Anu Muhammad: What India wants in Bangladesh

Anu Muhammad. © Shahidul Alam.
Anu Muhammad. © Shahidul Alam.

ভারত বাংলাদেশে কী চায়?
আনু মুহাম্মদ 

এরকম ধারণা সমাজে এখন বেশ জোরদার যে, ভারত বাংলাদেশের বর্তমান সরকারকে ক্ষমতায় টিকিয়ে রাখতে সকল সমর্থন প্রদান করেছে, তারা তাদের গোয়েন্দা সংস্থাসহ সবধরনের প্রতিষ্ঠানকে এই কাজে আগের চাইতে অনেক বিস্তৃতভাবে নিয়োজিত করেছে। সেকারণে দেশ ও বিদেশের সকল মত অগ্রাহ্য করে সরকার একতরফা নির্বাচন করতে সক্ষম হয়েছে। এতো বাধাবিপত্তির মধ্যে এরকম নির্বাচন সম্পন্ন করার জন্য যে মনোবল দরকার ছিলো তার অন্যতম যোগানদার ভারত। ভারতের সাহসেই এটা সম্ভব হয়েছে। সফলভাবে সরকারও গঠিত হয়েছে। ভারত শুধু যে সমর্থন দিয়েছে তাই নয়, অন্যদের সমর্থন আদায়ে প্রভাবও খাটিয়েছে।

আওয়ামী লীগ ভারতপন্থী আর বিএনপি ভারতবিরোধী এরকম সরল সিদ্ধান্ত সমাজে বেশ শক্তভাবে বিরাজ করলেও বিষয়টি এতো সরল নয়। ভিন্ন অনেক বিষয়ও আছে। কারণ বাংলাদেশে ভারতের বাণিজ্যিক স্বার্থ রক্ষার্থে প্রয়োজনীয় নীতি ও দুর্নীতির পথ গ্রহণে বিএনপি-জামাত কখনোই কার্পণ্য করেনি। যেকারণে বিএনপির শাসনামলে ভারতের বিনিয়োগ ও বাজার বৃদ্ধির রেকর্ড আওয়ামী আমলের চাইতে কম নয়। মার্কিন কোম্পানির কর্তৃত্বে ভারতে বাংলাদেশের গ্যাস রফতানি, বিপজ্জনক টাটা প্রকল্প এসবগুলোতেই চারদলীয় জোট সরকারের প্রবল আগ্রহ আমরা দেখেছি। জাতীয় কমিটির নেতৃত্বে জনপ্রতিরোধের কারণেই বাংলাদেশ তখন বড় বিপদ থেকে রক্ষা পেয়েছে।

তাছাড়া এটা মনে রাখতে হবে যে, বিশ্বব্যাংক আইএমএফ এডিবি যে নীতি সংস্কার এদেশে পরিচালনা করে তার প্রত্যক্ষ সুফলভোগী ভারতের বৃহত্‍ পুঁজি। পশ্চিমা বহুজাতিক পুঁজির সাথে এই পুঁজি এখন জৈবিকভাবে যুক্ত। সুতরাং যারা বিএনপি জামায়াতের মতো পশ্চিমা সাম্রাজ্যবাদ অনুসারী, তাদের মুখে রাজনৈতিক প্রয়োজনে ভারতের বিরোধিতার বাগাড়ম্বর শোনা যেতে পারে, কিন্তু তাদের নীতি ও পদক্ষেপ আখেরে ভারতের বৃহত্‍ পুঁজির স্বার্থই রক্ষা করে। এর থেকে ভিন্ন কোন ভূমিকা গ্রহণ বাংলাদেশের লুটেরা শাসক শ্রেণীর কোন দলের পক্ষেই সম্ভব নয়। তাহলে আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় রাখতে ভারত মরিয়া এই ধারণা সমাজে তৈরি হচ্ছে কেনো? তৈরি হয়েছে আরও অনেক কারণের সাথে ভারত সরকারের কতিপয় মন্ত্রী, মিডিয়া এবং বাংলাদেশের সরকারের বিভিন্নজনের বক্তব্য ও ভূমিকা থেকে। একটি সাম্প্রতিক দৃষ্টান্ত: হিন্দু পত্রিকার সঙ্গে আলোচনায় ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সালমান খুরশিদ (৩০ ডিসেম্বর ২০১৩)। তাঁর কথার সুর এরকম যে, বাংলাদেশ নিয়ে যথাযথ ভূমিকা নির্ধারণের এখতিয়ার ভারতেরই আছে। ভারতের অবস্থান অনুযায়ীই অন্যদের ভূমিকা গ্রহণ করা উচিত!

