও নৃশংস, মৃত্যু ও বেঁচে থাকার লড়াই আরও অভূতপূর্ব মর্মান্তিকতা নিয়ে হাজির হয়, তখন এসব আসলে সফিস্টিকেটেড প্রেজেন্টেশন।

তাজরীন ফ্যাশনসে আগুন লাগার পর উদ্ধারের যন্ত্রপাতির অভাবে যত মানুষ পুড়ে ছাই হল, সেই গা-ভারি হয়ে যাওয়া ভয়াবহতা ছাড়িয়ে গেল রানা প্লাজার ভবনধস। এত মৃত্যুর দ্বিতীয় কারণটাও পুরনো- উদ্ধারের যন্ত্রপাতির অভাব্। নিকট ভবিষ্যতে এ অভাব হয়তো আরও ভয়ঙ্করতা নিয়ে হাজির হতে পারে। শুধু বিশেষণ যোগ হবে ‘ভয়াবহতম’ দুর্ঘটনা।

আর তখনও নাম-পরিচয়-গোত্রহীন হয়ে পড়ার শূন্যতার আতঙ্ক থেকে যাবে। আমরা তো এর মধ্যেই বুঝে গিয়েছি, আমাদের কোনো পার্টি নেই। এখনকার কোনো পার্টিই আমাদের নয়, তাহারা শুধু তাহাদেরই।

2 thoughts on “Shameema Binte Rahman: An existentialist photograph and the reality of non-existence

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in: Logo

You are commenting using your account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s