সেজন্য প্রশ্ন হলো, বাংলাদেশ কি এখন যুক্তরাষ্ট্র, ভারত, চীনসহ নানা বৃহত্‍ শক্তির ভাগবাঁটোয়ারার ক্ষেত্র? ভারত কি বাংলাদেশকে পুরোপুরি তার নিয়ন্ত্রণে রাখতে চায়? বাংলাদেশকে কি ভারত তার উপগ্রহ বানাতে চায়? বাংলাদেশ কি ভারত হয়ে বিশ্বের সাথে যোগাযোগ রাখবে? অন্যান্য দেশকে কি ভারতের মাধ্যমে বাংলাদেশের সাথে যোগাযোগ করতে হবে? শেখ হাসিনা সরকারের সাথে ভারতের সমঝোতা কি এরকম যে, ভারত যে কোন মূল্যে আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় রাখবে আর তার বিনিময়ে ভারতের চাহিদা পূরণে যা যা দরকার তা বিনা প্রশ্নে বাস্তবায়ন করবে এই সরকার? গত কয়েকবছরে সরকারের ভূমিকা এসব প্রশ্নের জবাবে হ্যাঁ যুক্তিকে সমর্থন করে। সীমান্ত হত্যা, কাঁটাতারের বেড়া, ছিটমহল, টিপাইমুখ, ট্রানজিট, নদীর পানিবন্টন চুক্তি ইত্যাদি নিযে সরকারের ভূমিকা এমনকি কতিপয় মন্ত্রীদের বক্তব্য থেকে সবসময়ই মনে হয়েছে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থের চাইতে ভারতের শাসকদের স্বার্থ দেখার দায়িত্বই যেনো তাদের বেশি। মনে হয়েছে ভারত কখন বিরক্ত হয় সেটা নিয়েই তাদের উদ্বেগ।

অনেকের মুখে শুনি, ভারতের সাথে বাংলাদেশের বন্ধুত্ব এদেশের ‘মৌলবাদী জঙ্গী’ দমনের জন্য খুবই দরকার। যুক্তরাষ্ট্রের আনুগত্য তৈরির পেছনেও একই যুক্তির কথা শোনা যায়। এই যুক্তি কিংবা অজুহাতে ভারত ছাড়াও যুক্তরাষ্ট্রের সাথে বিভিন্ন সরকারের আমলে নানারকম চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে, মহড়া ও আয়োজন আছে। প্রকৃতপক্ষে আমরা যুক্তরাষ্ট্র নির্মিত ‘সন্ত্রাস বিরোধী যুদ্ধের’ ফ্যাসিবাদী যুগে বাস করছি। এই মডেল পুরো বিশ্বকেই এখন আতংকিত ও সন্ত্রস্ত করে রেখেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের বিশাল জনগণও নানাভাবে এর শিকার। পাকিস্তানের পরিস্থিতি এই মডেলের পরিণতি দেখাচ্ছে। এই মডেলে ঢুকিয়ে বাংলাদেশকে নিয়ে নানা খেলা চলছে প্রায় একদশক ধরেই। এখন তা আরও জোরদার হয়েছে। দখল ও স্বৈরশাসনকে যৌক্তিকতা দেবার জন্য প্রয়োজনে ‘মৌলবাদী জঙ্গী’ তৈরি করার ঘটনাও এখন প্রমাণিত। ইরাক, লিবিয়া ও সিরিয়ার সাম্প্রতিক ঘটনাবলীও দেখায় যে, প্রয়োজনে যুক্তরাষ্ট্রই এসব ‘মৌলবাদী জঙ্গী’ লালন পালন করে, তার পৃষ্ঠপোষকতা করে। এই মডেল প্রয়োগ করে, নিজ দেশের জনগণকে শৃঙ্খলিত রাখা দমনপীড়ন করা এবং বাংলাদেশকে নিয়ন্ত্রণ করায় ভারতের কৌশল যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগী।

বলা হয়, ভারত বাংলাদেশের গণতন্ত্র রক্ষা ও এইদেশের অসাম্প্রদায়িক চরিত্র বজায় রাখতে সহযোগিতা করবে। কিন্তু ভারত বলতে তো সমরূপ কোন দেশ বোঝায় না। সেখানেও শ্রেণী, জাতি, বর্ণ ও লিঙ্গীয় বৈষম্য ও নিপীড়ন আছে প্রবলভাবে। তা বাংলাদেশ থেকে কোন অংশে কম নয়, বরং কোন কোন ক্ষেত্রে বেশি। তাহলে যেদেশে সরকার সেইদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ নাগরিককে নিপীড়ন ও বৈষম্যের মধ্যে রাখে তারা আরেক দেশে শান্তি, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় কী সহযোগিতা করতে পারে? তাছাড়া সাংবিধানিকভাবে ভারত ধর্মনিরপেক্ষ হলেও এই রাষ্ট্রকে কোনভাবেই অসাম্প্রদায়িক বলা যায় না। সমাজের মধ্যে সাম্প্রদায়িকতা ও ধর্মীয় ফ্যাসিবাদী ভাবধারার ওপর ভর করেই সেখানে বিকশিত হয়েছে বিজেপি ও উগ্র ধর্মান্ধ হিংস্র বর্ণবাদী গোষ্ঠী। ভারতের সেই হিন্দুত্ববাদী জঙ্গী ‘মৌলবাদী’ বা ধর্মীয় ফ্যাসিবাদীদের দমন করবে কে? বাংলাদেশ ও ভারতে, দুই ধর্মের আবরণে হলেও, একটি আরেকটির অনিবার্য মিত্র কিংবা পুষ্টিদাতা। ভারতের নৃশংস সাম্প্রদায়িক সহিংসতার সমার্থক নাম − নরেন্দ্র মোদী। গুজরাট দাঙ্গার সাথে তার সংশ্লিষ্টতা বহুভাবে প্রমাণিত হলেও আইনের রায়ে এখন তিনি নির্দোষ। এই রায়ের ফলে ‘দায়মুক্ত’ মোদীর এখন ভারতের প্রধানমন্ত্রী হতে আর কোন বাধা নেই।

ভারতের রাজনীতি অঙ্গনের সব লক্ষ্ণই বলছে মোদীর বিজেপি বিজয়ের পথে এগিয়ে যাচ্ছে। মোদীর প্রবল সমর্থক ভারতের বৃহত্‍ ব্যবসায়ী গোষ্ঠী; ভিসা নিয়ে নাটক হলেও মার্কিন ইউরোপীয় বহুজাতিক কোম্পানিগুলো মোদীর পক্ষেই সরব। কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন সরকারের ব্যর্থতা, দুর্নীতি ও কুশাসন বিজেপি আর মোদীর জন্য পথ খুলে দিয়েছে। প্রয়োজনে কংগ্রেসও ধর্মকে ব্যবহার করতে পিছপা হয় না। একজনের ওপর অতীষ্ঠ হয়ে জনগণ আরেকজনের হাতের মুঠোয় যাচ্ছে। আর ভারতের এই পরিস্থিতি বাংলাদেশেও ধর্মীয় ফ্যাসিবাদের জন্য উর্বর ক্ষেত্র তৈরি করছে। গত একবছরে বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িক সহিংসতার ঘটনাবলী বিজেপি-কে অনেক রাজনৈতিক সুবিধা দিয়েছে। শোষণ বৈষম্য ও নিপীড়ন ভরা এই ভারতের একচেটিয়া নিযন্ত্রণ তাহলে কোন বাংলাদেশ তৈরি করবে?

ভারত বাংলাদেশকে সিকিম বানাবে এরকম আশংকাও সমাজে আছে। এরকম কোন সম্ভাবনা নেই। কেননা, এর চাইতে বাংলাদেশকে অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করা অনেক কাজের। দায় নেই, সুবিধা বহুবিধ। সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে বাংলাদেশকে ঘেরাও করে ভারতের শাসকেরা পুরো দেশের একমাথা থেকে অন্যমাথা নিয়ন্ত্রণে নিতে চায় ট্রানজিট ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে। বাংলাদেশে গার্মেন্টস এখন ভারতের প্রভাব বাড়ছে, চার শতাধিক বায়িং হাউজ ভারতেরই। শিক্ষা, চিকিত্‍সা, মিডিয়া, বিনোদন জগতেও তাদের প্রভাব অনেক, তথ্যপ্রযুক্তি খাতে তাদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার নানা আয়োজন চলছে। ভূমি ও বসতি বাণিজ্যেও অনেক প্রস্তাব আছে। বিদু্যত্‍ খাতে নিয়ন্ত্রণ আনার নানা প্রকল্প কাজ করছে। নদী বিনাশী আরও তত্‍পরতা আমরা দেখবো সামনে। বাণিজ্য অসমতা দূর করবার উদ্যোগ জোর পাবে না, বাংলাদেশের উদ্যোক্তা ব্যবসায়ীরা জুনিয়র পার্টনার হয়েই খুশি থাকবেন হয়তো।

ভারতের বৃহত্‍ পুঁজির জন্য উপনিবেশ দরকার। তবে এইকালে এককভাবে উপনিবেশ রক্ষা ভারতের জন্য সম্ভব নয়। তার দরকার যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও চীনের সমর্থন। ভাগবাঁটোয়ারায় খুশি হলে এই দেশগুলো ভারতের কর্তৃত্ব মেনে নিতে অসম্মত হবে না। জনগণের বিরুদ্ধে তাদের ঐক্যই বরং দেখবো আমর।৷ তখন বাংলাদেশের জনগণকেই ঐসব দেশের জনগণের সাথে সংহতি প্রতিষ্ঠা করে মোকাবিলা করতে হবে এই বাস্তবতাকে। বলাই বাহুল্য, লুটেরা শক্তির এই দল ঐদল সম্পর্কে মোহমুক্তি ছাড়া দাসত্বের নতুন পুরনো শৃঙ্খল থেকে আমাদের মুক্তি সম্ভব হবে না।

4 comments

  1. I have started writing a new column — fortnightly — every alternate Saturday in the Daily Star. I share the first one for you all.
    Taj Hashmi

    STRANGER THAN FICTION

    The “Ershad Syndrome” and Problems of Governance and Democracy in Bangladesh

    Taj Hashmi*

    As analysts and experts are unanimous in imputing the prevalent chaos, corruption and anarchic violence in Libya, Egypt and Iraq to their former (corrupt) dictators – Qaddafi, Mubarak and Saddam Hussein – one wonders as to why Ershad should remain unscathed and untouched for committing similar crime to Bangladesh. He not only retarded the growth of democracy and civil society in Bangladesh, but he also singlehandedly destroyed the social fabric, respect for law and order, and whatever was left of ethical values and piety among the average people in less than nine years of autocracy. We may call Ershad’s legacy of crime, corruption, hypocrisy and mendacity as the “Ershad Syndrome”.

    Ershad’s Machiavellian modus operandi is at the roots of most evils afflicting the country for the last three decades. In 1988, the late Quamrul Hassan in the last sketch of his life, titled Desh Aaj Vishwa Behayar Khoppore (our land is now in the hands of the champion of shamelessness), aptly portrayed him what he was at that time. Although Ershad was not the first or only autocratic, corrupt ruler, he was the one to institutionalize corruption, deception, debauchery and hypocrisy. His contributions to the degeneration process outweigh those of all the previous and succeeding regimes in the country. He is as deceptive as Bhutto, as dishonest as Marcos, as cruel as Suharto and as hypocritical and “Islam loving” as Ziaul Haq. Although he served only six years for misappropriation of public funds, renowned jurist Dr. Kamal Husain observed soon after his overthrow in 1990, that the dictator deserved at least 500 years for the various crimes he had committed against the people of Bangladesh.

    His military takeover in1982 came as a bolt from the blue. It was least expected and totally unnecessary. The country was just recovering from the trauma of the bloody Liberation War and the post-Liberation disasters – socio-political and economic mismanagement, famine, political assassinations and military rule following the killing of Sheikh Mujibur Rahman in 1975. While the country was entering the threshold of democracy, Ershad’s military intervention – with blessings from a neighbouring country and support from the Awami League – was instrumental in turning the country into one of the most corrupt, and what experts believe, into a “failing state”.

    Unfortunately, Awami League’s top leaders welcomed the military takeover by Ershad in 1982, and later legitimized his autocracy by participating in the so-called parliamentary elections in 1986, along with the Islamo-fascist Jamaat-e-Islami. Preferring Ershad’s Jatiya Party to Khaleda Zia’s Bangladesh Nationalist Party (BNP), the Awami League joined hands with the former dictator during the second tenure of the BNP-led coalition government in 2001-2006.

    Then again, it is unfair to single out Awami League as the only party to have courted Ershad. BNP and Khaleda Zia also wanted him to join the BNP-led Alliance against Awami League’s 14-Party-Alliance in 2006. Ershad’s refusal led to his two years “conviction” for misappropriation of public funds by a compliant judge in 2006. BNP also tried to win over the former dictator’s estranged wife Roushan Ershad to forge an electoral alliance against Awami League. Interestingly, many “leftist” leaders and advocates of freedom and democracy, including Moudud Ahmed and Kazi Zafar, were members of the Ershad Government in the 1980s.

    Ershad was instrumental in de-secularizing secular Bangladesh by introducing Islam as the “state religion”, which has marginalized all non-Muslim citizens of the country. This act has also legitimized political Islam for an indefinite period. No government since the overthrow of this dictator in 1990 has succeeded yet in scrapping this clause from the Constitution, which is simply unconstitutional and in violation of the spirit of the Liberation War.

    Unfortunately, the “Ershad Syndrome” is full of life and thriving at every level of Bangladesh society – from the parliament to the mosque, and from the market place to the bedroom. What was once a taboo became an acceptable behaviour. Politicians, renowned intellectuals, well-to-do professionals, “leftist” student leaders, and even “nice and decent”, married and unmarried women – housewives, singers, newsreaders – legitimized his dictatorial rule, corruption, profligacy, and shamelessly licentious behaviour. Neither the General has changed after all these years, nor have his avid followers and comrades-in-arm. One may cite Ershad’s and the Awami League Government’s latest somersaults – before and after the farcical Parliamentary Elections of 5th January – in this regard. What may surprise any political scientist that, Ershad and his party men are simultaneously parts of the Government and also of the Opposition.

    In sum, while the “Ershad Syndrome” is thriving in Bangladesh, Ershad is still the role model of corrupt politicians, traders, professionals and government employees. Thus there is no room for complacency because of economic growth and rise in the Human Development Index (HDI) in Bangladesh since the 1990s. They are mainly attributable to the private sector and hardworking, poorly paid Bengali workers.

    Sustained growth and development are subject to the rule of law and very low incidence of corruption. As Bangladesh has witnessed lower growth (which is likely to go down further) during the violent civil-unrest in the last few months, one may guess what can happen to this bubble economy if there is a big disruption in foreign remittance and garment factories, which anarchic rioters love to burn down, as witnessed in the recent past. According to the Foreign Policy magazine, Bangladesh is now potentially one of the ten most volatile countries in the world. Can freedom and democracy loving people and leaders of Bangladesh reverse the process by abandoning the “Ershad Syndrome” forever? It is the most pertinent question today.

    * The author teaches security studies at the Austin Peay State University at Clarksville, Tennessee. Prior to that he was a Professor at the Asia-Pacific Center for Security Studies in Honolulu, Hawaii; and also taught at universities in Bangladesh, Australia, Singapore and Canada. He has authored four books. His next book, Global Jihad and America: The Hundred-Year-War Beyond Iraq and Afghanistan (Sage, 2014) is forthcoming.

    Date: Fri, 17 Jan 2014 19:44:19 +0000
    To: taj_hashmi@hotmail.com

  2. What is grotesquely shameful is the claim that “we have democracy” in our governance, clearly Bangladesh is NOT a democracy. After “alliance” with Ershad’s JP for 5 years, and after keeping him in CMH arrest just before “Election”, it is absolutely ludicrous that AL can even think of making Ershad or JP the “Opposition Party”.

    Not only is it obvious to any sane Bangladeshi (and the outside world) that Ershad has been retained not as a “Special Envoy” but more as a “Special Consultant for Corruption”, but retaining him or his Jatiyo Party into ANY govt position is like hiring Saddam or Gaddafi as a Special Envoy. Afterall, they all have the same credentials of dictatorship, and anti-thesis to democracy. Thus, to assign them the democratic position of “Opposition Party” is like the ultimate oxymoron, like hiring Saddam as democratic consultant. It is the penultimate farce.

    Bangladesh urgently needs a severe OVERHAUL of the electoral system – and I recommend a serious overhaul of the past “election” too – because no country in the world has an electoral system that is run by its own PM !! The elections must be designed, regulated, controlled, and operated by a set of laws so that the process is neutral, transparent and credible. Otherwise – why not simply claim that the govt is a dictatorship – and we will only allow our own friends and family to RULE the people and their money like any 12th Century Nawab of Jaipur !!

    Elections must NOT be run by a “mafia government” who makes their own electoral rules, whichever favors their own interest, and then runs away with corruption, collusion, controversy and conflict. When that happens the nation immediately becomes another Libya, Iraq – and not to forget Pakistan.

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s